শ্রীবরদী বালিজুরি খ্রিস্টান পাড়ায় বন বিভাগ কর্তৃক ফসল কাঁটার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন

51

জিএইচ হান্নান : শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তঘেষা বালিজুড়ি খ্রিস্টান পাড়ায় ১২ আগস্ট বন বিভাগ কর্তৃক গারো আদিবাসী ৫টি পরিবারের আবাদি ফসল কাটার পরিপ্রেক্ষিতে আদিবাসী প্রতিনিধি দল ও নাগরিক সমাজ সরেজমিন পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে।

শেরপুর জেলা শহরের মাধবপুর শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ২৪ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুর ১টায় ঢাকা থেকে আসা আদিবাসী প্রতিনিধি দলের নেতৃবৃন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ড. জোবাইদা নাসরিন কণার সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ফারহা তানজীম তিতিল।

এসময় তিনি উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরি খ্রিস্টান পাড়ায় বন বিভাগের লোকজন কর্তৃক ৫টি গারো আদিবাসী পরিবারের ফসল কেটে দেয়া হয়েছে। এতে আদিবাসী পরিবার গুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শুধু তাই নয় তারা এখন উচ্ছেদ আতংকে রয়েছেন। বন বিভাগের এমন কর্মকান্ডের ঘটনায় সরেজমিন পরিদর্শন করে স্থানীয় আদিবাসীদের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছেন। বনের মানুষের ক্ষমতায়নের জন্য সামাজিক বনায়ন করা হচ্ছে তা বাস্তবে সরকারি এবং বন বিভাগের অবিবেচনা প্রসূত সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশের বন ভূমি আজ ধ্বংস হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বালিজুরি খ্রিস্টান পাড়ায় গারো আদিবাসীদের ফসল কাটা হয়েছে, এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তাই কখনো মধুপুরের বাসন্তী রেমার কলা বাগান কাটা এবং বালিজুরি খ্রিস্টান পাড়ায় পয়মনি চিরানের বরবটি ক্ষেত দখল করা একই সূত্রে গাঁথা। এছাড়াও তিনি অভিযোগের সুরে বলেন, কখনো কখনো বন বিভাগের লোকজন সরকারি গাছের হিসেব মিলাতে না পেরে নিরীহ আদিবাসীদের নামে মিথ্যা বন মামলা দিয়েও হয়রানী করে যাচ্ছেন।

পরে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে আদিবাসী নেতৃবৃন্দরা বলেন, প্রতিনিধি দল বালিজুরির ঘটনা নিয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ মোমিনুর রশীদ এর সাথে মঙ্গলবার সকালে তার কার্যালয়ে স্বাক্ষাৎ করেছেন। এসময় জেলা প্রশাসক তাদের আশ্বস্থ করে বলেছেন, বালিজুড়ি খ্রিস্টান পাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসীদের পাশে তিনি দাঁড়াবেন এবং তাদের সহযোগিতা করা হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়াও যারা উচ্ছেদ আতংকে রয়েছে তাদের উচ্ছেদ করা হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের ভূমি ও আইন সম্পাদক উজ্জল আজীম, আদিবাসী এলআরডি সংস্থার এডভোকেট বুলবুল আহমেদ, আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক সদস্য সচিব চঞ্চনা চাকমা, শেরপুর জনউদ্যোগ আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ।

এছাড়াও সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেরাজ উদ্দিন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা শেরপুর জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক জিএইচ হান্নান, প্রেসক্লাব যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন সোহেল, কার্যকরি সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক দেবাশীষ সাহা রায়।

সংবাদ সম্মেলনে জনউদ্যোগ সদস্য সচিব ও সাংবাদিক হাকিম বাবুল, আদিবাসী কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় আদিবাসী নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement
Print Friendly, PDF & Email
sadi