শিক্ষকের পকেটে ইয়াবা রাখার চেষ্টা: এসআই ক্লোজড

67

যশোরে এবার এক কলেজ শিক্ষককে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এসএম শামীম আকতারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে যশোর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয় বলে থানার ওসি একেএম আজমল হুদা নিশ্চত করেছেন। এই নিয়ে গত পাঁচদিনে অনিয়মের দুই অফিসারকে প্রত্যাহার করা হলো।
অভিযোগে জানা গেছে, গত ১৩ জুন সন্ধ্যার দিকে যশোর সদর উপজেলার কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লবের পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে আটকের চেষ্টা করেন এসআই শামীম আক্তারের এক সোর্স। কলেজ শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব ওই সময় কর্মস্থল থেকে নিজ বাড়ি হৈবতপুর ইউনিয়নের মুরাদগড়ে ফিরছিলেন। পথে যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের কাজী শাহেদ সেন্টারের সামনে পৌঁছালে পুলিশ তার গতিরোধ করে। এ সময় এক পুলিশ সোর্স তার পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এএসআই মনির হোসেনও তার সঙ্গে ছিলেন। এ সময় এসআই এসএম শামীম আক্তার ওই শিক্ষককে আটকের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে সেখানে লোকজন জড়ো হয়ে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানায় এবং ওই পুলিশ সোর্সসহ সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে এসআই এসএম শামীম আক্তার কলেজ শিক্ষককে ছেড়ে দেন।
এই খবর হৈবতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা জানতে পারেন। পরে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে এই ঘটনা। ওই ঘটনা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গোচরে আসার পর বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে এসআই এসএম শামীম আক্তারকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শহীদ মো. আবু সরোয়ার জানান, ঘটনার তাৎক্ষনিকতায় এসআই এসএম শামীম আক্তারকে ক্লোজড করে যশোর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
কোতয়ালী থানার ওসি একেএম আজমল হুদা জানিয়েছেন, কলেজ শিক্ষককে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে এসআই শামীম আক্তারকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার রাত ১০টার দিকে শহরের রেল রোডে সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট অফিসের সামনে এক যুবকের পকেটে গাঁজা ঢুকিয়ে তাকে আটকের চেষ্টাকালে জনতার হাতে গণধোলাইয়ের শিকার কোতয়ালী থানার এসআই মাহবুবকে তখনই সাসপেন্ড করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেন এসপি।