সোমালিয়ায় জোড়া বোমা হামলা নিহত ২৩৭, আহত তিন শতাধিক

27

সোমালিয়ায় জোড়া বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২৩৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো তিন শতাধিক। শনিবার দেশটির রাজধানী মোগাদিসুর সাফারি হোটেলের পাশে এই বিস্ফোরণ ঘটে। হর্ন অফ আফ্রিকা অঞ্চলের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা এটি। এতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহি ফারমাজো। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট ও নিউ ইয়র্ক টাইমস। পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর সাফারি হোটেলের বাইরে গাড়ি (ট্রাক) বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয় প্রথমে। জায়গাটি সাধারণত জনাকীর্ণ থাকে। এখানে একাধারে সরকারি কার্যালয়, রেস্টুরেন্ট, টেলিফোনের কেবিন, বেশকিছু উঁচু ভবন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো। বিস্ফোরণের পরপরই আশেপাশে অবস্থিত গাড়িগুলোতে আগুন ধরে যায়। দ্বিতীয় হামলাটি চালানো হয় মেদিনা জেলায়, দুই ঘণ্টা পর। সোমালিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশে অবস্থিত সাফারি হোটেলের পাশে চালানো হামলায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিন শতাধিক মানুষ আহতের খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতালগুলো হতাহতদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর নিহত
হয়েছেন অনেকে। সাবেক অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী আব্দিরিজাক ওমার মোহামেদ, এরদোগান হাসপাতাল থেকে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে ফোনের মাধ্যমে বলেন, হাসপাতালটিতে কমপক্ষে ২৩৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা গেছে। অন্যান্য হাসপাতালে আরও অনেকের মৃত্যু ঘটতে পারে। উল্লেখ্য, বেশিরভাগ আহত ব্যক্তিদের এরদোগান হাসপাতালেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা রেডক্রস জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে সোমালিয়া রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চার স্বেচ্ছাসেবীও রয়েছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। কেননা, অনেক স্বেচ্ছাসেবী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ২২ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছিল পুলিশ। পরে এ সংখ্যা বেড়ে ২৩৭-এ পৌঁছেছে। রোববার পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর ধ্বংসাবশেষে উদ্ধার তৎপরতা চালায়। এর আগে শনিবার রাত্রে কয়েক ডজন মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদেহগুলো এতই বিকৃত ছিল যে, বেশির ভাগেরই পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরিবারের নিখোঁজ সদস্যদের ফিরে পাবার আশায় শত শত মানুষ বিস্ফোরণস্থলে জড়ো হয়। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ওই এলাকা ঘিরে রেখেছে। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, আমি সোমালিয়ার সকল নাগরিকদের এগিয়ে আসার ও সাহায্য করার আহ্বান জানাচ্ছি। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কেউ শনিবারের হামলার দায় স্বীকার করে নি। তবে সোমালিয়া সরকার এ হামলার জন্য জঙ্গি গোষ্ঠী আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট বাহিনী আল-শাবাবকে দায়ী করেছে। সরকার থেকে এ ঘটনাকে ‘জাতীয় দুর্যোগ’ বলে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাব রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত হামলা চালিয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী হাসান আলী খাইর বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে তাদের কোনো চিন্তা নেই। সোমালিয়ার বাবা-মা, সন্তানদের জীবন নিয়ে তাদের চিন্তা নেই। তারা মোগাদিসুর সবচেয়ে জনাকীর্ণ এলাকাটিতে হামলা চালিয়েছে। হত্যা করেছে শুধু বেসামরিক নাগরিকদের। সোমালিয়ার তথ্যমন্ত্রী আব্দি রহমান ওমার বলেন, এ শহরে এর চেয়ে বড় কোনো বিস্ফোরণ কখনো ঘটেনি। এটা একটি শোকের দিন। তারা এতটাই নিষ্ঠুর আর নৃশংস। আমাদেরকে তাদের বিরুদ্ধে এক হতে হবে। এ হামলার প্রতি নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। অনেক দিন ধরেই আল-শাবাব জঙ্গিগোষ্ঠী সোমালিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকার ও তার আফ্রিকান মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আসছে। এই গোষ্ঠী দুর্বল প্রশাসনকে উৎখাত করে ইসলামী চরমপন্থা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা