হজযাত্রা আরো জটিল হচ্ছে

28

যাত্রী সংকটের কারণে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হজযাত্রা দিন দিন জটিল হচ্ছে। অনিশ্চয়তায় পড়তে যাচ্ছেন ১৫ হাজার হজযাত্রী। বাতিল ১৮টি হজফ্লাইটের যাত্রীদের কিভাবে সৌদি আরবে পাঠানো হবে এ নিয়ে চিন্তায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্স। গত বুধবার বাড়তি স্লট চেয়ে সৌদি সিভিল এভিয়েশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বিমান। এখন কবে নাগাদ স্লট বরাদ্দ পাওয়া যায় এটারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ এখন পর্যন্ত স্লট বরাদ্দের ব্যাপারে সৌদি কর্তৃপক্ষ কিছুই জানায়নি। সব মিলিয়ে এবারের হজ পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। গত ২রা আগস্ট বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ভিসা ও অন্যান্য কারণে হজফ্লাইট জটিলতা দু’এক দিনের মধ্যে সমাধান না হলে আরো সমস্যা দাঁড়িয়ে যাবে। মন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর পাঁচ দিন পেরিয়ে গেছে। এখনও যাত্রী সংকটের কারণে হজফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হজফ্লাইট শুরু হওয়ার পর শুক্রবার পর্যন্ত ৩৩ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। তবে এ সময়ে যাত্রী না পাওয়ায় বিমানের ১৪টি এবং সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে ছয় হাজারেরও বেশি যাত্রীর ক্যাপাসিটি লস হয়েছে। সৌদি এরাবিয়ানের লস হয়েছে এক হাজার ৫০০ জন। অন্যদিকে ২০১৫ ও ২০১৬ সালে হজে গেছেন এমন সাত থেকে আট হাজার হজযাত্রী নতুন সমস্যায় পড়েছেন। কারণ নতুন করে ভিসা ফি’র সঙ্গে ২০০০ রিয়াল জমা দিতে হচ্ছে তাদের। সব মিলিয়ে ১৫ হাজার হজযাত্রীকে শেষ দিকে ঝামেলা পোহাতে হতে পারে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জেনারেল ম্যানেজার (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ মানবজমিনকে বলেন, সর্বশেষ বিমানের ৩রা আগস্ট (বিজি-১০৩৭) রাত ১টা ২৫ মিনিটের ফ্লাইটটিতে আমরা যাত্রী পাবো এমন আশায় ছিলাম। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরও যাত্রী না পাওয়ায় ওইদিন রাত ৮টায় ফ্লাইটটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একইভাবে ৫ই আগস্ট রাত ১টা ৩৫ মিনিটের ফ্লাইটটিও বাতিল করা হয়। সব মিলিয়ে শুক্রবার রাতের ফ্লাইটসহ ১৪টি ফ্লাইট বাতিল হলো। একই সঙ্গে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের চারটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তিনি বলেন, এবার বিমানকে মোট ১৪৪টি স্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে যাত্রী না পাওয়ায় ১৪টি স্লট বাতিল হয়েছে। এদিকে দ্বিতীয় দফার হজযাত্রীদের অতিরিক্ত ২০০০ রিয়াল মওকুফ করেনি সৌদি সরকার। এর আগে সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তের পর দেশটির হজ এবং ওমরা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অর্থ মওকুফের আবেদন জানানো হয়। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে অপারগতা প্রকাশ করে। গত বৃহস্পতিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ শাখার সহকারী সচিব এসএম মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, সৌদির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু বাংলাদেশ নয় এই নিয়ম হজ এবং ওমরা পালনকারী সব দেশের হাজীদের জন্য করা হয়েছে। এই অর্থ মওকুফ বা স্থগিত করার কোনো সুযোগ নেই। তাই বাংলাদেশসহ হজ এবং ওমরা পালনকারী সব দেশের প্রত্যেক হাজীকে এই ২০০০ রিয়াল পরিশোধ করতে হবে। এতে বলা হয়, হজযাত্রীদের প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে হজ বিষয়ক কমিটি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বিমান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অতীতে প্রথম ১০ দিনে বিমানের কোনো সিট খালি যায়নি। এবারই প্রথম ১০ দিনেই অনেকে হজে যাননি। এবার ৪৬ হাজার ৭৯২ জনের ভিসা হলেও ইতিমধ্যে সৌদি আরব পৌঁছেছেন ৩৩ হাজার। ২৬শে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমান এবং ২৮শে আগস্ট সৌদি এয়ারলাইন্স যাত্রী নিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার স্লট রয়েছে। তাই বাকি সময়ের মধ্যে সব হজযাত্রী পাঠানো যাবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এদিকে গত ৪ঠা আগস্ট রাতে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ডেডিকেটেড হজফ্লাইট শুরু করেছে বিমান। বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন প্রধান অতিথি হিসেবে বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে ডেডিকেটেড ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বিমান সূত্রে জানা গেছে, এবার চট্টগ্রাম থেকে মোট ১৫টি ডেডিকেটেড ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর মধ্যে ১৩টি চট্টগ্রাম-জেদ্দা ও দু’টি চট্টগ্রাম-মদিনা। অপর দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত হবে চারটি ডেডিকেটেড ফ্লাইট। এর মধ্যে আগামী ৭ ও ৮ই আগস্ট প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম-মদিনা রুটে বিমানের ফ্লাইট দু’টি ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ভিসাসহ নানা সমস্যায় এসব ফ্লাইটের ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তিত বিমান।