‘সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ডের প্রয়োজন নেই’

44

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, সাংবাদিকদের জন্য নতুন কোনো বেতন কাঠামোর প্রয়োজন নেই। গতকাল সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)- এর নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড আননেসেসারি, টোটালি আননেসেসারি। বিকজ ইয়োরস স্যালারি স্কেলস আর বেটার দ্যান গভর্নমেন্ট স্যালারি স্কেলস (সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড অপ্রয়োজনীয়, পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয়। কারণ বর্তমানে আপনাদের বেতন কাঠামো সরকারি বেতন কাঠামোর চেয়ে বেশি)। মুহিতের কথা শোনার পর এক সাংবাদিক পত্রিকার মালিকরা আপনাকে ভুল বুঝিয়েছে- এমন মন্তব্য করার পর তিনি বলেন, আপনারা একজন বা দুজন দায়িত্ব নেন, আপনাদের স্যালারি গ্রেড আমাকে দেন। টেলিভিশনে ওয়েজ বোর্ড নেই, সব পত্রিকায়ও ওয়েজ বোর্ড কার্যকর নেই- এটা জানানোর পর পাল্টা প্রশ্নে মুহিত জানতে চান, ঢাকায় কয়টি দৈনিক পত্রিকা আছে? একজন সাংবাদিক উত্তরে ২০১টি বললে মুহিত বলেন, রাবিশ, ইটস মাই আনসার টু ইউ। রাবিশ। ২০১? চিৎকার করে কথা বলার সময় অর্থমন্ত্রীর শরীর তখন কাঁপছিল। তাকে থামানোর উদ্যোগ নেন তথ্যমন্ত্রী ইনু। মুহিতের ঘাড়ের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, স্যার ঠিক আছে। অর্থমন্ত্রী মুহিত এরপর বলেন, ১৫টি হবে কি না আমার সন্দেহ আছে, ২০টি হতে পারে বড় জোর। এই যে পাঁচশ কতটা কী আছে খবরের কাগজ, অল বোগাস, ওদের জন্য বেতন স্কেল ঠিক করব? নো, নট অ্যাট অল। আই উইল ফিক্সড দি বেতন স্কেল ফর দিস ফিফটিন অর টোয়েন্টি নিউজ পেপারস, যেখানে মানুষজন কাজ করে এবং এগুলোতে কী স্যালারি স্কেল আছে আমাকে একটা দেন। নিয়মনীতি না মেনে কীভাবে পত্রিকাগুলো চলছে- জানতে চাইলে মুহিত বলেন, কাগজ পায়, এটা পায়, ওটা পায়। এই পর্যায়ে মুহিত আবারও বলেন, আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আমাদের ধারণা হলো, সাংবাদিকদের জন্য কোনো ওয়েজবোর্ডের প্রয়োজন নেই। টেলিভিশনে সাংবাদিকদের বেতন কীসের ভিত্তিতে নির্ধারণ হবে- এ প্রশ্নে মুহিত বলেন, তাহলে পথে টেলিভিশনগুলো মরে যাবে, ডিজায়ারেবল ফর দ্য কান্ট্রি। দুনিয়ার কোনোখানে এতগুলো টেলিভিশন স্টেশন আছে, কোনো দেশে? নতুন নতুন টিভির অনুমোদন তো আপনারাই দিয়েছেন- এক সাংবাদিক বলার পর মুহিত বলেন, এতগুলো টেলিভিশন স্টেশন আছে এগুলো থাকবে না, অটোমেটিক্যালি এগুলো মরে যাবে। কত প্রফেশন আছে দেশে? কার জন্য ওয়েজবোর্ড করি। গভর্নমেন্ট সার্ভিস ছাড়া কারও জন্যই ওয়েজ বোর্ড করা হয় না। বেসরকারি খাতের বেতনের ওপর কি সরকারের নিয়ন্ত্রণ আছে- এই প্রশ্নে মুহিত বলেন, নাই। সাংবাদিকদের জন্য ওয়েজ বোর্ড সব সময়ই ছিল- এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, এটা রং, রং। আপনি সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বসুন। এ সময় তিনি বলেন, আপনাদের এত সংগঠন, আমি কার সঙ্গে বসব। জবাবে সাংবাদিকরা বলেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)- এই চার সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বসুন। সাংবাদিকদের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, দেখি, আমি বসবো। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর কথাকাটাকাটি হয়। মালিকদের সঙ্গে কথা বলে আপনি এসব কথা বলছেন, প্রকৃত তথ্য পাননি- একজন সাংবাদিকের এই বক্তব্যের পর মুহিত বলেন, স্যালারি স্কেলটা কী আছে? ইফ আই ফাইন্ড ইট ইজ অ্যাভব দি স্যালারি স্কেলস অব গভর্নমেন্ট, আই শ্যাল নট কন্সটিটিউট অব ওয়েজ বোর্ড। লিসেন, মাই ইন্টারেস্ট ইজ নো ওয়ান শুড বি গিভেন দ্য স্যালারি। এরপর কথা অসমাপ্ত রেখেই চলে যান অর্থমন্ত্রী। এরপর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো আইন তৈরি হয়নি। সুতরাং যেটা ওয়েজ বোর্ড হচ্ছে খবরের কাগজের জন্য। নোয়াবের সঙ্গে বৈঠক বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই মিটিংয়ে আমরা তাদের কথা শুনেছি। কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আমরা সরকারের লোকজনের সঙ্গে পরে বসব। তারপর সিদ্ধান্ত নেবো। এরপর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো আইন তৈরি হয়নি। সুতরাং যেটা ওয়েজ বোর্ড হচ্ছে সেটা খবরের কাগজের জন্য। অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, নোয়াবের সভাপতি প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, সমকাল প্রকাশক এ কে আজাদ, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মর্তুজা আহমেদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, ডিএফপির মহাপরিচালক ইসতাক আহমেদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।