শেরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পক্ষ-প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ১৬

112

জিএইচ হান্নান : শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী ইউনিয়নে নয়আনীপাড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরধরে ১৯ জুলাই সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একই গ্রামের প্রতিপক্ষ মৃত ফুল মামুদের ছেলে মোন্তাজ (৬০), তার ভাই কাগজ আলী (৬২), ছেলে জাহাঙ্গীর (৩৫) ও ছেলে জুয়েল (২৬) সহ ১৫/২০ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বৃদ্ধা আনোয়ারা বেওয়ার বসত বাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

এসময় সন্ত্রাসীদের হামলায় বৃদ্ধা আনোয়ারা বেওয়া (৮০), তার মেয়ের জামাই শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের সহকারি সেবক সালেহ উদ্দিন (৫৫), তার স্ত্রী সিনিয়র স্টাফ নার্স পারভীনা বেগম (৪৫), ছেলে পারভেজ মোশারফ (১৮), মৃত সিরাজ আলীর ছেলে মনির হোসেন (৩৩), আনোয়ারা বেগমের প্রতিবন্ধী মেয়ে বেদেনা (৫০), মনোয়ারা বেগম (৬০), আশরাফ আলীর ছেলে শফিকুল (৫০), ময়না বেগম (৪০) ও সাবিনা বেগম (২৮) সহ ১০ জন গুরুতর আহত হয়। পরে আহতদের উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের নয়আনীপাড়া গ্রামের মৃত ফুল মামুদের ছেলে মোন্তাজ গংদের সাথে একই গ্রামের প্রতিবেশী মৃত সিরাজ আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেওয়া ও তার ছেলে মনির হোসেন সহ অপরাপর অংশীদারদের সাথে ১০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও আদালতে মামলা মোকদ্দমা চলে আসছিল। পরবর্তীতে আদালতে চলতি বছরের ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বৃদ্ধা আনোয়ারা বেওয়ার পক্ষ রায় প্রদান করেন এবং প্রতিপক্ষদের ওই জমিতে প্রবেশে ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

এদিকে বৃদ্ধা আনোয়ারা বেওয়ার মেয়ে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স পারভীনা বেগম ও তার স্বামী একই হাসপাতালের সহকারি সেবক সালেহ উদ্দিন, তার ছেলে পারভেজ মোশারফ ১৮ জুলাই রোববার বিকেলে নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী নয়আনী গ্রামের বাড়ীতে যান। ১৯ জুলাই সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা কোরবানির বিষয়াদি নিয়ে পরিবারের অন্যান্য লোকজনের সাথে আলোচনা করছিল। এসময় প্রতিপক্ষ মোন্তাজ তার ছেলে জুয়েল, কাগজ আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর, সুজন ও শ্যামলের নেতৃত্বে ১৫/২০ জন দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বৃদ্ধা আনোয়ারা বেওয়ার বসতবাড়ীতে হামলা চালিয়ে সালেহ উদ্দিন, তার স্ত্রী পারভীনা বেগম, ছেলে পারভেজ মোশারফ, মৃত সিরাজ আলীর ছেলে মনির হোসেন, আনোয়ারা বেগমের প্রতিবন্ধী মেয়ে বেদেনা, মনোয়ারা বেগম, আশরাফ আলীর ছেলে শফিকুল, ময়না বেগম ও সাবিনা বেগমকে মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে কুপিয়ে সবাইকে গুরতর জখম করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে নকলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

এব্যাপারে নকলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুশফিকুর রহমান দেশবার্তা বিডি ডট কমকে জানান পক্ষ-প্রতিপক্ষর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ওই ১০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ এবং আদালতে মামলা চলে আসছিল। মোন্তাজ গংদের বিদমান জমিতে প্রবেশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল। সোমবার সকালে ওই জমিতে মোন্তাজ গং প্রবেশ করায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে বৃদ্ধা আনোয়ারা বেওয়ার পক্ষে ১০ জন আহত এবং মোন্তাজ গংদের ৬ জন আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানান। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।