শেরপুর আওয়ামীলীগে চলছে মনোনয়ন যুদ্ধ

91

জিএইচ হান্নান: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেরপুর ৩টি আসনেই প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে।আওয়ামীলীগে শুরু হয়েছে নিজেদের মধ্যে মনোনয়ন যুদ্ধ।বিএনপিও নামতে শুরু করেছে নির্বাচনী মাঠে।বিএনপি অতটা সরব না হলেও মনোনয়ন গ্রুপিং এ জেলার সরকারি দলের রাজনীতি এখন তুঙ্গে।রোজা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রার্থীরা ইফতার কর্মসূচিতে সরব রয়েছেন।এখানে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যেই প্রতিদ্বন্দিতা হবে।অন্য রাজনৈতিক দল গুলো প্রায় অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।
শেরপুর সদর-১৪১ নং আসনে গত ৪ মেয়াদ ধরে এমপি হচ্ছেন বর্তমান সংসদের হুইপ ও দলের জেলা কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক।১৯৯৬ সালে সিনিয়র নেতাদের মনোনয়ন পারাপারিতে অনেকটা নাটকীয়তার মধ্যে আতিক প্রথম মনোনয়ন পেয়ে যান।ইতিপূর্বে বিনা বাধায় জনপ্রিয় এই নেতা মনোনয়ন পেলেও সামনের মেয়াদে মনোনয়নে পথের কাটা হয়ে দাড়িয়েছে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও শেরপুর পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ছানোয়ার হোসেন ছানু।ছানুর সাথে আছেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াং ক্রেজ জেলা চেয়ারম্যান হুমায়ুন করিব রুমান। দুপক্ষই উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নেই বড়সড় শোডাউন করেছেন। শেরপুরের শ্রমিক নেতা মরহুম সেলিম রেজার কন্যা সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি গোপালগঞ্জের বধূ শিল্পপতি এড.ফাতেমাতুজ্জহোরা শ্যামলিও সদর থেকে মনোনয়নয় চাইবেন। অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সদ্য নির্বাচিত জেলার সাধারন সম্পাদক শিল্পপতি হযরত আলী বেশ আলোচনাতে আছেন। সম্প্রতি তিনি গণসংযোগ ও দলের পিছনে ব্যাপক খরচ করেছেন । অবস্থাদৃষ্টে এই শিল্পপতিই এখন পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থী।তবে দলে প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে গ্রুপিংও রয়েছে।সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি,জাতীয়তাবাদী আইনজীবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক সহকারি এর্টানি জেনারেল,মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ মনোনয়ন চাইবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।এখানে গত ২ বার জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন জামাতের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত মোঃ কামারুজ্জামান। শেরপুর সদরে জাপার(এরশাদ) প্রার্থী হবেন ইলিয়াছ উদ্দিন। ৩ বারের সাবেক আলোচিত এমপি শাহ রফিকুল বারী চৌধুরি জাপাতে (মঞ্জু) আছেন তবে যে কোন বড় দল থেকে তিনি মনোনয়ন চাইবেন এমন আলোচনাও রয়েছে।বড় কোন দল থেকে রফিক চৌধুরি মনোনয়ন পেলে প্রতিদ্বন্দি যেকোন প্রার্থীর জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারেন বলে সাধারনের ধারনা।
শেরপুর-২(নকলা ও  নালিতাবাড়ী) ৩ মেয়াদ ধরে বর্তমান কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার মতিয়া চৌধুরি নির্বাচিত এমপি । আলোচিত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের হেভি ওয়েট প্রার্থী মতিয়ার বিপক্ষে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাড়িয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সহসভাপতি বদিউজ্জামান বাদশা ব্যাপক আলোচনায় আসেন । ৫ জানুয়ারির নিরুত্তাপ নির্বাচনে মতিয়া ও বাদশার নির্বাচনী যুদ্ধ দেশে “টক অফ দ্যা কান্টিতে” পরিনত হয়। কিন্তু নির্বাচনের দিন দুপুরে বাদশা ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান এবং দল থেকে বহিস্কার হন। সদ্য ঘোষিত শেরপুর জেলা আওয়ামীগের কমিটিতে বাদশা সদস্য পদ পেয়েই নৌকার টিকিট পেতে আবারও মরিয়া হয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন।স্থানীয় এমপি ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরি নিয়মিত এলাকায় গিয়ে সরকারি ও ব্যাক্তিগত অনুদান প্রায় নিজের হাতেই দেন।তদবীরবাজদের কাছে অজনপ্রিয় মতিয়া চৌধুরি সুপারিশ শুনেন না আবার আবেদনে বিধি মোতবেক ব্যবস্থা গ্রহনের সুপারিশ লেখেন বলে “বিধি মোতবেক” মন্ত্রী হিসেবে তার সমালোচনা রয়েছে।