শেরপুরে দম ফেলার সময় নেই কামার শিল্পীদের

63

জাহিদুল খান সৌরভ : মুসলিম ধর্মালম্বীদের সবচাইতে বড় দুটি ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে একটি ঈদুল আযহা। প্রতিবছর আরবী জিলহজ মাসের ১০ তারিখে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র ঈদুল আযহা। সেই কোরবারির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে শেরপুর জেলার কামারেরা। প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যে রাত পর্যন্ত সদর উপজেলার কামার পল্লীতে শোনা যায় গরম লোহা পেটানোর টুং টাং শব্দ।

কিন্তু গত ২০ বছরে এমন খারাপ সময় যায় নি কামার ইসাহাক মিয়ার। তিনি শেরপুর পৌর শহরের বাগরাকসা মহল্লার বাসিন্দা। ইসাহাক বলেন, এত বছর থেকে লোহা আর আগুনের সাথে সম্পর্ক। তবে এবারের মত অবস্থার সম্মুখীন হইনি। গতবছরেও করোনা কালীন সময়ে বেশ ভাল অর্ডার পেয়েছিলাম। করোনা মহামারিতে লকডাউন ও আর্থিক সমস্যার কারণে অনেকেই কোরবানি দিবেন না। তাই আমাদের হাতে কাজও কম। কয়েকটা চাপাতি, কোপা, ছোট চাকু, মাঝারী ও বড় ছুরির অর্ডার পেয়েছি। এগুলো ঈদের এক দিন আগেই কাস্টমারদের হাতে বুজিয়ে দিতে হবে। তাই আপাতত দম ফালানোর সময় নেই।

অনেক পুরনো কামার পেশার সাথে জড়িত লাল মিয়া। তিনি শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের কুমরিকামার পাড়ার বাসিন্দা। লাল মিয়া জানান, ৪০ বছর থেকে এ পেশায় জড়িত। এখন সব কিছুর দাম বেশী। লোহা পোড়ানোর জন্য কয়লা প্রয়োজন। সেই কয়লা নালিতাবাড়ী পাহাড় থেকে ৬ থেকে ৭ শত টাকা বস্তা কিনি। আর সবচাইতে ভাল ইট ভাটার কয়লা। যেগুলো ১ থেকে  ১ হাজার ৫ শত টাকা করে নেয় বস্তা প্রতি। আগে কোরবানির ঈদের ১ মাস থেকে ব্যস্ততা থাকতো। এখন কাজ কম। তবুও যে কয়েকটি অর্ডার পেয়েছি। সেগুলো মোটামুটি শেষ পর্যায়ে। চাকু, দা, ছুরি কোপা এগুলো শান (ধার) দিয়েই কাস্টমারকে বুজিয়ে দিব।

খুচরা বিক্রেতা বশির জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আমরা আগেই কামার পল্লী থেকে জিনিসপত্র বানিয়ে এনেছি। হয়তো আর দু একদিন পর ক্রেতাদের ভিড় বাড়বে। বশির আরও জানান, আমার এখানে কোপা ও চাপাতি ৭শত থেকে ৮শত টাকা, চাকু ১শত থেকে দেড়শত টাকা, ছোট ছুরি ৫শত টাকা, মাঝারি ছুরি ১ হাজার টাকা এবং বড় ছুরি ১ হাজার ২ শত টাকা করে।

বাজিতখিলা ইউনিয়নের স্থানীয় এলাকাবাসী ফজলুল করিম বলেন, কামার পেশা একটি আদি পেশা। এটি আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যর একটি অংশ। কোরবানির ঈদ আসলে আমাদের গ্রামে নতুন নতুন মানুষের আনাগোনা বেড়ে যায়। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কেনা পশুকে জবাই করতে অনেকে তাদের পছন্তের ধারালো জিনিসপত্র বানাতে কামার পল্লীতে আসেন।

এব্যাপারে শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ ফিরোজ আল মামুন বলেন, ঈদুল আযহায় কামারদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। কামার শিল্প আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যর অংশ। করোনা মহামারির সময়ে যারা এখনো প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাননি সেসব কামারের তালিকা সংগ্রহ করে আমরা স্বল্প সময়ের মধ্যে তাদের সহযোগিতা করবো।