স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে শিডিউল মিলছে না

32

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময় ছিল চলতি বছরের ১৬ই ডিসেম্বর। এ নিয়ে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু আবহাওয়াজনিত কারণে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে। তাই নির্ধারিত ১৬ই ডিসেম্বর স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হচ্ছে না- এটা এখন নিশ্চিত। কবে হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি স্পেস এ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। ফ্লোরিডার লঞ্চিং স্টেশন থেকে এটি উৎক্ষেপণ করবে স্পেস এক্স। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ভয়াবহ হারিকেনের কারণে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি এবং এর প্রভাব বিবেচনা করে নির্ধারিত শিডিউল পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম গতকাল বলেন, মাত্র দুই বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর, ঋণ গ্রহণ, কোম্পানি গঠন, সেখানে লোক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে স্যাটেলাইটের বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে সক্ষম হয়েছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে স্পেস এক্স আমাদেরটা সহ দুটি স্যাটেলাইট লঞ্চিং পিছিয়ে দিয়েছে। একটি বুলগেরিয়ার আরেকটি কোরিয়ার। আমাদের দিক দিয়ে এর কাজ শেষ। এখন অপেক্ষা করছি উৎক্ষেপণের। একই প্রসঙ্গে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ মানবজমিনকে বলেন, ১৬ই ডিসেম্বরের শিডিউল পরিবর্তনের পর আমরা এখনো কোনো নির্দিষ্ট শিডিউল পাইনি। তবে স্পেস এক্স-এর পক্ষ থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত আনুমানিক সময় দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, এর মধ্যে যেকোনো দিন স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আমরা অপেক্ষা করছি তারা কবে আমাদের শিডিউল দেয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ফ্রান্সের থ্যালাস এলিনিয়া স্পেসের ফ্যাক্টরিতে স্যাটেলাইট নির্মাণের কাজ চলছে। নির্মাণ, পরীক্ষা ও পর্যালোচনা শেষে বিশেষ কার্গো বিমানে যুক্তরাষ্ট্রের লঞ্চ সাইট কেপ কার্নিভালে পাঠানো হবে। উৎক্ষেপণের এক মাস আগে থেকে স্পেস এক্স-এর লঞ্চ ফ্যাসিলিটিতে লঞ্চ ভেহিক্যাল ফ্যালকন-৯ এর ইন্ট্রিগ্রেশনসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শুরু হবে। উৎক্ষেপণের আগে লঞ্চ প্যাডে প্রস্তুতিতে দুই মাস সময় লাগে। তারা জানান, আগে শব্দের কম্পন সহনীয়তা ও শব্দহীনতার পরীক্ষা, ইনিশিয়াল পারফরমেন্স টেস্ট, ফরমাল ভ্যাকুয়াম টেস্ট, ফাইনাল পারফরমেন্স টেস্ট, ফাইনাল প্রিপারেশন টেস্টের পরে সোলার রেট ও অ্যান্টেনা তৈরি করে যুক্ত করা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ বিভাগ জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন স্থাপনের জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায় বিকল্প স্টেশন হিসেবে রাখা আছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এটি একটি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট এবং আলাদাভাবে স্পট থেকে তৈরি হওয়া নিজস্ব স্যাটেলাইট। বাংলাদেশকে সার্ভিস দেয়ার জন্য এতে আলাদাভাবে ২০টি ট্রান্সপন্ডার রাখা হয়েছে। এই স্যাটেলাইটের মেয়াদ ১৫ বছর। স্যাটেলাইটের জন্য অরবিটাল স্পটও কেনা হয়েছে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বছরে ১৪ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। ২০১৫ সালের ২১শে অক্টোবর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে স্যাটেলাইট সিস্টেম কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করে। প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার স্যাটেলাইট সিস্টেম কিনতে ১১ই নভেম্বর থ্যালাসের সঙ্গে বিটিআরসি’র চুক্তি হয়। এদিকে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন সংস্থার (আইটিইউ) ‘রিকগনিশন অফ এক্সিলেন্স’ পুরস্কার পেয়েছে বাংলাদেশের ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ প্রকল্প। থাইল্যান্ডে ‘আইটিইউ টেলিকম ওয়ার্ল্ড-২০১৬’ এ ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আইটিইউ মহাসচিব হাওলিন ঝাও। প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম ওই সময় তার ফেসবুকে জানান, উদ্ভাবনী আইসিটি সেবার স্বীকৃতি হিসেবে আইটিইউ বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্পকে এ পুরস্কার দিয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সূত্র : মানবজমিন অনলাইন পত্রিকা