মন্ত্রীর সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলীয় কোন কোন নেতার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দূর্নীতির অভিযোগ থাকলেও এই কালিমা সরাসরি মতিয়ার উপর নেই।এলাকায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়নও তিনি করেছেন।তবে দলের অনেক বাঘা বাঘা নেতা মতিয়ার অপছন্দের কারণে পদ হারিয়ে রাজনীতির মাঠে নেই।অপরদিকে শেরপুরের ভিআইপি আসন বলে খ্যাত এ আসনে বিএনপির ভাল কোন প্রার্থী আত্নপ্রকাশ করতে পারেনি। বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইবেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্ঠা ব্যারিষ্ট্যার হায়দার আলী,বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ফাহিম চৌধুরি,নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান.ঢাকা বিভাগ উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির যুগ্ম আহবায়ক সাবেক ছাত্রদল নেতা মুখলেছুর রহমান রিপন এবং জায়েদুর রশিদ শ্যামল নকলা নালীতাবাড়ীতে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে কাজ করছেন। জাপা থেকে শওকত সাঈদ মনোনয়ন চাইবেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে জাহেদ আলী চৌধুরি বিএনপির টিকেটে নিয়ে মতিয়া চৌধুরিকে হারিয়ে সংসদের হুইপ নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। বিএনপির বাঘা নেতা ও দানবীর হিসেবে জাহেদ আলীর সুখ্যাতি এখনও মুখে মুখে ।এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় এই জাহেদ আলী ৪ বছর আগে মারা যাওয়ার পর তার শুন্যতা পূরণ হয়নি ও আন্দোলন সংগ্রামে কাউকে পাওয়া যায়নি।ব্যারিষ্টার হায়দার আলী ও ফাহিম চৌধুরি ঢাকায় থাকেন কালে ভাদ্রে এলাকায় আসেন।মরহুম জাহেদ আলীর ছেলে ফাহিম চৌধুরি। বাবার কারনে ফাহিমের উপর সবার সহানুভূতি থাকলেও কান কথায় দলের মধ্যে চরম বিভক্তি করে ফেলেছেন।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতি) ২ মেয়াদে এমপি রয়েছেন প্রকৌশলি একে ফজলুল হক। এবার নির্বাচনের পর ফজলুল হক অনেকটা নিক্রিয় হলেও এখন ব্যাপক জনসংযোগে আছেন।বছর খানেক ধরে বর্তমান এই এমপির লড়া চরায় আগামি নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে নিজেকে আবারও জানান দিচ্ছেন।প্রথম বার নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার উন্নয়ন নিয়ে ব্যাপক সমোলোচানায় ছিলেন এই এমপি।এবার তিনি নির্বাচনি এলাকার দুই উপজেলাতেই বেশ উন্নয়ন করেছেন।তবে জেলা আওয়ামীলীগ ও স্থানীয় কিছু নেতার সাথে তার বিরোধ চরমে।এসব নেতাদের এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। এই এমপিকে দিয়ে আর হবে না বলে দলের মধ্যে কেউ কেউ মাঠে নামার কথা বলছেন আবার কেউ কেউ শুধু বক্তব্যেই প্রার্থী বনে যাচ্ছেন। এ আসনে সরকারি দলে এক ডজন প্রার্থীরা হলেন- কে.কে.চর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান হেভি ওয়েট প্রার্থী, এডিএম শহীদুল ইসলাম, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন এবং ভোটারদে দ্বারে দ্বারে ঘুরে কুশল বিনিময় করছেন। শ্রীবরর্দী উপজেলা আওয়ামীগের সাধারন সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম লিটন ,সাবেক এমপি (জাপা)খন্দকার খুররম,মুক্তিযোদ্ধা নূরল ইসলাম হিরু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এডিএম শহিদুল্লাহ চেয়ারম্যান,জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ইফতেখার হাসান কাফি জুবেরী.মহিলা আওয়ামীগ নেত্রী নাছরীন বেগম,ঝিনাইগাতি উপজেলা আওয়ামীগের সাধারন সম্পাদক এসএমএওয়ারেছ নাঈম,কৃষিবিদ ফররুখ আহাম্মেদ,মহসিনুল বারী রুমি,বিএনপি ও সর্বশেষ জাপা থেকে যোগদান করা প্রবাসী শিল্পপতি হেদায়েতুল ইসলাম হেদা।এলাকায় কারও কারও গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নৌকা পেলেই এমপি হবেন এমন ধারনা নিয়েই অনেকেই মনোনয়ন চাইছেন।অন্যদিকে এখান থেকে বিএনপির নিশ্চিত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি ৩ বারের সাবেক এমপি মাহমুদল হক রুবেল।রুবেল ও বর্তমান সরকার দলীয় এমপি একে ফজলুল হক আপন চাচা ভাতিজা।

রুবেলের বাবা ও ফজলুল হকের সহোদর ডাঃ সেরাজুল ইসলাম এ আসন থেকে দীর্ঘদিন বিএনপির টিকিটে এমপি ছিলেন।এখানে বিএনপি সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালি হলেও ভোটে জামাতও বড় ফ্যাক্টর।গত উপজেলা নির্বাচনে রুবেলের সাথে জামাতের সম্পর্কের অবনতি হয় এছাড়া শোনা যাচ্ছে জামাত নেতা নূরুজ্জামান বাদল নির্বাচন করতে পারেন।