শেরপুরে চাঞ্চল্যকর রাসেল হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

53

জিএইচ হান্নান: শেরপুরে চাঞ্চল্যকর রাসেল হত্যা মামলায় স্বামী-স্ত্রীসহ একই পরিবারের ৩ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। ১৫ অক্টোবর রোববার বিকেলে জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষনা করেন শেরপুরের জেলা ও দায়রা জজ কিরণ শংকর হালদার । দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছে, শ্রীবরদী উপজেলার রুপারপাড়া গ্রামের মৃত রমেজ উদ্দিনের ছেলে ইমান আলী (৫০) , তার ছোট ভাই হোসাইন মিয়া (৪৪) ও হোসাইনের স্ত্রী আজেদা খাতুন (৩৮)। একই মামলায় আদালত একই এলাকার ফরহাদ আলীর ছেলে এমরান (৩০) ও মৃত ওমর আলীর ছেলে হাবিবুল্লাহ (৬৫) কে ১০ বছর করে এবং স্থানীয় জমর উদ্দিনের ছেলে ফেরদৌস (৪০) কে ১ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছে। যাবজ্জীবন আসামীদের মধ্যে হোসাইনের স্ত্রী আজেদা খাতুন পলাতক রয়েছে। অপরদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর ৫ আসামীকে আদালত বেকুসুর খালাস দেন ।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৪ এপ্রিল বিকেলে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে শ্রীবরদী উপজেলার রুপারপাড়া গ্রামের মৃত রমেজ উদ্দিনের ছেলে ইমান আলী (৫০) ও তাদের লোকজন একই গ্রামের প্রতিবেশী কৃষক মফিল উদ্দিনের বসত বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র-অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। এ সময় তাদের বাধা দিতে গিয়ে মফিল উদ্দিন, তার ছেলে রাসেল মিয়া ও মেয়ে নূরজাহান গুরতর আহত হয়। ওই দিনই মফিল উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ইমান আলীসহ ১১ জনকে আসামী করে শ্রীবরদী থানায় মারপিট গুরতর জখম ও ভাংচুরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। এদিকে ২ দিন পর ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাসেল মিয়া মৃত্যু বরণ করলে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ৩১ আগষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন তরফদার এজাহারনামীয় সকল আসামীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। বিচারিক আদালতে বাদী, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১২ জন সাক্ষী সাবুদ ও দীর্ঘ শুনানী শেষে এ রায় প্রদান করেন।