সিদ্দিকের টার্গেট এবার ইউরোপ

30

পোরশে ইউরোপিয়ান ওপেনে অংশ নেয়ার মোট ২০টি ক্যাটাগরি। সবার শেষের ক্যাটাগরিতে জার্মানির এই আসরে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন সিদ্দিকুর রহমান। এর আগে ইউরোপিয়ান ও এশিয়ান ট্যুরের মিলিত টুর্নামেন্ট খেলেছেন সিদ্দিকুর। হামবুর্গের পোরশে ওপেন পুরোপুরি ইউরোপিয়ান ট্যুর টুর্নামেন্ট। যেখানে ইউরোপ ও পিজিএ ট্যুরের গলফাররাই খেলেন নিয়মিত। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩৯৪তম স্থানে থাকা সিদ্দিক চমক দেখিয়েছেন সে আসরেই। শীর্ষে থেকেও শেষ পর্যন্ত ট্রফি জেতা হয়নি। আশা জাগিয়েও সিদ্দিকুর পোরশে ইউরোপিয়ান ওপেনে যৌথভাবে হয়েছেন তৃতীয়। যদিও এনিয়ে আক্ষেপ নেই সিদ্দিকুরের। বলেন, ‘এখানে শুরুতে আমি কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। আস্তে আস্তে যখন সেটা কাটিয়ে উঠি, তখন শুরু হয় বৃষ্টি এ কারণে তৃতীয় রাউন্ডে কিছুটা মনসংযোগে বিঘ্ন ঘটেছিল। শেষ রাউন্ডে আমি এসব কাটিয়ে দারুণ কামব্যাক করেছি। যা আমাকে ভালো একটি ফলাফল উপহার দিয়েছে’।
তৃতীয় রাউন্ড শেষে সিদ্দিকুর ছিলেন দশম স্থানে। সেখান থেকেই শেষ দিনে অসাধারণ খেলে একপর্যায়ে লিডারবোর্ডের শীর্ষে উঠে এসেছিলেন বাংলাদেশের এ গলফার। শেষ রাউন্ডে রোববার একটিও বগি করেননি সিদ্দিকুর, বরং বার্ডি করছেন চারটি। ১৮তম হোলের দ্বিতীয় শটটা জলাশয়ে না পড়লে এককভাবেই হয়তো তৃতীয় হতে পারতেন এশিয়ান ট্যুরের দুবারের চ্যাম্পিয়ন। চার রাউন্ড মিলিয়ে পারের চেয়ে ১১ শট কম খেলে সুইডেনের ইয়োহান এডফর্সের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় হন সিদ্দিক। ২০ লাখ ইউরোর ইউরোপিয়ান ট্যুরের এই টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ইংল্যান্ডের জর্ডান স্মিথ। স্মিথের সমান পারের চেয়ে ১৩ শট কম খেলেছিলেন ফ্রান্সের আলেক্সান্ডার লেভিও। দুই হোলের রোমাঞ্চকর প্লে-অফের মাধ্যমেই আলাদা করা হয় তাদের। শেষ দিনে প্রথম ১২ হোলেই চারটি বার্ডি করে দুইয়ে উঠে আসেন সিদ্দিকুর। ১৩ নম্বর হোলে পারের সমান খেললেও ওই হোল শেষেই যৌথভাবে শীর্ষ উঠে আসেন বাংলাদেশের ৩২ বছর বয়সী গলফার। ১৪ নম্বর হোল শেষে দুইয়ে নেমে যাওয়া সিদ্দিকুর আবার শীর্ষে ওঠেন ১৬তম হোলে। তবে তৃতীয় রাউন্ড শেষে ফলের ভিত্তিতে কিছুটা পরে দিনের খেলা শুরু করা লেভি-স্মিথরা এরপর তাকে ছাড়িয়ে যান।
১৮তম হোলে সিদ্দিকুরের প্রথম শটটা পড়ে ফেয়ারওয়ের কিছুটা বাইরে লম্বা ঘাসের ভেতরে। সেখানে দ্বিতীয় শটটা খেলতে গিয়েই বিপত্তি, বলটা গিয়ে পড়ে জলাশয়ে। ফলে জরিমানা গুনতে হয় এক শট। এরপর দারুণ দুটি শটে পারের সমান খেলেই শেষ হোলটা শেষ করেন সিদ্দিকুর।
ইউরোপে সিদ্দিকের দারুণ কিছু করা অবশ্য এই প্রথম নয়। গত বছর অলিম্পিকে খেলতে যাওয়ার আগে মরিশাস ওপেনে শিরোপার খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন তিনি, শেষ পর্যন্ত হয়েছেন রানার-আপ। ২০১৪ ইউরেশিয়া কাপে তার দারুণ পারফরম্যান্সেই ইউরোপের সঙ্গে যৌথ শিরোপা জেতে এশিয়া। তার আগের বছরই সিদ্দিক তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় এশিয়ান ট্যুর টুর্নামেন্ট জেতেন ভারতে, প্রথমটি জেতেন ২০১০ সালে ব্রুনাইতে। গত বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বসুন্ধরা বাংলাদেশ ওপেনে রানার্সআপ হন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে বজায় রাখতে চান দেশসেরা এই গলফার। আমি বর্তমানে সবকিছু মিলিয়ে দারুণ ছন্দে আছি। এটা ধরে রাখতে পারলে এসব লেভেলেও আমি শিরোপা জিততে পারবো। আমার পরবর্তী টার্গেট সেটা’।