শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু, স্বজনদের দাবী গুলি, বিএসএফ বলছে অসুস্থতা

45

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নওকুচি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ’র হাতে আটক এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। নিহত যুবকের নাম আশরাফ আলী (২৫)। সে উপজেলার কোনাগাঁও চৌরাস্তা এলাকার জনৈক চানমিয়ার ছেলে। নিহত আশরাফ আলী মানসিক ভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিল। বৃহস্পতিবার বিকালে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের পর শুক্রবার সকালে আশরাফ আলীর লাশ হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে বিএসএফ।
নিহত আশরাফের আত্মীয়স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ অন্যান্যরা বিএসএফ’র গুলিতেই আশরাফের মৃত্যু হয়েছে এমনটা বললেও বিষয়টি সরাসরি স্বীকার করেননি স্থানীয় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড বিজিবি’র ক্যাম্প কমান্ডার।
আশরাফ আলী গতকাল বুধবার ঝিনাইগাতীর ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম নওকুচিতে তার বোনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। বিকালে গজনী সীমান্ত দিয়ে বেড়াতে যাবার পর থেকেই আশরাফের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
আশরাফ আলীর ছোট বোনজামাই আলাল জানান, ‘আজ বৃহস্পতিবার সকালে আমরা জানতে পারি বিএসএফ’র লোকজন আশরাফ আলীকে নিয়ে গেছে। গতকাল বিকালে সে নওকুচি সীমান্তের কাঁটাতারের কাছাকাছি এলাকায় যায়। এ সময় বিএসএফ তাকে ধরে নিয়ে যায়।’
আলাল জানান, ‘ঘটনাটি বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড, বিজিবিকে জানানোর পর আজ বিকালে ফ্ল্যাগ মিটিং করে তারা। পরে জানতে পারি আশরাফ আলী মারা গেছে এবং তার লাশ হয়তো কাল দিতে পারে বিএসএফ।’
এছাড়াও আলাল জানান, ‘আমরা পরস্পর শুনেছি বিএসএফ’র গুলিতে মারা গেছেন আশরাফ আলী। তবে এ ব্যাপারে আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি।’
এদিকে নকশী বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার নায়েক সুবেদার নুরুল ইসলাম জানান, ‘কাল আমরা নিখোঁজ আশরাফের আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে জানতে পারি আশরাফের নিখোঁজের কথা। আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষে অনুমতি সাপেক্ষে বিএসএসফ’র সাথে যোগাযোগ করি এবং তারা জানায় আশরাফ অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। পরে বিকালে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের পর শুক্রবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে লাশ দেয়ার কথা জানায় তারা।’
এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা জানান, ‘আমি শুনেছি বিএসএফ’র গুলিতে আশরাফের মৃত্যু হয়েছে। সে মানসিক ভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিল। আমি বিজিবি ক্যাম্পে গিয়েছিলাম ওখানেও লোকজন বলাবলি করছিল গুলিতেই আশরাফের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিজিবি মূলত কী কারণে মারা গেছে এ বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।’