শেরপুরের প্রতিবন্ধী অদম্য মেধাবী সুরাইয়া হতে চায় প্রভাষক

41

জাহিদুল খান সৌরভ : শেরপুরের প্রতিবন্ধী অদম্য মেধাবী সুরাইয়া হতে চায় প্রভাষক দেশ বার্তাকে এমনটাই জানিয়েছেন সুরাইয়ার বাবা ছফির উদ্দিন। তিনি চাকুরী জীবনের ১ম দিকে শেরপুর সদর উপজেলার আন্ধারিয়া সূতিরপাড় দাখিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাকালীন সুপার ছিলেন। বর্তমানে তিনি চরপক্ষীমারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান মডেল স্কুল সহকারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

সুরাইয়ার বাবা ছবির উদ্দিন আরও বলেন, গত ২ সেপ্টেম্বর শনিবার পা দিয়ে লিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আমার মেয়ে। যে খবর ইতিমধ্যে দেশে বিদেশে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছে। ছোট বেলায় তাকে নিয়ে আমরা চিন্তা করতাম। কিন্তু সুরাইয়া যখন প্রাথমিক সমাপনী (পরীক্ষা) পিইসিতে ভাল রেজাল্ট করলো তখন আমরা আশাবাদী হলাম। আমার মেয়ে প্রতিবন্ধী এটা কোন বিষয় না। কারন তার রয়েছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি।

সুরাইয়ার মা মোর্শেদা আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, আমার মেয়ে সবসময় বলতো মা আমি একদিন অনেক বড় হব। আমার হাত অচল তো কি হইছে। পা দিয়ে আমি সব জয় করবো। সুরাইয়ার অনেক ইচ্ছা সে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। আমার মেয়ের অনেক স্বপ্ন, অনেক আশা। আল্লাহ্ যেন সে আশা পূরণ করেন।

মডেল গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মিতালী রানী বাগচি বলেন, এরকম ছাত্রী আমরা কখনো পাইনি। সুরাইয়া একটি ফুল, একটি গর্বিত সন্তান। সে কখনো কলেজ ফাঁকি দিত না। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া শর্তেও সে পায়ে হেটে কষ্ট করে ৩ তলায় গিয়ে পরীক্ষা দিত। তার আগ্রহ থাকার কারণে সুরাইয়া এসএসসি ও এইচএসিতে জিপিএ ৪ পয়েন্ট পেয়েছে।

এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চাঁন মিয়া বলেন, সুরাইয়া আমাদের জন্য মডেল। তাকে অনুসরণ করে অনেক প্রতিবন্ধী শিশু ভাল কিছু করার আগ্রহ করবে। তার খবর এখন পুরো দেশ জানে। এটা শেরপুর বাসীর জন্য অনেক গর্বের। আমি যতদূর জানি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবন্ধীদের জন্য কোটা আছে। আমি সরকারকে অনুরোধ করবো অদম্য মেধাবী এই সুরাইয়াকে যেন সেখানে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

Advertisement
Print Friendly, PDF & Email
sadi