শেরপুর-২ আসন থেকে বিএনপির হয়ে এমপি প্রার্থিতা ঘোষণা করলেন রিপন

304

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলাস্থ নন্নী ইউনিয়ন বিএনপি ও দলটির ইউনিয়ন পর্যায়ের সকল অঙ্গসংগঠনসমূহ এবং স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে অনুষ্ঠিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-২ আসনে (নকলা-নালিতাবাড়ী) বিএনপি থেকে প্রার্থীতা ঘোষণা করলেন নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম মুখলেছুর রহমান রিপন।

২৪ জুন শনিবার বিকেলে নন্নী বাজারস্থ রফিক মহাজনের ধানের চাতালে আয়োজিত ইফতার পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা প্রদান করেন। ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক আব্দুর রফিক মহাজনের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান আব্দুল্লাহ, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক আব্দুস শহীদ মাস্টার, আব্দুল ওয়াহেদ মেম্বার, মোফাচ্ছেল হোসেন, আবুল কালাম মেম্বার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও নন্নী ইউপি’র সদস্য ও সদস্যাসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও অসংখ্য মানুষ এতে অংশ নেন।

উল্লেখ্য, একেএম মুখলেছুর রহমান রিপন ওরফে রিপন চেয়ারম্যান শেরপুর সরকারী কলেজে পড়াশোনা অবস্থায় ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রীয় ছিলেন। ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি মিথ্যা মামলায় কারাবরণসহ দলের বিভিন্ন কর্মকান্ডে ছাত্র জীবনেই যথেষ্ট অবদান রাখেন। ২০০২ সালে তরুণ বয়সেই তিনি নিজ এলাকা নন্নী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে অংশ নিয়ে প্রথমবারই বিজয়ী হন। এরপর ২০০৭ সালে দ্বিতীয় দফায়ও তিনি একই পরিষদে চেয়ারম্যান পদে পুনরায় বিজয়ী হন। রাজনীতির শুরু থেকেই তিনি আলোচনায় এসে পড়ায় বহু মিথ্যা মামলা তিনি মোকাবেলা করেন। ২০১৪ সালে নন্নী ইউপি চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় তিনি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। একপর্যায়ে দলীয় প্রার্থী তার জনপ্রিয়তার চাপে নির্বাচন থেকে অঘোষিতভাবে সরে দাড়ান। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী দুই হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজিত করে ইউপি চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন। এর পরপরই কেন্দ্রীয় কমিটির নজরে আসেন তিনি এবং কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক পদ লাভ করেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসোসিয়েশন ঢাকা বিভাগীয় কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন। এর আগে ইউপি চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় তিনি ইউপি চেয়ারম্যান ফোরামের ঢাকা বিভাগীয় কমিটির মহাসচিব দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও তার পিতা মরহুম হাফিজুর রহমান নন্নী ইউপি’র সদস্য এবং ইউনিয়ন বিএনপিতে দীর্ঘদিন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার জেঠা মরহুম এ্যাডভোকেট হাবিববুর রহমান জীবদ্দশায় সুদীর্ঘ সময় ধরে শেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে গেছেন। বর্তমানে তার বড় ভাই মোস্তাফিজুর রহমান আব্দুল্লাহ উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক হিসেবে রয়েছেন। বোন ফরিদা নাজনীন শ্রীবরদী উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি, অপর বোন জেসমিন আক্তার ঝিনাইগাতি উপজেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি, আরেক বোন সাবিনা ইয়াসমিন বিউটি জামালপুর জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তার ছোট ভাই একেএম মাহবুবুর রহমান রিটন নন্নী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

বাংলার কাগজ