শেরপুরে ওয়ারিশ সনদ জালের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে

523

জাহিদুল খান সৌরভ : শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার ২নং নকলা ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আনিসুর রহমান সুজা (৫০) কে ওয়ারিশ সনদ জালের মামলায় ১৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে বিজ্ঞ আদালত। তিনি নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে রয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে মোঃ আনিসুর রহমান সুজা স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে উভয় পক্ষের শুনানী শেষে শেরপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম খান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, নকলা উপজেলার ধনাকুশা গ্রামের আশরাফ আলী ২ ছেলে ও ৫ মেয়েসহ ৭ সন্তানের জনক ছিলেন। আশরাফ আলী ২০০০ সালে মারা যাওয়ার পর তার সন্তানেরা বিগত ২০১৩ সালের ২৬ জুন নকলা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আনিসুর রহমান সুজা স্বাক্ষরিত ওয়ারিশ সনদ উত্তোলন করেন। ওই ওয়ারিশ সনদে আশরাফ আলীর স্ত্রী নুরজাহান বেগমসহ ৭ ছেলে-মেয়ে যথাক্রমে মো. নাজমুল ইসলাম, মো. জাহাঙ্গীর আলম, আসমা খাতুন, রোখসানা বেগম, মনোয়ারা বেগম, কামরুন্নাহার পারভীন ও শামছুন্নাহার শিল্পীর নাম সঠিকভাবে ওয়ারিশ হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যানের যোগসাজসে ৯২ শতাংশ পৈত্রিক সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ২০১৯ সালের ১ জুলাই নতুন করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নেওয়া ওয়ারিশ সনদপত্রে শুধুমাত্র আশরাফ আলীর স্ত্রী মৃত নুরজাহান বেগম, ১ ছেলে মো. নাজমুল আলম ও ১ মেয়ে মোছা. কামরুন নাহারকে ওয়ারিশ হিসেবে দেখানো হয়।

এরপর ওই ঘটনায় আশরাফ আলীর আরেক মেয়ে শামছুন্নাহার বাদী হয়ে সি.আর আমলী আদালতে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আনিসুর রহমান সুজা, মোছা. কামরুন্নাহার ও নাজমুল আলমকে বিবাদী করে আদালতে একটি নালিশী মামলা দায়ের করেন। ওই ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান সুজা ও নাজমুল আলম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ নির্দেশন দেন।

এব্যাপারে বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আলমগীর কিবরিয়া কামরুল বলেন, নকলার উপজেলার ওই জাল জালিয়াতি মামলার সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আনিসুর রহমান সুজা এবং অপর বিবাদী নাজমুল ইসলামকে দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ আদালত ন্যায় বিচারের স্বার্থে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

Advertisement
Print Friendly, PDF & Email
sadi