শেরপুরে ১৮ দফা নির্দেশনা মেনে পালন হবে শারদীয় দুর্গোৎসব

100

জাহিদুল খান সৌরভ : সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে শেরপুরে প্রস্তুত হচ্ছে ১৫১টি পূজা মণ্ডপ। তবে ১৮ দফা নির্দেশনা মেনে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে পালন হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, শেরপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিনয় কুমার সাহা।

এর মধ্যে শেরপুর সদর উপজেলাতে ৬৬টি, নালিতাবাড়ী উপজেলাতে ৩৭টি, নকলা উপজেলাতে ১৯টি, ঝিনাইগাতী উপজেলাতে ২০টি ও শ্রীবরদী উপজেলায় ৯টি মণ্ডপ প্রস্তুত রয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর মহালয়া পালন করা হয়েছে। আগামী ১১ অক্টোবর মহাষষ্ঠীতে দেবী বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠিকতা, চলবে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

শেরপুর জেলায় বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরিতে দম ফেলার সময় নেই প্রতিমা শিল্পীদের। দো-আঁশ মাটি ও খড় দিয়ে সুনিপুণ হাতে গড়ে তুলছেন প্রতিমা। দেবী দুর্গার সঙ্গে বিদ্যার দেবী স্বরসতী, ধন সম্পদের দেবী লক্ষ্মী এবং তার সঙ্গে দেবতা কার্তিক ও গনেশসহ নানা দেব-দেবীর প্রতিমাও তৈরী হচ্ছে।

প্রতিমা শিল্পী পঞ্চনন পাল, রনজিৎ পাল, রবীন্দ্রনাথ দে , সঞ্জিত নাগ জানান এবছর এক একজন ভাস্কর ৪ থেকে ৬ টি করে প্রতিমা তৈরি করছেন। পূজা শুরুর দিন পর্যন্ত রঙ-এর কাজ করতে হবে তাদের। তবে করোনাকালীন সময়ে চাহিদার তুলায় মজুরি কম পাচ্ছেন তারা। সেই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ বাজারে পরিশ্রমের পর প্রতিমা তৈরি করে যে মজুরি পান তা দিয়ে জীবনযাপন করা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। অনেকেই এ পেশা ছেড়ে চলে গেলেও বাপ দাদার আদি পেশা টিকিয়ে রাখছেন তারা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শেরপুর জেলার সভাপতি এড. সুব্রত দে ভানু বলেন, এরই মধ্যে আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির আলোচনা হয়েছে। করোনা ভাইরাস প্রাদূর্ভাবের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র মন্দিরের ভিতরে আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। এজন্য জেলা পূজা উদযাপন কমিটিকে ১৮ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে সড়ক গুলোতে আলোকসজ্জা, মাইক, গান-বাজনার ব্যবস্থা বাদ দিয়ে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠান করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এবছর শুধুমাত্র মন্দিরের মধ্যে আলোকসজ্জা করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মন্দিরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শেরপুরের জেলা পুলিশ আগের মত এ বছরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এছাড়াও আমি প্রকাশ করি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির জেলা শেরপুর। তাই দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এবারের পূজা উদযাপিত হবে।

শেরপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর আহাম্মদ জানান, আমরা প্রত্যেকটি পূজা মন্ডপের তালিকা তৈরি করছি। এবার প্রতি মন্ডপে ৩ স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। আশা করছি প্রতি মন্ডপে জেলা পুলিশের সদস্যরা নিরাপত্তা রক্ষায় কাজ করবে।

এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ মোমিনুর রশীদ জানান, আমরা ইতিমধ্যে গত ৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীদের সাথে মিটিং করেছি। দুর্গাপূজায় র‌্যাব, পুলিশ, আনসার টহল টিম হিসেবে কাজ করবে। এছাড়াও কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্বে থাকবেন।

Advertisement
Print Friendly, PDF & Email
sadi