শেরপুরে দু’টি পৃথক হত্যা মামলার রায়ে একজনের মৃত্যুদন্ড, আরেকজনের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড

29

জি.এইচ হান্নান ঃ শেরপুরে আপন শ্যালিকাকে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় ভগ্নিপতি রঞ্জিত চন্দ্র দাস (৪৭) কে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল ৩১ জুলাই সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মুসলেহ উদ্দিন এক জনাকীর্ণ আদালতে আসামীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রঞ্জিত ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার ধোপাগোছনা গ্রামের মৃত কেশব চন্দ্র দাসের ছেলে। অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট ইমাম হোসেন ঠান্ডু জানান, রঞ্জিত চন্দ্র দাস বিয়ের পর থেকে টানা ৪ বছর যাবত ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্ধা গ্রামস্থ শ্বশুর মনেন্দ্র দাসের বাড়িতে বসবাস করে আসছিল। ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ল্যাট্রিন ব্যবহার নিয়ে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে রঞ্জিত উত্তেজিত হয়ে একই বাড়িতে বসবাসকারী শ্যালিকা চানবালা রানী দাস (২৮) কে দা দিয়ে উপুর্যপরিভাবে কোপাতে থাকে। এ অবস্থায় বড়বোন সুমতি রানী দাস (৪৫) এগিয়ে গিয়ে চানবালাকে রক্ষার চেষ্টা করলে রঞ্জিত তাকেও কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। গুরুতর অবস্থায় দু’জনকেই শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করলে সন্ধ্যায় চানবালা মারা যায়। অপরদিকে ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী রঞ্জিতকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। হত্যা কান্ডের ঘটনায় একইদিন চানবালার বাবা মনেন্দ্র দাস বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরদিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় ভগ্নিপতি রঞ্জিত। একই বছরের ২ মে রঞ্জিতের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রফিকুল ইসলাম তালুকদার। বিচারিক পর্যায়ে বাদী, অপর জখমী, ম্যাজিস্ট্রেট ও চিকিৎসকসহ ৭ জন সাক্ষীর দীর্ঘ সাক্ষী সাবুদ জবানবন্দি-জেরা গ্রহণ শেষে আদালত মৃত্যুদন্ডের আদেশ দেন। এ মামলায় স্টেট ডিফেন্স হিসেবে আসামী পক্ষে পরিচালনা করেন এডভোকেট শক্তিপদ পাল।

একইদিন আদালত শেরপুরে চাঞ্চল্যকর নিজাম উদ্দিন হত্যা মামলায় আবেদ আলী (৪৩) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদন্ড দিয়েছে। সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মুসলেহ উদ্দিন উক্ত রায় ঘোষণা করেন। আবেদ আলী সদর উপজেলার পাঞ্জরভাঙ্গা গ্রামের সিরাজ আলীর পুত্র। তবে ঘটনার পর থেকেই আবেদ আলী গ্রেফতার এড়াতে পলাতক রয়েছে। একই সাথে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর ১২ আসামীকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত।অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট ইমাম হোসেন ঠান্ডু জানান, বিগত ২০০৯ সালের ১২ জানুয়ারি সকালে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সদর উপজেলার পাঞ্জরভাঙ্গা গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন স্থানীয় কৃষক নিজাম উদ্দিন। পরে ওইদিনই বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান নিজাম উদ্দিন। হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিজাম উদ্দিনের ছেলে মীরজাহান বাদী হয়ে আবেদ আলীসহ ১৩ জনকে আসামী করে শেরপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা ১৩ জনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচারিক পর্যায়ে বাদী, চিকিৎসকসহ ৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি-জেরা গ্রহণ শেষে আবেদ আলীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেয়া হয়।