শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে অপহরণের দায়ে দুই যুবকের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

41

জিএইচ হান্নান : শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী (১৭) কে অপহরণের দায়ে দুই যুবককে ১৪ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ঝিনাইগাতীর কুচনিপাড়া গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে লোকমান হোসেন (২৬) ও ফরহাদ আলীর ছেলে বিকম মিয়া (২২)।

২১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আদালতে বিচারক (অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দিন এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন। একইসঙ্গে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় লোকমানের বাবা কামাল উদ্দিনসহ মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁদের শেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৩ মার্চ সকাল ১০টার দিকে ছাত্রীটি তাঁর কুচনিপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি লোকমান হোসেন ও বিকম মিয়াসহ আরো ৩-৪ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক বিয়ে করার উদ্দেশ্যে তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে যান। এ ঘটনায় ছাত্রীটির মা বাদী হয়ে লোকমান ও বিকম মিয়াসহ ছয়জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন।

ঝিনাইগাতী থানা পুলিশ ২০১৬ সালের ৫ মে ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে। ওইদিনই ছাত্রীটি ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় তৎকালিন বিচারিক হাকিম জিনিয়া জাহানের আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন এবং জেলা সদর হাসপাতালে তাঁর (ছাত্রী) ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। মামলার তদন্তশেষে ঝিনাইগাতী থানার তৎকালিন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল করিম আসামি লোকমান ও বিকম মিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণশেষে আদালত বৃহস্পতিবার উপরোক্ত দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. গোলাম কিবরিয়া রাষ্ট্রপক্ষে এবং মো. সিরাজুল ইসলাম আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন। পিপি গোলাম কিবরিয়া দণ্ড প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।