সাগর পাড়ে সাবেকদের ক্রিকেট উৎসব

33

দুপুর ৩টায় খেলা শুরুর কথা ছিল। সেভাবেই খালেদ মাসুদ পাইলটের একমি রাজশাহী মাস্টার্স ও হাসিবুল হোসেন শান্তর এক্সপো অলস্টার্স দলের সাবেক খেলোয়াড়রা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। কিন্তু হঠাৎ ৩ ঘণ্টা সময় এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হলো। কারণ কক্সবাজার শেখ কামাল স্টেডিয়ামের মূল মাঠে পানি জমে যাওয়ায় সেখানে খেলা হবে না। তাই একাডেমির মাঠেই দিনের দুটি ম্যাচ হবে। মাস্টার্স ক্রিকেটের প্রথমদিন তাই দুপুর ১২টা থেকেই সাগর পাড়ের এই স্টেডিয়াম রূপ নিতে শুরু করে সাবেক ক্রিকেটারদের হাটে। জাতীয় টেস্ট দলের প্রথম ম্যাচে খেলেছিলেন পেসার বিকাশ রঞ্জন দাস। সেটিই ছিল তার একমাত্র আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এরপর বদলেছেন ধর্ম, নাম বদলে হয়েছেন মাহমুদুল হাসান রানা। ব্যাংক কর্মকর্তা হয়ে সরে গিয়েছিলেন ক্রিকেট থেকেও অনেক দূরে। কিন্তু গতকাল তাকে দেখা গেল ফের মাঠে। মাঠে নামতে সেকি আকুতি। ধীরে ধীরে মাঠে হাজির হন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় দলের ক্রিকেটার দিপু রায় চৌধুরী থেকে শুরু করে কয়েক বছর আগেও মাঠে খেলা তালহা জুবায়ের, তারেক আজিজদের মতো প্রতিভাবান ক্রিটাররা। দুপুর একটায় আনন্দের বন্যা বইয়ে দিয়ে শুরু হয় ব্যাট-বলের লড়াই। প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছেন পাইলটের দল। শান্তর দল হেরেছে ৪৫ রানের ব্যবধানে। এ ছাড়াও প্রথমদিনে দ্বিতীয় খেলায় অঘটনের শিকার হয়েছে টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হাবিবুল বাশারের টাইটান্স খুলনা মাস্টার্স। তাদের ৫ রানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম মাস্টার্স।
মাঠে যখন লড়াই চলছিল তখন জাতীয় দলের সাকেব অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন, খালেদ মাহমুদ সুজনরাও যেন ফিরে যান তাদের সময়ে। ক্রিকেটের লড়াইয়ের মাঝেও চলতে থাক হাসি-ঠাট্টা আর কুশল বিনিময়।
টস জিতে রাজশাহীকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় অলস্টার্স। ব্যাটসম্যানদের ছোট ছোট বেশ কয়েকটি ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ১৫ ওভারে ৭ উইকেটে ১১৪ রান সংগ্রহ করে রাজশাহী। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২১ রান করেন মাহমুদুল হাসান রানা (বিকাশ রঞ্জন দাশ)। ১৮ রান করে করেন জাভেদ ওমর গোল্লা, হান্নান সরকার ও রাসেদুজ্জামান। রফিকুল ইসলাম ও গোলাম মোস্তফার ব্যাট থেকে এসেছে ১৪ রান করে। জবাবে আলমগীর কবির ও গোলাম মোস্তফার বোলিংয়ের সামনে ১৪.১ ওভারে ৬৯ রানে অলআউট হয়ে যায় অলস্টার্স। ৩ ওভার বল করে মাত্র ১৫ রান দিয়ে মোস্তাফা তুলে নেন ৫টি উইকেট। কম যাননি আলমগীর কবিরও। ৪টি উইকেট নিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন টাইটান্স খুলনা মাস্টার্সকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে ইস্পাহানি চট্টগ্রাম মাস্টার্স। মাঠ প্রস্তুত না থাকায় ম্যাচটি ১২ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে ৯০ রান তুলে হাবিবুল বাশার সুমনের খুলনা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন নিয়াজ মোর্শেদ পল্টু ও হারুন উর রশিদ লিটনের ব্যাট থেকে আসে ২২ রান। ৪ বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে ইস্পাহানি চট্টগ্রাম মাস্টার্স। সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন আজম ইকবালও ১৭ রান আসে একেএম আহসান উল্লাহ হাসানের ব্যাট থেকে। চরম নাটকীয় এই ম্যাচে ব্যাট হাতে দলের জয় নিশ্চিত করা আজম ইকবাল হয়েছেন ম্যাচসেরা।