শেরপুরের নকলার চন্দ্রকোণায় উদ্ধার হওয়া রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে জঙ্গী সংগঠনের বোমা হামলার পরিকল্পনা ছিল

42

স্টাফ রিপোর্ট : শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার চন্দ্রকোণা বাজারের কলাহাটী সড়কের তানিয়া গামেন্টস এন্ড সুজ নামের তালা বদ্ধ দোকান ঘর থেকে গত ৫ অক্টোবর রাতে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার করা বিভিন্ন ধরনের এসিড ও রাসায়নিক তরল ৫৯৫ লিটার পদার্থ দিয়ে শক্তিশালী বোমা তৈরি করে জঙ্গী সংগঠনের বোমা হামলা নাশকতা ও ধ্বংসযঞ্জ’র পরিকল্পনা ছিল বলে ৬ অক্টোবর শুক্রবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান।

পুলিশ সূত্র জানায়, নকলা উপজেলার চন্দ্রকোণার মৃত ছাইদুল ইসলামের স্ত্রী মিনারা বেগমের কাছ থেকে প্রথমে একই ইউনিয়নের চর মধুয়া গ্রামের ফয়েজ মিয়া প্রতিমাসে ৬শ টাকায় দোকানঘর ভাড়া নেয়। পরে তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে পরবর্তীতে হুজুরীকান্দা গ্রামের আবুল কাশেম নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী ওই দোকান ভাড়া নেন, ঔষধের গোদাম ঘর হিসেবে। এছাড়াও মানুষ মনে করতো হয়তো বা ওই দোকান ঘরে ঔষধ মজুদ থাকায় সব সময় তালাবদ্ব থাকে এমনটাই ধারণা ছিল এলাকাবাসীর। এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের ধারনা এবং তথ্যের বিষয়ছিল জঙ্গী সংগঠন চন্দ্রকোণা এলাকা তাদের নিরাপদস্থল মনে করেই ওই তানিয়া গামের্ন্ট এন্ড সুজ নামে দোকানের অন্তরালে বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির বিপুর পরিমান পদার্থ মজুদ গড়ে তোলে। উদ্ধারকৃত তরল পদার্থ ৬ অক্টোবর শুক্রবার ঢাকা থেকে আসা ক্রাইমসিন বিভাগের ফরেনসিক ডি.এনএ ল্যাবরেটরী সিআইডির ৭ সদস্যের দল দিনভর ওই সব তরল পদার্থ ও রাসায়নিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পান ৫৯৫ লিটার পদার্থর মধ্যে রয়েছে নাইট্রিক এসিড ২শ লিটার, সালফিউরিক এসিড ৩৫ লিটার, ক্লোরফ্রম ড্রাইহলোরম ১০০ লিটার, ক্লোরফ্রম ৩৫ লিটার, সালফিউরিক ট্রেট্রাহাইড্রোফোরান ৬৫ লিটার, হাইড্রোজেন প্রোক্সাইড ১৬০ লিটার সহ মোট ৫৯৫ লিটার পদার্থ সনাক্ত করে এবং তারা বলেন এসব তরল পদার্থ দিয়ে বিপুল পরিমান শক্তিশালী বোমা তৈরি করে কয়েক জেলায় বড় বড় স্থাপনা ধ্বংসযঞ্জ করা সম্ভব ছিল। অপরদিকে ৩১ জুলাই ঢাকার পুলিশ হেড কোয়াটারের গোয়েন্দাদের নির্ভরযোগ্য তথ্য ছিল সম্প্রতি দূর্গাপূজা উপলক্ষে শেরপুর শহরের গোপালবাড়ী মন্দির, এগ্রিকালচার অর্নপূর্ণা মন্দির, নয়আনী বাজার মা ভব তাঁরা মন্দির ও শেরী শ্বশান কালি মন্দিরে বোমা হামলা ও নাশকতা পরিকল্পনা ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার রফিকুল হাসান গণি পূর্ব থেকেই জেলার দূর্গোৎসব উপলক্ষে মন্ডপে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করেন।

পুলিশ ও বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতায় হয়তোবা শেরপুরে জঙ্গী সংগঠনের বোমা হামলা ও নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে যায় এমনটাই ধারনা পুলিশ প্রশাসনের। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের আরো জানান, শক্তিশালী বোমা তৈরি তরল পদার্থ ও রাসায়নিক এমন বিপুল পরিমান মজুদ ইতোপূর্বে উদ্ধার হয়নি শেরপুর জেলায়। এঘটনায় পুলিশ আটক মিনারা বেগমকে জিজ্ঞাসা বাদ করছে। এব্যাপারে নকলা থানায় বিষ্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী নিশ্চিত করেছেন।