শেরপুরে ঈদ মার্কেটে মানছেন না কেউ স্বাস্থ্যবিধি

77

জাহিদুল খান সৌরভ : শেরপুরে ঈদ মার্কেটে মানছেন না কেউ স্বাস্থ্যবিধি করোনা ভীতি উপেক্ষা করে ঈদ কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পাড় করছে ক্রেতা বিক্রেতারা। পছন্দের জিনিস কিনতে এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে ছুটছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। করোনা সংক্রমণ উপেক্ষা করে শপিংমল-ফুটপাতে ক্রেতা বিক্রেতা কেউ মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। গা ঘেঁসে চলতে দেখা গেছে শপিংয়ে আসা ক্রেতা সাধারণের। অভিভাবকদের সঙ্গে ঈদ শপিংয়ে আসছে শিশুরাও। বিক্রেতারা বলছেন, ঈদ যতো ঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। জেলা শহরের প্রতিটি মার্কেটে বিক্রিও হচ্ছে সন্তোষজনক।

৪ মে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন শপিংমল ও মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ঈদ শপিংয়ে উপচেপড়া ভিড়ের কারণে নিউমার্কেট, থানা মোড়, গোয়ালপট্টি, নয়আনীবাজার এলাকায় তীব্র যানজটেরও সৃষ্টি হয়। করোনা মহামারিতে প্রতিদিন বাড়ছে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যাও। সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ জারির পরও শেরপুরবাসী কিংবা জনসাধারণের মধ্যে যেন কোনো ধরনের ভীতি নেই। এমন সংকটকালে নিশ্চিন্তে ঈদের কেনাকাটা করছেন তারা। শহরে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা শপিং করছেন নিউ মার্কেটসহ বড় বড় শপিংমলে আর নিম্নবিত্তরা কেনাকাটা করছেন শহরে অলিগলি ও ফুটপাতে। এসব স্থান ক্রেতাদের ভীড় ছিল লক্ষ্যনীয়। দোকান গুলোতে গায়ে গা লাগিয়ে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে মানুষজনকে। এছাড়াও ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেকের মুখে নেই মাস্ক। আবার কারো থাকলেও তা সঠিক নিয়মে পরা ছিল না।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ঘোষিত তৃতীয় দফায় লকডাউনে তীব্র যানজটের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষদের। জেলা শহরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, শপিংমল ও দোকানপাট খুলে দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একপ্রকার হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। এদিকে ‘মুভমেন্ট পাস’ নিয়ে চলাফেরার কথা থাকলেও তা নিয়ে এখন আর কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই মানুষের মাঝে। স্বাস্থ্যবিধি কেউ কেউ মানছেন আর কেউবা মানছেন না, যারা মানছেন না তাদেরকে বাধ্য করারও যেন কেউ নেই।

ঈদের শপিং করতে এসেছেন হামিদা আক্তার। তিনি বলেন, করোনার মধ্যেও তো ঈদ করতে হবে। তাই কিছু কেনাকাটা করতে এসেছি। তবে ঘোরাঘুরি কম করছি, পছন্দ হলেই কিনে নিচ্ছি পছন্দের পোশাক। তবে বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা, মার্কেটে মার্কেটে যে পরিমাণ জনসমাগম দেখা যাচ্ছে কিন্তু সে হিসেবে বেচা-বিক্রি অনেক কম। অধিকাংশই শুধু জিনিসপত্র দেখছেন আর এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে ঘুরছেন।

জিএইচ হান্নান বের হয়েছেন সন্তানদের জন্য নতুন কাপড় কিনতে। বের হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগের চেয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন অনেক কমে গেছে। অনেকেই তো বের হচ্ছেন। তাইতো আমরাও বের হয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বের হয়েছি। ঘণ্টাখানেক পর বাসায় ফিরে যাবো। বাকিটা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিলাম।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনওয়ারুর রউফ বলেন, স্ব-স্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। করোনা মহামারীতে সবাইকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোন বিকল্প নেই। মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় ৬৯৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছেন ১৪ জন।