সিঙ্গাপুরে ডিপথেরিয়ায় বাংলাদেশী শ্রমিকের মৃত্যু, আতঙ্কে অন্যরা

22

পঁচিশ বছরের মধ্যে প্রথমবার সিঙ্গাপুরে ডিথেরিয়ায় মারা গেছেন একজন। তিনি বাংলাদেশী একজন নির্মাণ শ্রমিক। বয়স ২১ বছর। তার নাম জানা যায় নি। ওই বাংলাদেশী গত শুক্রবার মারা গেছেন। তার সঙ্গে সরাসরি একসঙ্গে কাজ করতেন অথবা কাছাকাছি থাকতেন এমন আরো ৪৮ জন শ্রমিককে আলাদা করা হয়েছে পরীক্ষা করার জন্য। বর্তমানে তাদেরকে রাখা হয়েছে খু টেক পুয়াত হাসপাতালে। এদেরকে ডিপথেরিয়া প্রতিরোধী টিকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন ৪৬ জন বিদেশী ও দু’জন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে এক শ্রমিক মারা যাওয়ায় সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশী অন্য শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের একজন নির্মাণ শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলম (২৬)। তিনি ৪ বছর ধরে বসবাস করেন সিমপাং লজ ২ এর একটি ডরমেটরিতে। জাহাঙ্গীর বলেছেন, এখানে অনেক মানুষ বসবাস করে। তাই এ রোগটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি খুব বেশি। ওদিকে থাইল্যান্ডের নির্মাণ শ্রমিক নানথা খোই (৪৭)-ও একই এলাকায় বসবাস করেন ৬ বছর। তিনি বলেছেন, ডিপথেরিয়ায় শ্রমিক মারা যাওয়ার খবরে তিনিও আতঙ্কিত। তিনি বলেন, আমাদেরকে নিয়োগকারীরা এর আগে সার্স ও জিকা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার বিষয়ে জানিয়েছে। বলা হয়েছে যদি মাথা ব্যাথা হয়, শরীরে ব্যাথা হয় এবং জ্বর আসে তাহলে তাদেরকে জানাতে। কিন্তু ডিপথেরিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ সম্পর্কে আমরা জানি না। সিঙ্গাপুরের স্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেছে। ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে সৃষ্ট ডিপথেরিয়া গত ২৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম সিঙ্গাপুরে দেখা দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে বিভিন্ন অনলাইন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মৃত বাংলাদেশী সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের বাইরে যান নি। তাই ধরে নেয়া হচ্ছে তিনি সিঙ্গাপুরের ভিতর থেকেই সংক্রমিত হয়েছিলেন। কিভাবে এই সংক্রমণ দেখা দিয়েছে তা নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খবরে বলা হয়েছে মৃত বাংলাদেশী ইইশুন এভিন্যু ৭ এর একটি ডরমেটরিতে থাকতেন। কাজ করতেন তেবান গার্ডেনসে। গত ৩০ শে জুলাই তার জ্বর হয়। গলা ফুলে যায়। খু টেক পুয়েত হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে চিকিৎসার জন্য। সেখানে তাকে সঙ্গে সঙ্গে আলাদা করে ফেলা হয়। ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। কিন্তু কোনো চিকিৎসাই তাকে বাঁচাতে পারে নি। ৫দিন ভুগে মারা যান তিনি। তার শ্বাসযন্ত্র থেকে কিছু স্যাম্পল নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায় ব্যাকটেরিয়াম পজেটিভ। তিনি ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত। ওদিকে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ডিপথেরিয়া বিষয়ে সতর্কতা জারি করে। সিঙ্গাপুরে ডিপথেরিয়া ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম। কারণ, সেখানে ১৯৬২ সাল থেকে ন্যাশনাল চাইল্ডহুড ইমিউনাইজেশন প্রোগ্রামের অধীনে বাধ্যতামুলক টিকা নিতে হয় সিঙ্গাপুরবাসীর। দু’ বছর বয়সী এমন শিশুদেরও এ টিকা দেয়া হয়। যারা ১৯৬২ সালের আগে জন্ম নিয়েছেন তাদের শৈশবে ছোট আকারে সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে। সংক্রমণ ব্যাধি বিশেষজ্ঞ লিয়ং হোই নাম বলেছেন, ছোট আকারের ওই সংক্রমণ আস্তে আস্তে বিস্তার লাভ করতে পারে। ওদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, কোনো বিদেশী সিঙ্গাপুরে আসার ক্ষেত্রে তারা কোনো টিকা আগে নিয়েছেন কিনা তা জানা বাধ্যতামুলক নয়। কারণ, বেশির ভাগ দেশেই শিশুদের টিকা দেয়া হয়। এর মধ্যে ডিপথেরিয়ার টিকা অন্যতম। সংক্রমণ সৃষ্টিকারী এই রোগটি হলে তাতে মিউকাস মেমব্রেন বা মিউকাস পর্দায় প্রদাহ সৃষ্টি হয়। হৃদযন্ত্রে ও স্নায়ুযন্ত্রের বেশ ক্ষতি করে।