স্টুয়ার্টের ১৯ বছর পর রুট মঈন আলীর নতুন ইতিহাস

23

নিজেদের মাঠ। তবুও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে সর্বশেষ ১৯ বছর মলিন ছিল ইংল্যান্ড। ১৯৯৮ সালে অ্যালেক স্টুয়ার্টের ইংল্যান্ডের কাছে শেষবার সিরিজ হারে প্রোটিয়ারা। এরপর ইংল্যান্ডের মাটিতে তিনটি টেস্ট সিরিজ খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। একবারও সিরিজ জিততে পারেনি স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ২০০৩ সালে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ২-২ এ ড্র হয়। ২০০৮ সালে তিন ম্যাচের সিরিজ হারে ২-১ ব্যবধানে। আর ২০১২ সালে ইংলিশরা হারে ২-০ ব্যবধানে। কিন্তু ১৯ বছর পর নিজেদের মাটিতে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকাকে টেস্টে সিরিজ হারালো ইংল্যান্ড। চার ম্যাচের সিরিজ জিতে নিলো ৩-১ ব্যবধানে। এতে অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সিরিজেই বাজিমাত করলেন জো রুট। এছাড়া ১৯৬০ সালের পর নিজেদের মাটিতে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এক সিরিজে তিন কিংবা তারচেয়ে বেশি টেস্ট জিতলো ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ২০০৭ সালের পর অন্যের মাঠে মাত্র দ্বিতীয় সিরিজ হারলো দক্ষিণ আফ্রিকা। এবারের আগে ২০১৫ সালে ভারতের মাটি থেকে তারা সিরিজ হেরে ফেরে।
ইংল্যান্ডের সিরিজ ও ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্ট জয়ের নায়ক অলরাউন্ডার মঈন আলী। চার টেস্টে ব্যাট হাতে ৩৬ গড়ে করেছেন ২৫২ রান। আর বল হাতে ১৫.৬৪ গড়ে সর্বোচ্চ ২৫ উইকেট গেছে তার ঝুলিতে। চার কিংবা তারচেয়ে কম টেস্টের সিরিজে ইতিহাসে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ২৫০ রান ও ২৫ উইকেট নিলেন মঈন আলী। অবশ্য পাঁচ কিংবা ছয় টেস্টের সিরিজে মঈন আলীর আগে এমন কীর্তি আছে আরও আটজনের। তার আগে সর্বশেষ এমন কীর্তি ভারতের রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট ২১১ রানের জেতার পর দ্বিতীয় টেস্ট ৩৪০ রানে হেরে যায় ইংল্যান্ড। কিন্তু ওভালের তৃতীয় টেস্ট ২৩৯ রানে জিতে সিরিজে এগিয়ে যায় ইংলিশরা। আর ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টেস্ট ১৭৭ রানে জিতে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছেন জো রুটের দলটি।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা যথাক্রমে ৩৬২ ও ২২৬ রান করে। ১৩৬ রানে এগিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৩ রান করে ইংল্যান্ড। এতে জয়ের জন্য শেষ ইনিংসে প্রোটিয়াদের সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ৩৮০ রান। বড় এ লক্ষ্য সামনে নিয়ে সফরকারীরা শেষ ইনিংসে অলআউট হয় ২০২ রানে। জেমস অ্যান্ডারসনের বোলিং তোপ আর মঈন আলীর স্পিন ঘূর্ণির সামনে অসহায় ছিল প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইন। হাশিম আমলা ও ফ্যাফ ডু প্লেসি ছাড়া আর কেউ উইকেটে দাঁড়াতে পারেননি। চতুর্থ উইকেটে তারা সর্বোচ্চ ১২৩ রান যোগ করেন। আমলা সর্বোচ্চ ৮৩ ও ডু প্লেসি করেন ৬১ রান। ৪ উইকেটে ১৭৩ রান তুলে ফেলে তারা। কিন্তু এরপর তারা শেষ ৬ উইকেট হারায় মাত্র ২৯ রান যোগ করে। অ্যান্ডারসন ১৬ রানে ৩ ও মঈন আলী ৬৯ রানে নেন ৫ উইকেট।