শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত

38

গত দু’দিনের টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয়ের গারোপাহাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই ও চেল্লাখালি নদী সংলগ্ন নালিতাবাড়ী পৌর এলাকার কিছু অংশসহ ৬টি ইউনিয়নের বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
আজ শনিবার ভোররাতে আকস্মিক ভাবে পাহাড়ি ঢলে চেল্লাখালি ও ভোগাই নদীর পূর্ব থেকেই ক্ষত্রিগ্রস্ত বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে এসব এলাকা প্লাবিত হয়।
উপজেলার হাতিপাগাড়, নয়াবিল, শিমূলতলা, খালভাংগা, নিজপাড়া এবং গোল্লাপাড় এলাকায় চেল্লাখালি ও ভোগাই নদীর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় এসব ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।
প্লাবিত এসব এলাকায় বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশ করায় দুর্ভোগে পড়েছে মানুষজন। এছাড়া ঢলের পানি ঢুকে পড়ায় নয়াবিল উচ্চ বিদ্যালয়, প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিমুলতলা এবং বাগানবাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাশ নেয়া সম্ভব হয়নি। নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদ এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাজকর্মও বন্ধ রয়েছে।
গোল্লার পাড় এলাকার অধিবাসী আব্দুর রশীদ জানান, ‘রাতে হঠাৎ করেই ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়ে। ফলে ঘরের মালামাল পানিতে ভেসে গেছে।’
শিমুলতলা এলাকার সেলিম মিয়া জানান, তার ঘরে একশ মণ ভূট্টা মজুত ছিল। রাতে ঘুমের মধ্যে বাঁধ ভেঙ্গে ঘরে পানি প্রবেশ করলে কোনমতে জীবনটা নিয়ে রাস্তায় চলে আসেন।
এ ব্যাপারে শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনেই আছি। পাহাড়ি ঢলে নালিতাবাড়ী পৌর এলাকার নি¤œাঞ্চল ও বেশ কটি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে এখন পানি নেমে যেতে শুরু করেছে। পাহাড়ী ঢলের পানি মূলত খুব বেশি স্থায়ী হয়না।’
পাহাড়ি ঢলে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে জেলা প্রশাসক জানান, ‘ক্ষতি নিরূপনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সরকারী কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত বড় ধরণের কোন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আমরা জানতে পারিনি।’
এদিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শরীফ হোসেন জানান, ‘প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন আবাদ পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নেমে যায় বলে খুব বেশি ক্ষতি হবার সম্ভবনা নেই।’