শ্রীবরদীতে কিশোরীকে পতিতালয়ে বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার-১

314

তাসলিম কবির বাবু : শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলাতে চাকুরির প্রলোভনে ফেলে (১৬) বছরের এক কিশোরীকে পতিতালয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের কাকিলাকুড়া-গেরামারা গ্রামে। এঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে রঞ্জু মিয়া (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে শ্রীবরদী থানার পুলিশ। রঞ্জু মিয়া চেঙ্গুরতার গ্রামের আ: বারেক ওরফে দুদা মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে রঞ্জু মিয়াসহ ৩ জনকে চিহ্নিত এবং ২/৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে শ্রীবরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর বাবা প্রায় দুই বছর পূর্বে মারা যায়। বাবা না থাকায় অভাব-অনটনে দিন কাটত তাদের পরিবারের। কিশোরীর মা চায়ের দোকান করে জীবিকার নির্বাহ করতো। গত ২৮ মার্চ  সংসারে অভাব অনটন নিয়ে কিশোরীর মায়ের সঙ্গে কিশোরীর ঝগড়া হয়। কিশোরীকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে একই এলাকার স্বাধীন, রঞ্জু মিয়া ও মুরাদুজ্জামান ওরফে ফুডা মিয়া সহ বেশ কয়েকজন মিলে ওই কিশোরীকে কৌশলে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে ময়মনসিংহ নিয়ে অজ্ঞাতনামা বাড়িতে রেখে চলে আসে। ওই বাড়িতে থাকা ১ জন মহিলা কিশোরীকে দেহ ব্যবসা করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায়ে ওই কিশোরী কান্নাকাটি করায় এবং দেহ ব্যবসায় রাজি না হওয়ায় ৩১ মার্চ ওই মহিলা তাকে শেরপুরগামী সোনার বাংলা বাসে তুলে দিলে সে বাড়িতে চলে আসে। পরে কিশোরী তার মাকে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত করেন। কিন্তু বিষয়টি ধামাচাপা দিতে স্বাধীনের পিতা মুছা সহ এলাকার প্রভাবশালী কয়েকজন কিশোরী ও তার মাকে চাপ সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ের ৭ এপ্রিল বুধবার রাতে পুলিশ সংবাদ পেয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে রঞ্জু মিয়াকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

এব্যাপারে শ্রীবরদী থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ৮ (২)/১১ ধারায় মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে রঞ্জু মিয়া নামে ১জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।