শেরপুরে তরল রাসায়নিক বিষ্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় মামলা : গ্রেপ্তার ২

71

জিএইচ হান্নান: শেরপুরের নকলা উপজেলার চন্দ্রকোণা বাজারে ১৯ জারিকেনে ভর্তি ৫৯৫ লিটার তরল বিস্ফোরক উপাদান উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে নকলা থানায় একটি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আবুল কাশেম, ফয়েজ উদ্দিন ও মিনারা বেগমের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামাদের আসামী করা হয়েছে। ওই মামলায় আটক দোকানের মালিক মিনারা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়া ৭ অক্টোবর শনিবার দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামী মো. ফয়েজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে।

এদিকে, শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি নকলার চন্দ্রকোণা বাজারের ঘটনাস্থল ওই দোকান পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি চন্দ্রকোণা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে রাখা জারিকেন ভর্তি তরল বিস্ফোরক উপাদানগুলো পর্যবেক্ষন করেন। পুলিশ সুপার মো. রফিকুল হাসান গণি ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

শেরপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, চন্দ্রকোণা বাজারের তরল বিস্ফোরক উদ্ধারের মামলার আসামী মিনারা বেগম ও ফয়েজ উদ্দিন নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুপুরে ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

তিনি আরো জানান, উদ্ধারকৃত তরল পদার্থের মধ্যে রয়েছে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, নাইট্রিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, ট্রেট্রাহাইড্রোফুরান, ডিক্লোমেথেনি এসিড, ক্লোরোফর্ম। শুক্রবার ঢাকা থেকে আসা সিআইডি’র ক্রাইমসিন ভ্যানের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির ৭ সদস্যের বিশেষজ্ঞরা উদ্ধারকৃত এসব তরল পদার্থ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এমন তথ্য দিয়েছেন। এসব রাসায়নিক পদার্থ নাশকতার কাজে ব্যবহার করার জন্যই গুদামজাত করা হয়েছিলো। সম্প্রতি দূর্গাপূজায় শেরপুরের কেন্দ্রীয় মন্দির নয়ানীবাড়ি মা ভবতারা মন্দিরসহ ৪টি মন্দিরে জঙ্গিরা নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এমন তথ্যে শেরপুর জেলার পুলিশ প্রশাসন বিভিন্নভাবে খুঁজতে থাকে এমন ঘাঁটি। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার রাতে নকলার চন্দ্রকোনা বাজারে তানিসা গার্মেন্টস এন্ড সুজ নামে একটি তালাবন্ধ দোকানে অভিযান চালিয়ে ১৯ জারকিন ভর্তি তরল রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করা হয়।