সেমিফাইনালে বিকেলে মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত পুনরাবৃত্তি না ইতিহাস

38

নয়া ইতিহাসের হাতছানি নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ভারতকে হারাতে পারলেই টাইগারদের ক্রিকেট ইতিহাস যুক্ত হবে সোনালী এক মাইলফলকে। জয় পেলে প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ হবে আইসিসি’র কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে। তবে প্রতিপক্ষ ভারত বলে কথা। আইসিসি’র ওডিআই র‌্যাঙ্কিংয়ে ৩ থাকা দলটি ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তি। বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইন আপের সঙ্গে রয়েছে আক্রমণাত্মক বোলিং। বিরাট কোহলির দলের বিপক্ষে লড়াই করতে প্রস্তুত টাইগাররা। এই পর্যন্ত একদিনের ম্যাচে ৩২ বারের দেখাতে বাংলাদেশের জয় পাঁচটিতে। যার শেষ ২টি এসেছে ২০১৫ সালে। শেষ দেখা ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপে। সেবারও ইতিহাসের জন্ম দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল টাইগাররা। যুযোগ ছিল সেমিফাইনালের খেলাার কিন্তু ভারতের সঙ্গে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। এবারও তাই আছে স্বপ্ন ভঙ্গের ভয়। তবে গেল দুই বছরে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ এখন রাখে যে কোনো দলকে হারানোর ক্ষমতা। তাই এ ম্যাচের আগে দলের প্রধান কোচ হাথুরুসিংহে থাকতে চান নির্ভার। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না আমরা নার্ভাস। সেমি-ফাইনাল খেলছি, এই অনুভূতিটা উপভোগ করছি আমরা। ক্রিকেটার, কোচ সবার জন্যই এটি সুযোগ। আমাদের প্রথম সেমি-ফাইনাল, নিজেদের ফুটিয়ে তোলার দারুণ সুযোগ এটি।’ আজ বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে তিনটায় বার্মিংহামে মুখোমুখি হবে দুই দল।
অন্যদিকে ভারতের অধিনায়ক দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বার্মিংহামে ম্যাচ পেয়ে ভীষণ খুশি। সংবাদ সম্মেলনে কোহলি বলেন, ‘বার্মিংহাম আমাদের খুব পছন্দের একটা মাঠ। আমাদের খেলার ধরনের সঙ্গে এখানকার উইকেট মানানসই। যেই প্রতিপক্ষ হোক, আমরা আমাদের পছন্দের ভেন্যুতেই খেলতে যাচ্ছি। ভাগ্য আমাদের সহায় হবেই। শুধু তাই নয়, এজবাস্টনকে ভারত ক্রিকেট দলের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ উল্লেখ করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। এই মাঠে ৯ ম্যাচের ৬টিতেই জিতেছে ভারত। অন্যদিকে ২০০৪ সালে রাজিন সালেহর নেতৃত্বে এই মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলে টাইগাররা। সেটিও ছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৯৩ রানে অল আউট হয় দল। জবাবে ৯ উইকেটের বড় জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর ২০১০ সালে দ্বিপক্ষকীয় সিরিজে মাশরাফির নেতৃত্বে খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবার দুই সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ড টাইগারদের সামনে লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল ৩৪৭ রানের। বড় টার্গেটে ২০৩ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল মাশরাফির দল। সেই ম্যাচে খেলা তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাকিব আল হাসান, রুবেল হোসেন ও শফিউল ইসলাম আছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এ দলে। কিন্ত এখন তারা অনেক পরিণত। চলতি আসরে ৮ সেঞ্চুরির ৩টিই টাইগারদের। এর মধ্যে ২২৩ রান করে সেরা তিনে আছেন তামিম। এমনকি আসরের সেরা দু’টি জুটিও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের গড়া। ৫ম উইকেটে সাকিব-মাহমুদুল্লাহর ২২৪ রানের জুটি সবার উপরে তারপরই ৩য় উইকেটে ১৬৬ রানের জুটিতে অবদান তামিম-মুশফিকের। এমনকি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানের সঙ্গে তামিম ইকবালের সেঞ্চুরিতে ৩৪১ রান করেছিল টাইগারা। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি হেরে যায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে প্রস্তুতি ম্যাচে ভারতের সঙ্গে মাত্র ৮২ রানে গুটিয়ে গেলেও আজ ব্যাট হাতে অন্য ইতিহাস রচনাতেই বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ।
এখন ভারত-বাংলাদেশ ম্যাচ মানেই যুদ্ধাবস্থা। এটি তো আরও সেমি-ফাইনাল! তবে যুদ্ধ তো বহুদূর, বড় ম্যাচের আবহটাতেই সায় দিলেন না বাংলাদেশ কোচ। তিনি অন্য বার্তাই দিয়েছেন তার শিষ্যদের। তিনি বলেন, ‘দলের সবাই বেশ রিল্যাক্সড। অবশ্যই ম্যাচের দিকে তাকিয়ে ছেলেরা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বলেছিলাম- যে যা কিছুই অর্জন করি এখানে, সেটিই হবে বড় কিছু। যে জায়গায় এসেছি, তাতে আমরা দারুণ খুশি। আমরা আত্মবিশ্বাসী। ম্যাচটিকে যে কোনো ম্যাচের মতোই দেখছি। ছেলেদের প্রতি আমার বার্তা, সুযোগটা দু’হাতে নাও!’ দুই দলের প্রতিশোধের ম্যাচ এমনতো নয়, এমনকি প্রতিপক্ষ ভারতকে নিয়েও ভাবতে রাজি নয় দলের প্রধান কোচ। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিপক্ষ আর উপলক্ষ নিয়ে ভাবছি না। শুধু ভাবছি এটা একটি সুযোগ। বিশ্বকে দেখানোর সুযোগ যে আমরা কি করতে পারি, কতটা এগিয়েছি। আমাদের চাওয়া স্রেফ খেলাটা উপভোগ করা। প্রতিশোধ ধরনের কোনো অনুভুতি আমাদের নেই। স্রেফ খুব ভালো একটি ভারতীয় দলের বিপক্ষে ভালো ক্রিকেট খেলার ব্যাপার। জিততে পারলে আমার জন্য হবে দারুণ আত্মবিশ্বাসের। আমরা শুধু লড়াই করা, নিজেদের সেরাটা দেওয়া নিয়েই ভাবছি। ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে চাই। নিজেদের সামর্থ্যে আস্থা রেখে মাঠে উজাড় করে দিতে চাই।’