সংলাপে ১১ দফা প্রস্তাব দেবে আওয়ামী লীগ

29

বার্তা ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে আওয়ামী লীগ ১১টি প্রস্তাব দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এটা গোপন কিছু নয়। গতকাল মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে যোগদান করা নতুন সচিব মো. নজরুল ইসলামকে বরণ এবং বিদায়ী সচিব এমএএন ছিদ্দিককে বিদায় জানানো অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। এদিকে প্রস্তাবে কী থাকতে পারে সে প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, আওয়ামী লীগের প্রস্তাবে থাকবে অভিন্ন পোস্টার ও নির্বাচনী এলাকায় একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জনসভার আয়োজন করা। সেখানে নামের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী প্রতিটি দলের প্রার্থীরা নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরবেন। এ অভিন্ন সমাবেশ একাধিকবারও হতে পারে। এ ছাড়া প্রার্থীদের জামানত ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা, নির্বাচন কমিশন থেকে প্রার্থীদের নির্দিষ্ট একটি ‘টোকেন মানি’ সরবরাহ, নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ, নির্বাচন কমিশনের বাজেট স্বাধীনভাবে খরচ করতে দেয়ার বিষয়গুলোও ক্ষমতাসীন দলের প্রস্তাবে থাকবে। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে স্পষ্ট যুক্তি তুলে ধরবে আওয়ামী লীগ। বলা হবে, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার প্রধান থাকলেও তিনি শুধু রুটিনমাফিক কাজ করবেন। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলেই সব ক্ষমতা ইসির কাছে থাকবে। সব পর্যায়ের রদবদলের দায়িত্বেও থাকবে নির্বাচন কমিশন। সেনা মোতায়েনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, নির্বাচন কমিশন পরিস্থিতি বিবেচনা করলে সেনা মোতায়েন করতে পারে। তবে তা হবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে। তাদের হাতে কোনমতেই বিচারিক ক্ষমতা দেয়া যাবে না। এদিকে গতকাল সংলাপ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বিএনপি সংলাপে গেছে, এটা রাজনীতির জন্য ইতিবাচক। আশা করি তারা আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। বিএনপির উদ্দেশে তিনি আরো বলেন, আমরা দুর্বলকে পরাজিত করে জিততে চাই না। আমরা শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে বিজয়ী হতে চাই। নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তারা ভুল করেছে সে ভুল বিএনপি আবার করবে বলে আমার বিশ্বাস হয় না। বিএনপি একটা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তারা একটি বড় দল। নির্বাচনে বিএনপি আসুক এটা আমরা মনে প্রাণে চাই। এ সময়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী সড়ক-মহাসড়ক রক্ষায় যানবাহনের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ, সড়ক সংস্কারে গুণগতমান সুরক্ষা এবং পরিবহনে শৃঙ্খলা বিধানকে অগ্রাধিকার বিবেচনার নির্দেশ দেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে। সড়ক রক্ষায় এক্সেললোড কন্ট্রোল নীতিমালা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে যানবাহনের অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তিনি বলেন, পরপর তিন দফা বন্যায় দেশের সড়ক-মহাসড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক সড়ক অপ্রত্যাশিতভাবে অকালে নষ্ট হচ্ছে। সড়ক সংস্কারে গুণগতমান রক্ষায় তিনি এ সময় সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমান, বিআরটিসি’র চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ভুঁইয়া, ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আহম্মদ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।