সুচির নিন্দা, সহানুভুতি, বিচারের আশ্বাস

36

সারাবিশ্বের সমালোচনার তীর যখন বিদ্ধ করছে তখন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি সব রকম মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সহিংসতার নিন্দা জানালেন। রাখাইনে সহিংসতায় যারা দুর্ভোগে পড়েছেন তাদের সবার প্রতি তিনি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রাখাইনে নির্যাতনের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। সহিংসতার একটি টেকসই সমাধানের বিষয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের ‘স্ক্রুটিনি’তে তিনি ভীত নন। তবে তিনি সেনাবাহিনীর অভিযানের বিষয়ে কোনো কথাই বলেন নি। শুধু বলেছেন, ৫ই সেপ্টেম্বরের পরে আর কোনো সশস্ত্র সংঘর্ষ হয় নি। আর কোনো ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালানো হয় নি। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস নির্যাতন শুরুর পর সারাবিশ্ব অং সান সুচির প্রতি আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে সহিংসতা থামাতে। রোহিঙ্গা নির্যাতনের নিন্দা জানাতে। সর্বশেষ জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্টানিও গুতেরাঁ তাকে সতর্ক করে দেন। তিনি জানিয়ে দেন সুচির জন্য শেষ সুযোগ। তিনি যদি এই সুযোগের সদ্ব্যবহার না করেন তাহলে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে। এরপর প্রথমবার মুখ খুললেন অং সান সুচি। তিনি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন যেদিন শুরু হলো সেই সোমবারকেই তিনি বেছে নিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ওই অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি সক্ষম হন নি। তাই বিশ্ববাসীকে তিনি জানাতে চান, রাখাইনের পরিস্থিতিতে তার সরকার কি করছে। ওই ভাষণে তিনি বলেছেন, রাখাইনের বেশির ভাগ মুসলিম রাজ্য ছেড়ে পালায় নি। রাজ্যের সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সুচি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন (রাখাইন) রাজ্যজুড়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আইন শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। (সহিংসতার) দায় খন্ডিতভাবে কারো ওপর দেয়ার কোনো ইচ্ছা নেই মিয়ানমার সরকারের। একই সঙ্গে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ারও কোনো বাসনা নেই। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, অনলাইন সিএনএন, বিবিসি। এতে বলা হয়, জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেও একটিবারের জন্য রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেন নি সুচি। এ শব্দটি ব্যাপক অর্থে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। গত ২৫ শে আগস্ট রাখাইনে পুলিশ ও সেনাদের অবস্থানে হামলা চালায় আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা)। এরপর সেনারা রোহিঙ্গাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন শুরু করে। তার ফলে চার লাখ ১০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাধ্য হয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। সেনাবাহিনীর এ অভিযানকে জাতিসংঘ জাতি নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে সুচি এ অভিযোগেরও কোনো জবাব দেন নি। তবে তিনি বলেছেন, আমরা অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ শুনছি। সবার কথা শুনতে হবে আমাদের। আমাদেরকে নিশ্চিত হবে হবে, এসব অভিযোগ নিরেট প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। তারপরই আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি। মানবাধিকার লঙ্ঘন, স্থিতিশীলতা, সাম্প্রদাকি সম্প্রতি ও আইনের শাসনকে খর্ব করার বিষয়টি দেখা হবে কঠোরভাবে আইনের আওতায়। জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি আরো বলেন, সহিংসতার শিকার হয়েছেন যেসব মানুষ তাদের সবার প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা প্রকাশ করি। ওদিকে রাখাইনে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে এবং সেখানে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে যেসব মানুষ বাড়িছাড়া হয়েছেন তাদেরকে নিরাপদে বাড়ি ফেরায় সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, নিরাপত্তার পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে। কিন্তু তাদের অভিযানের বিষয়ে কোনোই মন্তব্য করেন নি সুচি। তিনি বলেছেন, সীমান্ত অতিক্রম করে বিপুল সংখ্যক মুসলিম পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে এটা শুনে আমরা উদ্বিগ্ন। কেন তারা দেশ ছাড়ছে তার কারণ অনুসন্ধান করতে চাই আমরা। যারা পালিয়ে গেছেন এবং যারা রয়ে গেছেন তাদের সবার সঙ্গে আমরা কথা বলতে চাই। আমি মনে করি রাখাইনে বসবাসকারী মুসলিমদের বিশাল অংশ এই দেশ ছেড়ে যাওয়ার মিছিলে যোগ দেয় নি। অং সান সুচি আরো বলেন, মুসলিম ও বৌদ্ধ রাখাইন সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতি ফেরানের জন্য তার সরকার সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিন আরো বললেন, তার উদীয়মান গণতন্ত্র অনেক জটিলতার মুখোমুখি। তার মধ্যে রাখাইন রাজ্য একটি। সুচি বলেন, অনেক সমস্যার মুখোমুখি আমরা। আমরা একটি অল্পবয়সী ও দুর্বল (ফ্রাজিল) দেশ। কিন্তু এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে চাই আমরা। আমরা শুধু কিছু মানুষের দিকে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আটকে রাখতে পারি না।

 

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা