শেরপুরে শ্রীমত হত্যাকাণ্ড ভিন্নখাতে নিতে প্রেসক্লাবের সা: সম্পাদক মেরাজ ও তার ছেলেসহ হয়রানিমূলক মামলা

93

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেরপুর জেলার সদর উপজেলার শ্রীমত হত্যা মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং হত্যা মামলা থেকে বাঁচতে মামলার আসামী ও তাদের আত্মীয়-স্বজন দিয়ে একেরপর এক মিথ্যা মামলা দায়ের অব্যাহত রেখেছে। শ্রীমত হত্যা মামলার বাদী উকিল মিয়া, স্বাক্ষী শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেরাজ উদ্দিন, তার ছেলে শাহরিয়ার শাকির ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের আসামী করে এ পর্যন্ত ১২টি মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও ভিত্তিহীন মামলা আদালতে দায়ে করেছে বলে শ্রীমত হত্যা মামলার বাদী অভিযোগ করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো: মেরাজ উদ্দিনের সহযোগিতায় শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের হেরুয়া বালুরঘাটে বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান মডেল একাডেমী নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় বালুরঘাট মডেল স্কুলের পরিচালক রেজাউল করিম সাদাসহ একটি গ্রুপ। তারা শুরু থেকেই স্কুলটি প্রতিষ্ঠায় নানা ষড়যন্ত্র করে আসছিল। এক পর্যায়ে তারা একাধিক বৈঠক করে শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো: মেরাজ উদ্দিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। বিগত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আতিউর রহমান মডেল একাডেমীর সংস্কার কাজ দেখে বালুরঘাট গ্রামের বাড়ীতে গেলে রেজাউল করিম সাদা, আক্রাম হোসেন আঙ্গুর তার ভাই কাশেম ও জামান মেম্বারের নেতৃত্বে চারদিক থেকে হামলা চালায় ও ভাংচুর এবং লুটপাট করে। এসময় সদর থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু ইতিমধ্যে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে অন্তত ১২ জনকে আহত করে সন্ত্রাসী ওই গ্রুপটি। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁেচ যান সাংবাদিক মেরাজ। সাংবাদিক মেরাজের চাচা শ্রীমত আলী (৫৫) আহত হয়ে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এঘটনার পর থেকেই পৌণে দুই মাস ওই গ্রামে সার্বক্ষনিক পুলিশ মোতায়েন থাকে। ফলে ওখানে আর কোন প্রকার ঘটনাই ঘটেনি। পরবর্তীতে শেরপুর সদর থানার পুলিশ দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে রেজাউল করিম সাদা, আক্রাম হোসেন আঙ্গুর, কাশেম, ও জামান মেম্বারসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন।

কিন্তু আসামী পক্ষ এ হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে থেকে বাঁচতে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। আসামীদের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্য দিয়ে একেরপর এক মিথ্যা অভিযোগ আদালতে দাখিল করেই চলেছে। এ পর্যন্ত ১২টি হয়রানিমূলক ও মিথ্যা এজাহার তারা দাখিল করেছে। আসামীদের বসতঘরের মালামাল নিজেরাই সরিয়ে রেখে হত্যা মামলার বাদী উকিল মিয়া, স্বাক্ষী ও শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মো: মেরাজ উদ্দিন, তার ছেলে শাহরিয়ার শাকিরসহ হত্যা মামলার অন্যান্য স্বাক্ষী এবং আত্মীয়-স্বজন, গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ দায়ের করা হয়।

এদিকে আসামীরা জামিনে বের হয়ে শ্রীমত হত্যা মামলার বাদী, স্বাক্ষী ও তার আত্মীয়-স্বজনদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। মিথ্যা মামলা, লুটপাট করাসহ নানা হুমকি দেয়ায় তারা আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এবিষয়ে সদর থানায় একাধিক জিডিও করা হয়েছে।

এবিষয়ে শেরপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো: মেরাজ উদ্দিন জানান, ঘটনার পর থেকে আমি এবং আমার ছেলে শাহরিয়ার শাকির একদিনও গ্রামের বাড়ীতে যায়নি অথচ আমাকে এবং আমার ছেলের বিরুদ্ধেও মিথ্যা সাজানো ও কাল্পনিক মামলা দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয় হাসপাতালে ভর্তি রোগী, ঢাকায় কোম্পানীতে চাকুরীজীবি ও অবস্থানরত আমার আত্মীয়-স্বজন, স্থানীয় মসজিদ মাদ্রাসার সভাপতিসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধীদেরও মামলায় বিবাদী করা হয়েছে। এ গুলো শুধুমাত্র হত্যা মামলা থেকে বাচাঁর জন্যই করা হচ্ছে।

Advertisement
Print Friendly, PDF & Email
sadi