শেরপুরে পাকা পেঁপে কেজি প্রতি ১২০ টাকা দরে বিক্রি

14

জাহিদুল খান সৌরভ : তরমুজ, কাঠাল, বেল নিয়ে যখন পুরো দেশে একটা হৈ রৈ কান্ড। তখন শেরপুরে কাঁঠালের পর এবার পাকা পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। ২৮ এপ্রিল বুধবার বিকেলে শেরপুর জেলা শহরের রঘুনাথ ও নয়আনী বাজারে দেখা গেছে এমন চিত্র।

এসময় পাকা পেঁপে কিনতে আসা একজন ক্রেতা রবিউল জানান, ভাই আমরা মধ্যবিত্তরা মনে হয় তরমুজ, কাঠাল, পাকা পেঁপে এসব খাওয়া বাদ দিতে হবে। পরিবারের ছোট ছেলেটার আবদার হঠাৎ পাকা পেঁপে খাবে, এজন্য বাজারে আসা। এসে তো রীতিমত আমার জ্ঞান হারানোর মত অবস্থা। বিক্রেতা এক কেজি পাকা পেঁপের দাম চাচ্ছেন ১২০ টাকা। রবিউল আরও বলেন, কি আর করবো ছেলের আবদার তাই ছোট একটা পাকা পেঁপে ওজন হয়েছে আধা কেজি যা ৬০ টাকা দিয়ে কিনে নিলাম।

আরেক ক্রেতা মাসুদ হাসান বলেন, এই জামানায় আর কি দেখার বাকি আছে। এই ছোট ছোট পাকা পেঁপে পিছ হিসেবে বিক্রি করলে প্রতি পিছ মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ টাকা হতো। এখন বাধ্য হয়ে পাকা পেঁপে ১২০ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে।  যেখানে প্রতিটা পাকা পেঁপের দাম এসেছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

শেরপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শরিফুর রহমান জানান, গতকাল আমিও কেজি টাকা দরে পাকা পেঁপে কিনেছি। আমি যে পেঁপেটা কিনেছি সেটার দাম পিছ প্রতি হলে ২০ থেকে ২৫ টাকা হবে। কিন্তু তারা আমার থেকে ৪৫ টাকা করে রেখেছে। এভাবে ক্রেতা সাধারণদের জিম্মি করে ব্যবসা করা মানে কি ?

পেঁপে ব্যবসায়ী রহমত জানান, লকডাউনে সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। এই পাকা পেঁপে গুলো সদর উপজেলার লছমনপুর থেকে এনেছি। এত মণ পেঁপের দাম পরেছে ৩ হাজার টাকা। এখন সবকিছু কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, তাই আমিও পেঁপেটা কেজি দরে বিক্রি করছি। ক্রোতারা কোন অভিযোগ করে না ? এমন প্রশ্নের উত্তরে পেঁপে ব্যবসায়ী রহমত জানান, পুরো শহর ঘুরলে দুই এক জায়গায় পাবেন। তাই যা দাম চাই পাবলিক তাই দিয়ে কিনে নেয়।

ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের শেরপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আরিফুল ইসলাম বলেন, রমজান মাসে এরকম সিন্ডিকেট বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে। ভোক্তা অধিকারের পক্ষ হতে ব্যবসায়ীদের কোন পণ্যের দাম নির্দিষ্ট করার সুযোগ নেই। তবে ব্যবসায়ীরা যেন ক্রেতা সাধারণকে জিম্মি করে ব্যবসা করতে না পারে সেটিরও আইন আছে। আমরা এসব বিষয় আমলে নিয়ে যে কোন মুহুর্তে অভিযান পরিচালনা করবো।