শ্রীবরদীতে ধান ক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে কৃষক নিখোঁজ : অতঃপর ৫ দিন পর লাশ উদ্ধার

218

তাসলিম কবির বাবু : শেরপুর জেলার শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী সীমান্ত এলাকায় নিখোঁজের ৫ দিন পর কৃষক জহির উদ্দীনের (৭৩) এর অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার করেছে ঝিনাইগাতী থানার পুলিশ। পাহাড়ি জঙ্গলে কেরোসিনের গন্ধ পেয়ে লাশের সন্ধান পায় স্বজনরা। ৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলার তাওয়াকোচা পাহাড়ি টিলার নিচে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় ওই কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত কৃষক জহির উদ্দিন শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তঘেষা খাড়ামোড়া গ্রামের মৃত ছায়েদ আলীর ছেলে। গত ৩ অক্টোবর রোববার রাতে ধান ক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন।

নিহতের স্বজনেরা জানান, গত রোববার সন্ধ্যায় ধান ক্ষেত পাহারা দেয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় জহির উদ্দিন। পরদিন সে আর বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনেরা তাকে খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে এলাকায় মাইকিং করা হয় এবং খোঁজাখুজি অব্যাহত থাকে। পরে ওই ঘটনায় জহিরের ভাই মহসীন আলী শ্রীবরদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহতের বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার পূর্বদিকে ঝিনাইগাতী উপজেলার পাহাড়ি এলাকা তাওয়াকোচার পাথরের ঘোচা নামক স্থানে পাহাড়ি টিলার নিচে কেরোসিনের গন্ধ পায় নিহতের ছেলে জাকির হোসেন। পরে সে সেখানে গেলে মাটিচাপা অবস্থায় লাশের সন্ধান পায়। বিষয়টি শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী থানার পুলিশকে অবগত করা হয়। পরে ঝিনাইগাতীর থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এদিকে তার স্বজনেরা লাশটি জহিরের বলেন শনাক্ত করেন। ৮ অক্টোবর শুক্রবার সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

নিহতের ছোট ভাই মহসীন আলী ও ছেলে জাকির হোসেনসহ স্বজনদের দাবি, চোরাকারবারিরা বা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কেউ তাকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রেখেছিল ওই স্থানে।

ঝিনাইগাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ফয়েজুর রহমান বলেন, এঘটনায় থানায় মামলা রুজুর প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধার হওয়া লাশটি অর্ধ গলিত। দুর্বৃত্তরা কৃষক জহিরকে হত্যা করে তার লাশ পাহাড়ে মাটিচাপা দিয়ে রেখেছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। রহস্যজনক এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement
Print Friendly, PDF & Email
sadi