সীমিত পরিসরে কমিটি পুনর্গঠন করবে বিএনপি

22

সীমিত পরিসরে কমিটি পুনর্গঠন করবে বিএনপি। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পর এ উদ্যোগ নেয়া হবে। পূরণ করা হবে স্থায়ী কমিটির তিনটি শূন্য পদ। পদোন্নতি ও রদবদলের মাধ্যমে ডজনখানেক নেতার পদ-পদবিতে আসবে পরিবর্তন। কেন্দ্রীয় কমিটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদলের পাশাপাশি নতুন করে ঠাঁই পাবেন বেশ কয়েকজন তরুণ নেতা। এ সাংগঠনিক পুনর্গঠনের জন্য দেশে ফিরেই দ্রুততম সময়ে দলের বর্ধিত সভা ডাকবেন চেয়ারপারসন। দলটির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র শীর্ষ নেতৃত্বের এমন ইঙ্গিতের কথা জানিয়েছেন। ২০১৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের নতুন কমিটি গঠন করেছিল বিএনপি। কাউন্সিলের আগেই সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন, ড. আর এ গনি ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী মৃত্যুবরণ করায় তিনটি পদ শূন্য হয়েছিল। অন্যদিকে অসুস্থতাজনিত কারণে বাদ পড়েন এম শামসুল ইসলাম ও বেগম সারওয়ারী রহমান। শূন্য এ পাঁচ পদের বিপরীতে নতুন যুক্ত হন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ। দুইটি পদ শূন্য রাখা হয়। কাউন্সিলের পর দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও সে দুই শূন্যপদ পূরণ করেনি বিএনপি। ইতিমধ্যে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ মৃত্যুবরণ করায় আরো একটি পদ শূন্য হয়। বর্তমানে স্থায়ী কমিটির তিনটি পদ শূন্য রয়েছে। দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে ফিরলে সাংগঠনিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে কিছুটা রদবদলের মাধ্যমে কমিটি পুনর্গঠন করবেন। এ ব্যাপারে যদিও দলের তরফে কোনো বক্তব্য আসেনি কিন্তু সূত্রগুলো বলছে, শীর্ষ নেতৃত্ব তেমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। সম্ভাব্য এ পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি কিছু নেতার ব্যাপারে শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজ-খবরও নেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, দলের পঞ্চম ও ষষ্ঠ কাউন্সিলের আগে স্থায়ী কমিটিতে পদোন্নতির ব্যাপারে জোরেশোরেই উচ্চারিত হয়েছিল কয়েকজন সিনিয়র নেতার নাম। ষষ্ঠ কাউন্সিলের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছিল ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের নাম। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাদেক হোসেন খোকা ও মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, এম মোরশেদ খান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান ও মোহাম্মদ শাহজাহানের নামও উচ্চারিত হয়েছে ঘুরে-ফিরে। কিন্তু তাদের কারও ঠাঁই হয়নি দলের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামে। বিশেষ করে স্থায়ী কমিটিতে আবদুল্লাহ আল নোমানের নাম না দেখে অবাক হয়েছিল খোদ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। মনঃক্ষুণ্ন নোমান তখন এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যাননি অনেকদিন। অনুসারীদের তরফে পদত্যাগের চাপ থাকলেও নীরবতাকেই বেছে নেন তিনি। চলতি বছর দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যার সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয়ার মাধ্যমে দলে তার গুরুত্বের বিষয়টি নেতাকর্মীদের সামনে পরিষ্কার করে বিএনপি। দলটির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, সিনিয়র নেতাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো ও তাদের সম্মান দেয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে তাদের মূল্যায়নের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নতুন করে স্থায়ী কমিটিতে পদোন্নতির আলোচনায় রয়েছেন চার ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, মেজর (অব.) হাফিজ ও মোহাম্মদ শাহজাহানের নাম। অন্যদিকে শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে রদবদলের মাধ্যমে এমকে আনোয়ারের স্থান হতে পারে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদে। এ ছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল লতিফ জনি, ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব সহ মাঝারি সারির কয়েকজন নেতার সাংগঠনিক পদোন্নতি হতে পারে। সেই সঙ্গে যুব ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং সম্পাদক পদসহ ইতিমধ্যে দ্বৈতপদ থেকে পদত্যাগ ও মৃত্যুবরণজনিত কারণে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে। দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা ছাত্রজীবনে রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডধারী কিছু ব্যবসায়ীকে জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে যুক্ত করা হবে। এ ছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে। অন্য অঙ্গদলগুলোতেও প্রয়োজনীয় পুনর্গঠন করবেন। বিএনপি নেতারা জানান, দেশে ফিরেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপ এবং নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের ফর্মুলা নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে হবে। তারপর সীমিত পরিসরের সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পর সুষ্ঠু নির্বাচন আদায়ের আন্দোলনমুখী পথে পা রাখবে বিএনপি।

 

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা