শেরপুরে বিপুল পরিমাণ বিষ্ফোরক পদার্থ উদ্ধার! খতিয়ে দেখছে পুলিশ

37

জিএইচ হান্নান : শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা বাজারে বিপুল পরিমাণ বিষ্ফোরক সাদৃশ্য রাসায়নিক তরল পদার্থ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চন্দ্রকোনা বাজারের কলা হাটি রোডে ‘তানিসা গার্মেন্টস এন্ড সুজ’ নামীয় তালাবদ্ধ একটি দোকানের তালা ভেঙ্গে ৫টি ৩০ লিটারের সবুজ রঙের কন্টেইনার এবং ২৫ লিটারের ৭টি সবুজ রঙের ও ৬টি কালো রঙের কন্টেইনার ভর্তি বিষ্ফোরক সাদৃশ্য রাসায়নিক তরল পদার্থ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া খালি আরো ৫টি কন্টেইনার, গ্লাফস, সিরিঞ্জ, কোণক, সীম ছাড়া খালি ৮টি সীস স্লট ও পেকেটসহ বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওইসব কন্টেইনারে প্রায় ৫০০ লিটার পরিমাণ তেজষ্ক্রীয় ও বিষ্ফোরক তরল পদার্থ রয়েছে। যা দুর্গাপূজায় জেলার কয়েকটি মন্দিরে নাশকতার উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কি ধরণের তেজষ্ক্রীয়তা ও বিষ্ফোরন ক্ষমতা সম্পন্ন পদার্থ থাকতে পারে তা তারা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পুলিশ। উদ্ধার করা রাসায়নিক তরল পদার্থগুলি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এমন ঘটনায় চন্দ্রকোণা বাজারসহ পাশ্ববর্তী এলাকায় মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ৬ অক্টোবর শুক্রবার চন্দ্রকোনা তদন্ত কেন্দ্রে সংরক্ষিত এরিয়া করে ঢাকা থেকে আগত ক্রাইমসিন বিভাগের ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরী সিআইডি’র সাত সদস্যের একটি টিম সকাল থেকে ওই তরল পদার্থ গুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করছেন। তারা জানিয়েছেন শুক্রবার রাত নাগাদ পরীক্ষার নিরীক্ষার কাজ শেষ হতে পারে। তার পরেই তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ সুপাররের কাছে জমা দিবেন এবং পরে পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানাতে পারেন বলেও তারা জানান।

এবিষয়ে পুলিশ সুপার রফিকুল হাসান গণি সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা থেকে আগত বিষ্ফোরক গবেষকগণের পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে নিশ্চিত করে বলতে পারবেন যে, ওইসব কন্টেইনারে কি ধরণের পদার্থ রয়েছে। তিনি আরো জানান- কয়েক সপ্তাহ আগে গোয়েন্দা তথ্যে জানানো হয়েছিল, দুর্গাপূজায় শেরপুর জেলায় মারাত্মক ধরনের নাশকতার সৃষ্টি হতে পারে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে ও পুলিশ সুপার রফিকুল হাসান গণির নির্দেশে শেরপুর জেলার সর্বত্র গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো হয়। গোয়েন্দা রিপোর্ট ও পুলিশ হেড কোয়ার্টাসের তথ্যের আলোকে তাঁর নেতৃত্বেই অভিযান পরিচালিত এবং ওইসব পদার্থ উদ্ধার করা হয়। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলাম, নকলা থানার ওসি খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী ও তার সঙ্গীয় ফোর্স, চন্দ্রকোণা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি পুলিশ পরিদর্শক আমিনুর রহমান তরফদার ও তার সঙ্গীয় ফোর্স, স্থানীয় চেয়ারম্যান সাজু সাঈদ সিদ্দিকীসহ স্থানীয় সংবাদকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও নিরাপদ দূরত্বে থাকা উৎসুক হাজারো জনতা উপস্থিত ছিলেন।

এঘটনায় দোকান ঘরের মালিক মৃত ছাইদুল ইসলাম বিপুলের স্ত্রী মিনারা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চন্দ্রকোনা তদন্ত কেন্দ্রে নেওয়া হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনারা জানায়, সে আট মাস আগে চরমধুয়া গ্রামের ফয়েজের কাছে দোকান ঘরটি প্রতিমাসে ৬০০ টাকায় ভাড়া দেন। ব্যবসায় লোকসান দেখে হুজুরী কান্দা গ্রামের মৃত ছাফিল উদ্দিনের ছেলে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও চন্দ্রকোনাব্রীজের কাছে ‘কাশেম মেডিক্যাল হল’ নামীয় একটি ঔষধ বিক্রির দোকানী আবুল কাশেমের কাছে ঘরটি ভাড়া দিয়ে দেয় ফয়েজ মিয়া। ঘর মালিক ও স্থানীয়দের ধারনা ছিল কাশেম কলাহাটির ওই দোকান ঘরটি ঐষধের গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করতে ভাড়া নিয়েছে, তাই হয়তো দিনের বেলা খোলার দরকার হয়না; শুধু রাতের বেলা খোলে আগামী দিনের জন্য ঐষধ নিয়ে রাখে।

উল্লেখ্য যে, কাশেমের উপস্থিতি সম্পর্কে স্থানীদের জিজ্ঞাসায় জানা গেছে, ৪ অক্টোবর বুধবার রাত ৯টার দিকে সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকারে সাদা পোশাকে ৫-৬ জনের একটি দল এসে কাশেমকে তুলে নিয়ে গেছে। এর পর থেকে আর কেউ কাশেমের খোঁজ খবর জানেন না। কাশেমের বড় বোন এবিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন বলে জানা গেছে।