সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্টে ক্ষমতাসীনদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে

38

দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়ি-ঘরে ও উপাসনালয়ে হামলা এবং সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্টের ঘটনায় ক্ষমতাসীনদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, এই সরকারের আমলে সামপ্রদায়িক উসকানি, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সমপ্রদায়ের দেবালয়ে আক্রমণ ও ভাঙচুর বেশি মাত্রায় সংঘটিত হচ্ছে। এবার দুর্গাপূজার আগেও দেশের বেশকিছু স্থানে মন্দির ও হিন্দু বাড়িতে আক্রমণ করা হয়েছে। এই সমস্ত সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বিনষ্টকারী ঘটনায় ক্ষমতাসীনদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আমি এই সমস্ত অশুভ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও নিন্দা জানাচ্ছি। খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশ ধর্মীয় সমপ্রীতির দেশ। যেকোনো ধরনের অশুভ তৎপরতা সম্পর্কে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বিএনপি এ দেশের প্রতিটি মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, আমরা সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু তত্ত্বে বিশ্বাস করি না। আমরা সবাই বাংলাদেশি- এটাই হোক আমাদের বড় পরিচয়। আমি এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি। খালেদা জিয়া বলেন, যুগ যুগ ধরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপমহাদেশ এবং বাংলাদেশসহ অন্যান্য জনগোষ্ঠীর হিন্দু সমপ্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। দীর্ঘকাল ধরে এই ধর্মীয় উৎসবটি সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশেও দুর্গাপূজা সবসময় উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়। যেকোনো ধর্মীয় উৎসবই মানুষে মানুষে নিবিড় বন্ধন রচনা করে ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগরিত হয়। সব ধর্মের মর্মবাণী শান্তি ও মানবকল্যাণ। মানুষ হিসেবে হিংসা-বিদ্বেষ ও রক্তারক্তি পরিহার করে সমাজে শান্তি ও সাম্য প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হওয়া আমাদের সবার কর্তব্য। তিনি বলেন, দুর্গাপূজার অন্তর্নিহিত বাণীই হচ্ছে- হিংসা, লোভ ও ক্রোধরূপী অসুরকে বিনাশ করে সমাজে স্বর্গীয় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে ন্যায় ও সুবিচার নিশ্চিত হবে। নির্যাতন, নিপীড়ন ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মধ্য দিয়ে যারা সমাজকে, মানব সভ্যতাকে ধ্বংস করতে চায়, প্রতিষ্ঠিত করতে চায় দুঃশাসন তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা এই উপাসনার মূল লক্ষ্য। সেই বাণীকে আত্মস্থ করেই দুর্গাপূজার উৎসবের আনন্দকে সবাই মিলে ভাগ করে নিতে হবে। এদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতাদের শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের তারিখ ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা আলমগীর ২৭শে সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বাড়ির পূজামণ্ডপ, বিকাল ৫টায় ফরাশগঞ্জ নকুল সাহার মন্দির পূজামণ্ডপ, সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকেশ্বরী মন্দির পূজামণ্ডপ এবং রাত ৮টা বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ২৮শে সেপ্টেম্বর মতিঝিল রামকৃষ্ণ মিশন পূজামণ্ডপ ও সবুজবাগ বড়দেশ্বরী কালিমন্দির পূজামণ্ডপ; ড. আবদুল মঈন খান ও সিনিয়র যুগ্ম মহসচিব রিজভী আহমেদ ২৮শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় মির্জাপুর কুমুদিনী ট্রাস্ট পূজামণ্ডপ এবং ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ২৮শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ধানমন্ডি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন।

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা