সুনামগঞ্জে ওএমএস চালের দাম বৃদ্ধি, অসন্তোষ

35

রোববার থেকে সুনামগঞ্জে বিতরণ করা ওএমএস’র চালের দাম দ্বিগুন করা হয়েছে। প্রতি কেজি চাল শুক্রবার পর্যন্ত ১৫টাকা ধরে বিক্রি করা হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ৩০টাকায়। হঠাৎ দাম বৃদ্ধিতে জেলার ১১০ টি কেন্দ্রেই ক্রেতা ও ডিলারদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি ও কথা কাটাকাটি হয়েছে। দাম বৃদ্ধি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নি¤œ আয়ের মানুষ। অনেক স্থানে চাল না নিয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরেন অনেকে। শাল্লায় ওএমএস’র চালের ক্রেতারা সংঘবদ্ধ হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়েছেন চালের দাম কমানোর দাবি জানাতে।
জানা যায়, বোরো ফসলহানীর পর নি¤œ আয়ের মানুষজন ও কৃষকদের খাদ্য সহায়তা দেবার জন্য গত ৯ এপ্রিল থেকে জেলাব্যাপি ওএমএস’র চাল বিক্রি শুরু হয়। ১৫ টাকা কেজি’র এই চাল কেনার জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ ডিলারদের বিক্রয় কেন্দ্রে গভীর রাত থেকে লাইনে দাঁড়ান। প্রতিটি ডিলার ২শত জনকে জনপ্রতি ৫ কেজি চাল দিতেন।
শুক্রবার পর্যন্ত ওএমএস’র চাল ১৫ টাকা কেজিতে কিনেছেন ক্রেতারা। শনিবার চাল বিক্রি বন্ধ থাকে। রোববার সকালে ওএমএস কেন্দ্রে এসে চাল কেনার জন্য লাইনে দাঁড়ান ক্রেতারা। চাল নেয়ার পর জানতে পারেন চালের দাম বেড়েছে। কেজি প্রতি দিতে হবে ১৫টাকার স্থলে ৩০টাকা। দেখা গেছে, দাম বৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতা খালি হাতে ফিরে গেছেন। আবার অনেকে অর্ধেক চাল নিয়েছেন।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ওএমএসর চালের দাম বাড়ার পর লোকজনের উপস্থিতি ছিল কম। উপজেলার শান্তিগঞ্জ বাজারের ডিলার মুজিবুর রহমান জানান, প্রতিদিন মানুষের ভীড়ের জন্য চাল দিতে কষ্ঠ হতো। কিন্তু দাম বাড়ার পর লোকজন নেই বললে চলে। চালের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান, এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের রেজওয়ান আহমদ বলেন, দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই চাল কিনেছেন আবার অনেকেই না কিনে বাড়ি ফেরৎ চলে গেছেন।

জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে হাওর এলাকায় এমনিতেই কাজ কম। অনেকেই বেকার থাকতে হয়। যারা কাজ পায় তারও মুজুরি বেশি পায় না। এ অবস্থায় চালের দাম ১৫টাকা রাখার দাবি জানান হাওরবাসী। ।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, শনিবার সন্ধ্যার পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানান ১৫ টাকার স্থলে ৩০ টাকা কেজি নির্ধারণ করা হয়েছে চালের মূল্য। রাতে যেখানে যেখানে সম্ভব মাইকিং করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ওএমএস কেন্দ্রে যেসব চাল দেওয়া হচ্ছে, বাজারে ঐ চালের কেজি ৪০ থেকে ৪২ টাকার নিচে নয়।

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা