স্মৃতির ‘খোঁচা’ থেকে মুক্তি চান সাব্বির

40

টি-টোয়েন্টি ফরমেটে দেশের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন সাব্বির রহমান। এমনকি ওয়ানডে ও টেস্টেও নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ২০১৪ সালে অভিষেকের পর ৩১ টি-টোয়েন্টি ও ৪৩ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন রাজশাহীর ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। ২০১৬ সালে টেস্ট অভিষেক হয় তার। একাদশ সাজাতে গেলে সাব্বিরকে দলে রেখেই চিন্তা করতে হয় প্রধান কোচ ও অধিনায়ককে। শুধু ব্যাটিংই নয়, তার দুর্দান্ত ফিল্ডিং ও লেগ স্পিনটাও যে দলের জন্য দারুণ কার্যকর। শুরুতে ছয়/সাতে ব্যাট করলেও এখন দলের গুরুত্বপূর্ণ তিন নম্বর পজিশনের দায়িত্বটাও তার কাঁধে। কিন্তু আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে তার বিবর্ণ পারফরম্যান্সে তাকে ঘিরে চলেছে আলোচনা-সমালোচনা। কেউ বলছেন সাব্বির তিনের জন্য উপযুক্ত নয়, কেউবা বলেছেন তার ব্যাটিং টেস্টে চলে না, আবার কেউ কেউ তার ফুটওয়ার্ক ও শট সিলেকশন নিয়ে করছেন সমালোচনা। কিন্তু সাব্বির এই সব উড়িয়ে শুধু একটি ম্যাচ খেলার অপেক্ষায়। ম্যাচ খেলেই তিনি ভুলতে চান বাজে পারফরম্যান্সের স্মৃতি। সেটি সামনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট হোক আর দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। তিনি বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচ বলে নয়। আমি আসলে খুব মরিয়া একটা ম্যাচ খেলার জন্য। কারণ আমি শেষ তিন-চার ম্যাচ ভালো খেলতে পারিনি। ওই স্মৃতি আমাকে ভেতরে খোঁচা দেয়। সামনে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি টোয়েন্টি, যে সিরিজই হোক না কেন, সেখানে ভালো খেলে ওই স্মৃতি ভুলতে চাই।’
২০১৪’র ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক সাব্বির রহমানের। এর পর দলের হয়ে ২৮.৮৪ গড়ে করেছেন তিন ফিফটিতে ৭২১ রান। ব্যাট হাতে খেলেছেন সর্বোচ্চ ৮০ রানের ইনিংস। একই বছর নভেম্বরে চট্টগ্রামেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকও হয় তার। এই পর্যন্ত সেঞ্চুরির দেখা না পেলেও ২৬.৭৬ গড়ে করেছেন ৫ ফিফটিতে ভর করে ৯৭১ রান। তার ব্যাট থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ৬৫ রানের একটি ইনিংস। সর্বশেষ টেস্টে খুব একটা খারাপ করেননি সাব্বির। শততম টেস্টে বাংলাদেশের স্মরণীয় জয়ের ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন চার নম্বরে ব্যাট করার। দুই ইনিংসে করেছিলেন ৪২ ও ৪১ রান। সব মিলয়ে ৬ ম্যাচে ৩৩.০০ গড়ে করেছেন ৩৩০ রান। এখানেও তিনি খেলেছেন সর্বোচ্চ অপরাজিত ৬৫ রানের একটি ইনংস। সাব্বিরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে বড় প্রশ্নটাই এখানে। তার ব্যাটে এখন পর্যন্ত বড় কোন ইনিংসই আসেনি।
তবে সাব্বির রহমানের প্রতিভা নিয়ে সংশয় না থাকলেও প্রশ্ন উঠছে তার খেলার ধরন নিয়ে। তার অতিরিক্ত ও বড় শট খেলতে চাওয়ার প্রবণতা নিয়ে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ মারার বলটি বাছাই করতে না পারা নিয়ে। প্রশ্ন আছে তিন নম্বর পজিশনে তার খেলার যোগ্যতা নিয়েও। তবে এই সব প্রশ্নের উত্তর সাব্বির দিতে চান নিজেকে প্রমাণ করে। তিনি বলেন, ‘পজিশন সমস্যা না, সমস্যা হলো রান করতে পারিনি। রান করতে পারলে পাঁচ-ছয়-সাত-দশ, প্রশ্ন উঠত না। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তিন-চারটা ম্যাচে আমি ঠিকমতো খেলতে পারিনি। তার আগে আমার মনে হয় ভালো খেলেছি। তিন-চারটা ম্যাচ দিয়ে একজনকে যাচাই করা যায় না। আমি চেষ্টা করছি কিভাবে এখান থেকে বের হয়ে আসা যায়। কিভাবে ভুল শুধরে উঠা যায়।’
অন্যদিকে সাব্বির এখন নিজের মতো করেই নিজেকে প্রমাণ করতে চান। কারো কথা শুনে নয়। বিশেষ করে দলের বাইরের কারো মন্তব্য শুনে তিনি নিজেকে একচুল পরিবর্তনেও রাজি নন। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটে চাপ এমন একটা ব্যাপার, এটা নিলেই আসতে থাকবে। কে কী বলল গুরুত্বপূর্ণ না। কোচ বা দল আমাকে যেভাবে খেলতে বলবে, আমি সেভাবেই খেলবো। খেলার ধরন বদলাবো না। এখানেই সফল হয়েছি আগে। তিন-চার ম্যাচের ব্যর্থতায় কেন বদলাব? আমি এভাবেই খেলবো।’
এছাড়াও জাতীয় দলের ক্যাম্প চললেও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ বিপিএল নিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে কমবেশি আলোচনা হচ্ছে। কে কোন দলে খেলবেন, কে আইকন আর কে এ গ্রেডের ক্রিকেটার তা নিয়েও আলোচনা কম নয়। কিন্তু সাব্বি জানালেন তার মাথায় এখন বিপিএল নয়, বরং জাতীয় দল। অস্ট্রেলিয়া দল আসছে। তার আগে নিজেকে প্রস্তুত করাই হলো তার কাজ। তিনি বলেন, ‘বিপিএল নিয়ে এখনো ভাবছি না। কন্ডিশনিং ক্যাম্প চলছে সেটাই এখন মাথায় আছে। সামনে জাতীয় দলের খেলা। এর বাইরে কিছু চিন্তা করতে চাই না।’