শেরপুরের নকলায় এসিটিদের চার মাস ধরে বেতন বন্ধ! চাকরি করেও যেন তারা বেকার

195

মোঃ মোশারফ হোসেন, নকলা (শেরপুর) : শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় সেকায়েপ কর্তৃক নিয়োগকৃত মাধ্যমিক শাখার স্কুল-মাদরাসায় কর্মরত অতিরিক্ত শ্রেণি শিক্ষক (এসিটি)দের বেতন চার মাস যাবৎ বন্ধ রয়েছে। বেতন না পেয়ে তারা যেন চাকরি করেও বেকারত্ব জীবন যাপন করছেন। এতে করে শতাধিক ওই শিক্ষকরা বেতন না পেয়ে অগ্নি মূল্যের বাজারে পরিবার পরিজন নিয়ে হিমসীম খেতে হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের জানুয়ারী হতে শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে শেরপুর জেলার শুধুমাত্র নকলা উপজেলাকে সেকায়েপের আওতায় এনে ৫০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কমপক্ষে ৩১টি প্রতিষ্ঠানে গণিত, ইংরেজী ও বিজ্ঞান বিষয়ের প্রায় একশ’এসিটি নিয়োগ দেওয়া হয়। এদের যারা প্রথম শ্রেণী প্রাপ্ত অনার্স বা মাস্টার্স ডিগ্রীধারী তারা ২৫হাজার টাকা এবং অন্যান্যরা ২২ হাজার টাকা সাকুল্যে পারিতোষিক পেয়ে আসছিলেন; কিন্তু গত জুলাই মাসের অর্ধেক বেতনসহ চলতি মাস পর্যন্ত তাদের বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে তারা চার মাসধরে চাকরি করেও যেন বেকারদের মতো জীবন যাপন করছেন।

এবিষয়ে বানেশ্বরদী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার বিজ্ঞান বিষয়ের এসিটি ফররুখ আহম্মেদ স¤্রাট, গণিত বিষয়ের আবুল হাসানাত, ইংরেজী বিষয়ের শাহনেওয়াজ; মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যা নিকেতনের বিজ্ঞান বিষয়ের এসিটি রেজাউল করিম হীরা, নকলা শাহরিয়া ফাজিল মাদরাসার বিজ্ঞান বিষয়ের এসিটি লিজা, ইসলামনগর সাইলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের এসিটি আতিকুর রহমানসহ অনেকেই জানান, দীর্ঘ্য দিন ধরে বেতন না পাওয়ায় হতাশা নিয়ে অনেকটা বেকারদের মতো জীবন যাপন করছেন তারা। নকলা উপজেলা শাখার এসিটি সমিতির সভাপতি ইসরাত মেহনাজ লিজা বলেন, আমরা চাকরি করেছি, সরকার যে কোন দিন বেতন দিবে। তাই বেতন বিষয়ে কোন চিন্তা করছিনা। চিন্তার বিষয় হলো আমাদের মধ্যে অনেকের সরকারী চাকরির বয়স শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু শুনাযাচ্ছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরে এসিটি প্রোগ্রাম বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাতে উচ্চ শিক্ষিত এবং দুই বছরের শিক্ষকদের বেকারের দলে অবস্থান করতে হবে। বর্তমান সরকারের কাছে এটা কারো কাম্য নয়। তাই আমরা সংঘবদ্ধ হতে দাবী আদায়ের লক্ষ্যে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয়ভাবে এসিটি কমিটি করছি। আমরা সবাই মিলে শিক্ষা বান্ধব সরকারের কাছে আমাদের স্থায়ী করনের দাবী নিয়ে আবেদন করব। আমাদের বিশ্বাস বঙ্গবন্ধু কন্যা শিক্ষা বান্ধব সরকারের প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের যুক্তিক দাবী মেনে নিবেন এবং আমাদের দ্রুত এমপিও ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করবেন। আবুল হাসানাত বলেন, আমাদেরর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সুষ্পষ্ট উল্লেখ ছিলো যে, নিয়োগকৃত এসিটিদের এমপিও করা হতে পারে। আর তাইতো আমি আর কোন পেশা খোঁজিনি। এখন আমার সরকারী চাকরির বয়স শেষ হয়েগেছে। তাদের ভবিষ্যৎ বিষয়ে সরকারের ভাবা উচিত বলে তিনি মনে করেন।

এবিষয়ে বানেশ্বরদী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার শহিদুল ইসলাম ও মমিনা কান্দা আল-আমিন দাখিল মাদরাসার সুপার হযরত আলী; নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উমর ফারুক, গনপদ্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নাজমুল আলমসহ অনেক শিক্ষক বলেন, চার মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকায় এসিটিদের কাজের গতি অনেক কমেগেছে। মাস শেষে বেতন হাতে পেলে যে কারো মনে আনন্দ থাকে, বেতন বন্ধ থাকায় এসিটিদের আনন্দ হ্রাস পেয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

এসিটিদের সম্মানী কম নয়; তাই তারা অন্যকোন চাকরি না খোঁজে বরং নিয়োগকৃত স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ঠ ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে সমন্বয় সাধন করে শিক্ষার মানোন্নয়নে মনোনিবেশ করেন। আর তাদের কষ্টের ফলেই হয়তো স্বল্প সময়ের মধ্যে এদেশ শিক্ষাক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ভাবে খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য, এই ফাঁকে অনেক এসিটি বিয়ে করে হয়েছেন সন্তানের বাবা। অন্যদিকে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এমন সংবাদে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এলাকাবাসী ও শিক্ষানুরাগীদের মধ্যে হতাশ বিরাজ করছে। শিক্ষানুরাগীদের দাবী এসিটিগন উচ্চ শিক্ষিত এবং প্রশিক্ষিত; তাদের পাঠদান অধিক কার্যকরী হওয়ায় দিন দিন ফলাফল ভালো হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী জড়ে পড়ার হারও কমেছে আশানুরুপ। এসব বিবেচনায় এসিটিদের চাকরি স্থায়ী করণে এমপিও ভুক্ত করা জরুরী বলে মনে করছেন শিক্ষানুরাগী মহল।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ জানান, এই সমস্যাটা সারা দেশ ব্যাপী। চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে, তাই হয়ত আয় ব্যয়ের হিসাব চলছে। বেতন বন্ধ থাকলেও শিক্ষকদের বকেয়াসহ সব পাওনা দিয়ে দেওয়া হবে। যেহেতু প্রকল্পটি বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে চলে আসছে, তাদের কোন সমস্যা আছে কি-না সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই।