সোমালিয়ায় হামলায় নিহত ৩ শতাধিক, বৈশ্বিক সংহতি কোথায়?

39

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে শনিবার শক্তিশালী এক বোমা বিস্ফোরণে ৩ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। আহতদের সংখ্যাও তিন শ’রও বেশি। দেশটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। কয়েক ডজন মানুষ এখনও নিখোঁজ। হাসপাতালগুলোতে রক্ত আর পাওয়া যাচ্ছে না। দেশজুড়ে বাড়ছে ক্ষোভ।

কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে, এই হামলার হতাহতদের প্রতি বৈশ্বিক সংহতির লেশমাত্র দেখা যাচ্ছে না কেন?
এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে ভয়াবহ এক হামলা চালায় এক বন্দুকধারী। ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ক্ষোভ ছিল তুঙ্গে। কিন্তু মোগাদিসুর হামলার পর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে না কেন?
ভ্যান ভিক্টর নামে এক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘পৃথিবী পক্ষপাতদুষ্ট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই তার প্রমাণ। সোমালিয়ায় ২৭৬ জন মানুষ মারা গেছেন। অথচ, লাস ভেগাস হামলার পর আমরা যে মাত্রায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিলাম, এবার তা দেখাচ্ছি না।’ ইউজিন চো নামে আরেক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আমরা শোকাহত। ২৭৬ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন ৩০০ জন। আমাদের স্বীকার করতে হবে যে, আমাদের অশ্রু যেন পশ্চিমের জন্যই সংরক্ষিত। আমাদের ক্ষমা করুন।’
বৃটিশ টেলিভিশন উপস্থাপিকা স্ট্যাসি ডুলি লিখেছেন, ‘লাস ভেগাসে অর্থহীন হত্যাকা-ের পর আপনি যতটা স্তব্ধ হয়েছিলেন, সোমালিয়ায় অসংখ্য প্রাণহানির ঘটনায়ও আপনার একই মাত্রায় ব্যথিত হওয়া উচিত।’
আবার অন্যান্য দেশে হওয়া হামলার বিপরীতে সোমালিয়ার হামলার ঘটনার মিডিয়ায় স্বল্প কভারেজ পাওয়া নিয়েও কথা উঠেছে। রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও আইনের অধ্যাপক খালেদ বেদোইন লিখেছেন, বৃটেনের ম্যানচেস্টারে সংঘটিত একটি বোমা হামলা মিডিয়া আরও বড় করে প্রচার করেছে। তিনি লিখেছেন, ‘সোমালিয়ায় গতকাল যত মানুষ মারা গেছেন, তার সংখ্যা ম্যানচেস্টারে নিহত মানুষের সংখ্যার চেয়েও দশগুণ। অথচ, ম্যানচেস্টার হামলার চেয়েও সোমালিয়ার হামলা ১০০ গুণ কম কাভারেজ পেয়েছে মিডিয়ায়।’
জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএম’র মুখপাত্র ইতায়ি ভিরিরি প্রশ্ন করেছেন কেন সোমালিয়া হামলা নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া অতটা উত্তপ্ত হয়নি। তিনি বলেন, বিনোদন জগতের তারকারা সাধারণত সন্ত্রাসী হামলা হলেই হতাহতদের জন্য সমর্থন ও সমবেদনা প্রকাশ করেন। কিন্তু সোমালিয়ার ঘটনায় এটি একেবারেই অনুপস্থিত।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী ক্লিন্ট স্মিথ পশ্চিমাদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, ‘একবার কল্পনা করুন যে যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সে আড়াইশরও বেশি মানুষ কোনো এক ট্রাক বোমা হামলায় মারা গেলেন। কী ঘটতো তাহলে?!’
পাকিস্তানি অভিনেতা হামজা আলি আব্বাসি লিখেছেন, ২ শতাধিক মানুষ সোমালিয়ায় বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন। কিন্তু টুইটার ট্রেন্ড বা হেডলাইনে এই খবর আসছে না। এটিই প্রমাণ করে দুনিয়া পরিচালিত হয় ক্ষমতার রাজনীতি দ্বারা, মানবতা দ্বারা নয়।
অনেক ব্যবহারকারীই বলছেন, কোনো হামলার হতাহতরা শ্বেতাঙ্গ হলেই প্রতিক্রিয়া হয় তীব্র। লুকাস আর টুইট করেছেন, আজ হতাহতরা ধন্যাঢ্য শ্বেতাঙ্গ হলে হয়তো আপনি হ্যাশট্যাগ দিয়ে প্রতিবাদ জানানোর কথা ভাবতেন। আরেক ব্যবহারকারী লেক্স লপার বলেন, এটিই সবচেয়ে ভালো উদাহরণ যে শ্বেতাঙ্গরা মারা গেলেই বৈশ্বিক সংহতির ঝড় বয়ে যায়।
(আল জাজিরা অবলম্বনে)

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা