শনাক্তের ৩ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে শেরপুরের মহাশ্মশানে সৎকার

159

জাহিদুল খান সৌরভ : শনাক্তের ৩ দিন পর শান্ত চক্রবর্তী (৪৫) নামে এক হিন্দু ব্যক্তির লাশ কবর থেকে উত্তোলন করার পর শেরপুর পৌরসভার শেরী মহাশ্মশানে সৎকার করা হয়েছে। শান্ত চক্রবর্তী শেরপুর পৌরসভার গৃর্দ্দানারায়ণপুর মহল্লার স্বর্গীয় সমর চক্রবর্তীর ছেলে।

জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরপুর পৌর শহরের বাসিন্দা শান্ত চক্রবর্তী বাসা থেকে বের হলেও রাতে আর বাসায় ফেরেননি। রাত গভীর হলে শান্তর স্ত্রী রূপা চক্রবর্তী সহ তার আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করে। অবশেষে শান্তর কোন সন্ধান না পেলে ৭ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করে তার পরিবার। এরপর ওইদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেম (ফেইসবুকে) জামালপুর রেললাইনের পার্শ্বে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের খবর পায় শান্তর পরিবার। সাথে সাথে তারা রেলওয়ে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে লাশের ছবি দেখে শনাক্ত করে তিনিই শান্ত চক্রবর্তী। কিন্তু ততক্ষণে লাশটির ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসেবে আঞ্জুমান মফিদুলের মাধ্যমে স্থানীয় পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল।

এরপর শান্ত চক্রবর্তীর ছেলে স্বরূপ চক্রবর্তীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে ১১ সেপ্টেম্বর শনিবার জামালপুরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের উপস্থিতিতে শান্ত চক্রবর্তীর লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে ওইদিন দুপুরে লাশ শেরপুর পৌরসভার শেরী মহাশ্মশানে সৎকার করা হয়।

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু জানান, আইনী প্রক্রিয়া শেষে ৩ দিন পর হিন্দু ব্যক্তির লাশ কবর থেকে উঠানো হলো এবং একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এব্যাপারে জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি জানান, নিহত শান্ত চক্রবর্তী একজন ব্রাহ্মণ ছিলেন। তার গলায় একটি পৈতা ছিল। এছাড়া হিন্দু পুরুষদের তো মুসলিমদের মতো খত্না করানো হয় না। তাহলে সুরতহাল তৈরী ও ময়নাতদন্ত কি এসব বিষয় আসেনি। কেন জামালপুরের রেলওয়ে পুলিশ তাড়াহুড়ো করে দাফনের ব্যবস্থা করলো। এবিষয় খতিয়ে দেখা দরকার বলে নেতৃবৃন্দরা জানান।

Advertisement
Print Friendly, PDF & Email
sadi