সংগীতাঙ্গনে নেই সুখবর

39

সংগীতাঙ্গনে নেই সুখবর। খারাপ খবরের সংখ্যাই কেবল বাড়ছে। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সব থেকে খারাপ খবর হলো গানের ওয়েলকাম টিউন থেকে আয়ের পরিমাণ এক বছরে কমেছে আশি ভাগ। অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো এমনটাই দাবি করছে। আর এ কারণেই গত এক বছরে গান প্রকাশের সংখ্যা কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত বছর গান প্রকাশের যে হিড়িক দেখা গিয়েছিল, বর্তমানে তার অবস্থা ঠিক উল্টো। নতুন গান কিংবা অ্যালবাম প্রকাশের সাহস পাচ্ছে না কোম্পানিগুলো। কারণ গত বছরের বিনিয়োগই উঠে আসেনি এখন পর্যন্ত। আর বিনিয়োগ না উঠলে নতুন গানে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না। চলতি বছর হাতে গোনা বাণিজ্যিকভাবে সফল কয়েকজন শিল্পীর সিঙ্গেল কেবল প্রকাশ পেয়েছে। তাও জানা গেছে এ গানগুলো গত বছর থেকেই ছিল পাইপলাইনে। এখনও যে গানগুলো প্রকাশ হচ্ছে সেগুলো আগে থেকেই পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ করা। নতুনভাবে গান প্রকাশের উদ্যোগ একেবারেই কমে এসেছে। তারই উদাহারণ ছিল গত ঈদ। গেল কোরবানির ঈদে একেবারেই হাতেগোনা কিছু গান প্রকাশে হয়েছে, যেটা ছিল কম গান প্রকাশের একটি রেকর্ডও বটে। এদিকে ঈদের পর অবস্থা আরও করুণ। ঈদের পর থেকে যে গানগুলো প্রকাশ হয়েছে তার বেশির ভাগই শিল্পী কিংবা আয়োজকদের নিজস্ব বিনিয়োগে করা। আসিফ, তাহসান, হাবিব, হৃদয়, ইমরান, কাজী শুভ, এফ এ সুমন, মিনার, তানজীব সারোয়ার, ইলিয়াস, ন্যান্‌সি, কনা, পূজাসহ মাত্র কয়েকজন শিল্পীর গানেই কেবল কোম্পানি বিনিয়োগের সাহস দেখাচ্ছে। কারণ চলতি সময়ে এসব শিল্পীর গান থেকেই বিনিয়োগ উঠে আসার স্বপ্ন দেখছেন অডিও প্রযোজকরা। এদিকে এই সময়ে সিনিয়র শিল্পীরা তেমন একটা গান প্রকাশ করছেন না। হাতেগোনা কয়েকজন শিল্পী কেবল নতুন গান প্রকাশের পরিকল্পনা করছেন। গানের চলতি সময় প্রসঙ্গে এমআইবি সভাপতি ও লেজারভিশনের চেয়ারম্যান এ কে এম আরিফুর রহমান বলেন, একটি গান থেকে যদি লভ্যাংশ দূরে থাক, বিনিয়োগটাই না উঠে তাহলে নতুন গানের প্রতি বিনিয়োগের সাহস করাটা দুরূহ ব্যাপার। এখন সেটাই হচ্ছে। গত এক বছরে ওয়েলকাম টিউন থেকে আয় কমেছে উল্লেখযোগ্যহারে, যেটা সবচেয়ে বড় ক্ষতির বিষয় আমাদের জন্য। আর গত বছর দুয়েকটি কোম্পানি শেয়ার বাজারের মতো বিনিয়োগ করেছে, যার ফলে গান প্রকাশের যে ধারাবাহিকতা ছিল সেটা ব্যাহত হয়েছে। তিন-চারগুণ বেশি সম্মানী দিয়ে যে শিল্পীদের দিয়ে তারা গান করিয়েছে, তাদের গানই এখন অনেকে করতে পারছে না। এটা অডিও ইন্ডাস্ট্রির চলতি অবস্থার অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করি। তারপরও আমরা সেলফোন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় মিটিং করছি। ওয়েলকাম টিউনের যে নিয়ম সেটা যেন গ্রাহকদের জন্য সহজ করা হয়। আশা করছি একটা ফল দ্রুতই মিলবে। চলতি বাজার অবস্থা সম্পর্কে সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী বলেন, দেখুন, বাজারের উত্থান-পতন থাকবেই। এটা সব জায়গায় আছে। উত্থান হলেই কেবল থাকবেন, আর পতনের সময় চুপটি মেরে বসে থাকবেন সেটা তো হয় না। আর সেটাই যদি হয় ইদানীং দেখছি বেশ কিছু পুরোনো কোম্পানি নতুন করে অডিও প্রকাশনায় নেমেছে। সেটা কিভাবে হচ্ছে! ব্যবসা যদি বছরের পর বছর না হয় তাহলে কোম্পানিগুলো টিকে আছে কি করে? আর চলতি অবস্থা যদি খারাপ হয় সেটা কাটিয়ে উঠানোটাও কোম্পানিগুলোরই দায়িত্ব। আমি আশা করবো তারা সেটা করবে। কোম্পানি ও শিল্পীরা একে অপরের পরিপূরক। কেউ কারও শত্রু নয়। একই পরিবারের সদস্য। সুতরাং আমরা দু’পক্ষই একে অপরের কথা ভাববো, প্রয়োজনে এক টেবিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে সব সমাধান করবো। সংগীতকেতো বাঁচাতে হবে। সেই দায়িত্ব আমাদের সকলের।