শ্রীবরদীতে যুব উন্নয়নের প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছে এক যুবক

36

শ্রীবরদীতে যুব উন্নয়নের প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছে হেলাল উদ্দিন নামের এক যুবক। সে উপজেলার রানিশিমুল ইউনিয়নের টেংগর পাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে। পরিবারের আর্থিক দৈন্যতা আর অস্বচ্ছলতার কারণে হেলাল এস.এস.সি পাশ করার পর আর পড়াশুনা করতে পারেনি। আর্থিক অনটনের সংসারে কোন উপায় না পেয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে ২০০৩ সালে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর শেরপুর থেকে গবাদী পশুর প্রাথমিক চিকিৎসা, মৎস্য চাষ ও হাঁস-মুরগি পালনের উপর ৩ মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। প্রশিক্ষণ শেষে যুব উন্নয়ন থেকে প্রথম দফায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ভায়াডাঙ্গা বাজারে ঔষধের দোকান দিয়ে গবাদী পশুর প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করে। কিছু দিনের মধ্যে তার নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পরে। এ পেশাতে সে সফলতা অর্জণ করে। আরো লাভবান হওয়ার জন্য দ্বিতীয় দফায় ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পোলট্রি খামার করে। নিজের কর্মের প্রতি আতœ বিশ্বাস রেখে কঠোর পরিশ্রম করতে। আস্তে আস্তে পোলট্রি খামারটিও উৎপাদনে আসে। এতেকরে তার কর্মস্পৃহা আরো বেড়ে যায়। পোলট্রি খামারের বিষ্টা থেকে বায়োগ্যাস প্লান্ট তৈরি করে। এ গ্যাস নিজের চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন হোটেল ও চায়ের দোকানে সংযোগ দিয়ে বাড়তি টাকা উপার্জন করছে এই আতœ প্রত্যয়ী যুবক। টাকা উপার্জনের নেশায় আবারো যুব উন্নয়ন থেকে ৭৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মৎস্য খামার করে বিভিন্ন প্রজাতীর মাছ চাষ করে অধিক লাভবান হয়েছেন। ২০ শতাংশ জমিতে ফলদ বৃক্ষের বাগান করেছেন। বাগান থেকে নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়েও তার বাড়তি আয় হচ্ছে। তার এসকল প্রকল্পে এলাকার ১০ জন বেকারের আতœকর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের স্বাবলম্বী করার জন্য ৩টি ব্যাচে মোট ৯০ জনকে হাঁস-মুরগি পালন ও গরু মোটাতাজা করণ প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। এ প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার সফলতার খবর পেয়ে ২০ সেপ্টেম্বর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) জাহাঙ্গীর আলম, সহকারি পরিচালক (প্রশিক্ষণ) খন্দকার মো. রওনাকুল ইসলাম, শেরপুরের উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদ ও শ্রীবরদী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হামিদুর রহমান তার খামারের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শণ করে সফল আতœকর্মী হেলালকে আরো উৎসাহিত করেছেন। এলাকার সকলের কাছে হেলাল উদ্দিন এখন আলোচনার পাত্র। এনিয়ে হেলাল উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এক সময় আমার পরিবারে অভাব অনটন ছিল। বর্তমানে আমার কোন প্রকার অভাব নাই। আমার বিভিন্ন খামারে কাজ করে আরো ১০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। এতেকরে আমি অনেক আনন্দিত।