শ্রীবরদী হাসপাতালে ডাক্তার সংকট : চিকিৎসাসেবা চলছে স্বাস্থ্য সহকারী দিয়ে

73

স্টাফ রিপোর্ট :
নামে ৫০ শয্যা। ডাক্তার নেই। নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী। আগত রোগীদের নির্ভর করতে হচ্ছে স্বাস্থ্য সহকারীদের উপর। সামন্য অসুখ নিয়েও দৌড়াতে হচ্ছে ১৮ কিলোমিটার দূরে জেলা সদরে। নামে ৫০ শয্যা হলেও বাস্তবে ৩১ শয্যার জনবলও নেই সীমান্তবর্তী প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ অধ্যুষিত উপজেলার এ হাসপাতালের।

sreebardi upazila helth complex 2

জানা গেছে, পাকিস্তান আমলে নির্মিত হয় ২৯ শয্যার শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। পরবর্তীতে ১৭ ডিসেম্বর ২০১০ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যার উদ্বোধন করা হয়। কিন্তু ৫০ শয্যার সেবা তো দূরে থাক হাসপাতালের মোট ২৪ টি ডাক্তারের পদের বিপরীতে কাগজে কলমে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন । উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা. মজিবুর রহমানকে সার্বক্ষনিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। বাস্তবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী দেখেন ডেন্টাল সার্জন রুনিয়া ইশরাত, মেডিকেল অফিসার ডা. মির্জা মাসরুর হক, এ্যানেসথেসিস্ট ডা. নায়লা হোসেন। উপজেলার ১০ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ৪ টি ডাক্তার শূন্য। আরএমও দীর্ঘদিন থেকে তেজগাঁও হাসপাতালে প্রেষণে থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও‘র দায়িত্ব পালন করছেন কেকেচর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. আনিসুর রহমান। ডাক্তার সংকটে জোড়াতালি দিয়ে চিকিৎসা সেবা চললেও দীর্ঘদিন থেকে ডেপুটেশনের আছেন ডা. সুবির কুমার নন্দী, ও ডা.ওবায়দুল হক (হোমিও) ।

অপরদিকে উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের মধ্যে সিংগাবরুনা, কাকিলাকুড়া, গোসাইপুর, কুড়িকাহনীয়া এ ৪ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তার নেই। বাকী ৬ টির মধ্যে রাণীশিমুল ইউনিয়নে ডা. মমিনুর ইসলাম, তাতিহাটি ইউনিয়নে তাজকিয়া তাসনিম আহমদ, শ্রীবরদী ইউনিয়নে ডা. মিজানুর রহমান, ভেলুয়া ইউনিয়নে ডা. সৈয়দ আলী আহাদ, কেকেরচর ইউনিয়নে ডা. আনিসুর রহমান ও গড়জরিপা ইউনিয়নে ডা. সুবির নন্দী দায়িত্বে রয়েছে। কিন্তু ডা. সুবীর নন্দী দীর্ঘদিন থেকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কেকেরচর ইউনিয়নের ডা. আনিসুর রহমান উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আরএমও‘র দায়িত্ব পালন করছেন। বাকী ডাক্তারদের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সংযুক্ত করায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো থাকছে ডাক্তার শূন্য। অপরদিকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নিয়োগপ্রাপ্ত মেডিকেল এ্যাসিটেন্সরাও রোগী দেখছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। এতে ইউনিয়নবাসীরাও স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সুত্রমতে, ইউএইচ এন্ড এফপিও ১টি, জুনিয়র কনসালটেন্ট ১০টি, আরএমও ১টি, সহকারি সার্জন (সমমান) ১১ টি, ১টি অল্টারনেটিভ মেডিকেল অফিসার ও ১ টি ডেন্টাল সার্জনের পদ সহ ২৪ টি পদ রয়েছে। ১০ টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রয়েছে আরও ১০ টি সহকারী সার্জনের পদ। এছাড়া ৩য় শ্রেনীর ১১৪ টি পদের বিপরীতে ৩৮ জন, ৪র্থ শ্রেনীর ২৩ পদের বিপরীতে ১৩ টি এবং নার্সিং সুপারভাইজার ও মিডওয়াইফেরী ৪ টি পদের ৪টিই শূন্য রয়েছে। অপরদিকে ইউনিয়ন পর্যায়ে সহকারীর ২৯ টি ও ফার্মাসিস্টের ১ টি পদ শূন্য রয়েছে। নেই প্যাথলজিস্ট ও কার্ডিওগ্রাফার।

নিয়মানুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা অর্থোপেডিক্স, হৃদরোগ, গাইনী এন্ড অবস, সার্জারী, শিশু বিভাগ থাকার কথা থাকলেও লোকবলের অভাবে তা চালু হয়নি। প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও জনবল না থাকায় বছরের পর বছর পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকা মূল্যের আধুনিক এক্সরে, ওটি ও প্যাথলজি বিভাগের সরঞ্জমাদি। কাজ চলছে মান্দাতার আমলের ১৫০ এমএম এক্সরে মেশিন দিয়ে । ইনডোরের বেড ভাঙ্গাচুরা। বিছানার ফোম, চাদর ছেড়া। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারদিকে ময়লার ভাগার। দুর্গন্ধে রোগীরা আরো অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। রয়েছে চোরের উপদ্রব।

৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অরগানোগ্রামে ২ টি এ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা থাকলেও রয়েছে একটি। সেটিও অর্ধবিকল। প্রায় সময় নষ্ট থাকে। দুরে কোথাও যেতে পারে না। নিয়মানুযায়ী ৪ টি মোটর সাইকের, ২ টি এয়ারকন্ডিশনার, ১ টি ফটোকপিয়ার, ৫ টি কম্পিউটার, ২টি প্রিন্টার, ১টি ফ্যাক্স ও ৫ টি ফ্রিজ থাকার কথা থাকলেও তা দৃশ্যমান নয়।

sreebardi upazila helth complex 3

সরজমিনে মঙ্গলবার শ্রীবরদী হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে আইটডোরে শতাধিক রোগীর ভীড়। ৫০ শয্যার নতুন ভবনে নিচের তলার বিভিন্ন রুমে রোগী দেখছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারীরা। আর জরুরী বিভাগ চালাচ্ছে ওয়ার্ডবয়রা। বিভিন্ন কক্ষে ময়লার স্তুপে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন ঔষধ। ২য় ও ৩য় তলা পরিনত হয়েছে বখাটেদের আড্ডাখানায়। বাথরুমগুলো ভেঙ্গে যাওয়ায় রুমেই যত্রতত্রভাবে মানুষ সারছে প্রাকৃতিক কাজ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান গত রবিবার এ প্রতিনিধিকে জানান, তিনি নতুন এসেছেন। হাসপাতালটি ৫০ শয্যার উদ্বোাধন করা হলেও ২০০৯ সালের পর সরকার ৫০ শয্যার জন্য নতুন করে জনবল দেয়নি। তাই ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে। ৫০ শয্যার অনেক চিকিৎসা সরঞ্জমাদি লোকবল না থাকায় বাক্সবন্দি রয়েছে। পূর্ণাঙ্গভাবে ৫০ শয্যার কার্যক্রম চালু করতে আমরা নিয়মিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র পাঠাচ্ছি।