শান্তি প্রতিষ্ঠায় সাড়া দিতে প্রস্তুত আরসা

32

সরকার কোনো শান্তির প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলে তাতে সাড়া দিতে রাজি রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা। ওদিকে তারা যে এক মাসের অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল তা শেষ হয়ে আসছে। সোমবার মধ্যরাতে শেষ হবে এক মাসের অস্ত্রবিরতি। এরপর রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা কি করবে সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ধারণা দেয়া হয় নি। তবে তারা বলেছে, শান্ত প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তুত তারা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, শনিবার এই ঘোষণা দিয়েছে আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা)। তারা বলেছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে নিষ্পেষণ তা বন্ধে তারা বদ্ধ পরিকর। এক বিবৃতিতে আরসা বলেছে, এই অবস্থায় মিয়ানমার সরকার যদি শান্তি প্রতিষ্ঠার কোনো উদ্যোগ নেয় তাহলে তাকে স্বাগত জানাবে আরসা। তবে এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের তরফ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায় নি। এর আগে আরসা এক মাসের অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করে ১০ই সেপ্টেম্বর। তখন সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছিলেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সমঝোতা করার কোনো নীতি নেই আমাদের। উল্লেখ্য, গত ২৫ শে আগস্ট ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে সমন্বিতভাবে হামলা চালায় আরসা। এতে কমপক্ষে ১২ জন নিরাপত্তা রক্ষী নিহত হন। এর জবাবে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে তা বিশ্বমিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার পেয়েছে। সেনাবাহিনীর ওই নিষ্পেষণের কারণে ৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এ ঘটনাকে জাতি নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। তারা বলছে, লড়াইয়ে কমপক্ষে ৫০০ মানুষ মারা গেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই সন্ত্রাসী। এসব সন্ত্রাসীই বেসামরিক লোকজনের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। গত অক্টোবরে আত্মপ্রকাশ করে আরসা। তারা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সামর্থ রাখে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে এটা এরই মধ্যে পরিষ্কার বোঝা গেছে সেনাবাহিনী আগস্ট থেকে যে অভিযান শুরু করেছে তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সক্ষমতা তাদের নেই। তা ছাড়া যে এলাকা থেকে বেসামরিক লোকজনকে তাড়িয়ে দিয়েছে সেখানে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কিভাবে তারা বিদ্রোহ আন্দোলন করবে তা নিয়েও রয়েছে সংশয়। কারণ, তারা এ কারণে নতুন সদস্য সংগ্রহ করতে পারবে না। খাদ্য , অর্থ সহায়তা ও অন্যান্য কাজ চালাতে পারবে না। অন্যদিকে তারা সরকারের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ আনছে। ওদিকে তারা বিদেশী ইসলামপন্থি গ্রুপগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছে। গত মার্চে আরসা নেতা আতাউল্লাহর একটি সাক্ষাতকার নেয় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তখন তিনি এই গ্রুপ সৃষ্টির উদ্দেশ্য হিসেবে বলেন, বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে ২০১২ সালে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সৃষ্টি হয় তার জন্যই তারা এ গ্রুপ তৈরি করেছেন। তারা বলছেন, তাদের লড়াই হলো রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা, যাদেরকে কখনোই মিয়ানমারের আদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিসেবে দেখা হয় নি। নাগরিকত্ব দেয়া হয় নি। আরসা আবারো রোহিঙ্গাদেরকে স্বদেশীয় আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার দাবি তুলেছে। আরো বলেছে, রোহিঙ্গাদেরকে নিরাপদে, আত্মমর্যাদার সঙ্গে তাদের দেশে ফিরতে দিতে হবে। তাদের রাজনৈতিক মর্যাদা থাকবে। তাদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মর্যাদা থাকবে।

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা