শাহজালালে আগুন, আতঙ্ক আড়াই ঘণ্টা অচল বিমানবন্দর, যাত্রী দুর্ভোগ

43

হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি বিদেশি কাস্টমার সার্ভিস সেন্টারে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কমপক্ষে আড়াই ঘণ্টা বিমানবন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বন্ধ ছিল ফ্লাইট উঠানামাও। আগুনে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বহির্গমন বিভাগের ভেতরে থাকা সকল যাত্রীদের বের করে আনেন। এসির বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লেগেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি
গঠন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে কয়টি ফ্লাইটের সিডিউল বিপর্যয় হয়েছে তা দ্রুত পূরণ করা হবে।
জানা গেছে, গতকাল দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বিমানবন্দরের মূল ভবনের ৩ তলার বহির্গমন বিভাগের ‘এয়ার ইন্ডিয়া’ নামে একটি অফিসের মধ্যে ধোঁয়া বের হতে দেখেন নিরাপত্তারক্ষীরা। এর আশ পাশের স্থানটি ধোঁয়ায় আছন্ন হয়ে যায়। এ সময় সেখানে থাকা যাত্রীরা চিৎকার চেচামেচি করতে থাকেন। চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত সেখান থেকে সকল যাত্রী বের করে আনেন। তারা মাইকে সকল যাত্রীদের নিরাপদস্থানে চলে যেতে বলেন।
পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তারক্ষীরা অফিসের মধ্যে থাকা পুড়ে যাওয়া সকল বস্তু তারা সেখানে থেকে বের করে আনেন। পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বিমানবন্দরের যাত্রী ছাড়া সাধারণ দর্শনার্থীদের ঢোকা বন্ধ করে দেয়া হয়। ১টা ৩০ মিনিটে আগুন লাগার পর ৪টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে কোনো ফ্লাইট গন্তব্যস্থলে ছেড়ে যায়নি। ৪টা ১ মিনিটে মালেশেয়াগামী একটি ফ্লাইট ঢাকা থেকে ছেড়ে যায়। এরপর বিমানবন্দর থেকে অন্য ফ্লাইটগুলো ছেড়ে যাওয়া শুরু করে। বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে আসে। প্রত্যক্ষদর্শী সৌদি যাত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা হুমায়ন কবীর জানান, দুপুর দেড়টার দিকে মূল ভবনের তিন তলায় বহির্গমন বিভাগের ডানপাশে যাত্রীদের জন্য রাখা চেয়ারে বসা ছিলাম। আমার আড়াইটার বিমানে সৌদি যাওয়ার কথা ছিল।
তিনি বলেন, বিমাবন্দরের নিরাপত্তাপক্ষীরা মাইকে সব যাত্রীদের শান্তভাবে বের হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কাউকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বলেন। আমার ফ্লাইট সিডিউল সন্ধ্যার সময় দেয়া হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
বিমানবন্দরের সিভিল এভিয়েশন বিভাগের তথ্য কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আগুন লাগার পর সকল ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ৪টা ১ মিনিটে শুধু মালেশিয়া থেকে একটি ফ্লাইট ঢাকা ছেড়ে গেছে। এরপর থেকে বিমানবন্দেরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।
আগুনে পুড়ে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়া অফিসের কাস্টমার সার্ভিসের কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আমাদের অফিসে সকল নথিপত্র পুড়ে গেছে। ঘটনার সময় সেটি তালা মারা ছিল। সেখানে কেউ ছিল না। আগুনে আমাদের অফিসের পাশে কাতার এয়ারের একটি অফিস রয়েছে। ওই অগ্নিকাণ্ডে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ডিউটি অফিসার ইন্সপেক্টর আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসকে দ্রুত ফোন দেয়া হয়। তাড়া ঘটনাস্থলে দ্রুত আসার কারণে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, কিভাবে আগুন লেগেছে তা জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য ফায়ার সার্ভিসের উপ পরিচালক (ঢাকা) দেবাশীষ বর্ধনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবার করীম সাংবাদিকদের জানান, আগুনে বড় বিপর্যয় হয়নি। তবে এয়ার ইন্ডিয়ার অফিসের থাকা জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তা রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।