হজ ফ্লাইটের শিডিউল লণ্ডভণ্ড

46

ভিসা জটিলতা, মোয়াল্লেম ফি’সহ নানা কারণে ৪০ হাজার যাত্রীর এবার হজযাত্রা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ শঙ্কা আদৌ কাটবে কি না এ নিয়ে চিন্তিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়। ভিসা ফি’র অতিরিক্ত ২০০০ রিয়েল জমা দেয়ার নির্দেশনার কারণে হজ এজেন্সিগুলোও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। কিভাবে হজযাত্রীদের কাছে নতুন করে টাকা চাইবে এ নিয়ে চিন্তিত তারা। এমন অবস্থায় বিমান ও ধর্ম মন্ত্রণালয় এখন মুখোমুখি। একে অপরের ওপর দোষ চাপাতে চাইছে তারা। বিমান মন্ত্রণালয় বলছে, ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হজ এজেন্সিগুলোর জটিলতার কারণে এমন সংকট। জটিলতা কাটাতে গণবিজ্ঞপ্তি দেয়ার কথা ভাবছে ধর্ম মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয় মনে করে, গণবিজ্ঞপ্তি দিলে এজেন্সিগুলোকে অতিরিক্ত ২০০০ রিয়েল আদায়ে সুবিধা হবে। বিজ্ঞপ্তি না দিলে ভিসা সংগ্রহ করতে আরো দেরি হবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ভিসা জটিলতা ও মোয়াল্লেম ফি’সহ নানা কারণে যাত্রীরা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ফলে বাংলাদেশ বিমানে ১৭৭টি ফ্লাইটের মধ্যে ১২টি হজ ফ্লাইট এরই মধ্যে বাতিল হয়েছে। ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কারণে পরের দিকে বিমানে যাত্রী পরিবহনের চাপ বাড়বে। তিনি বলেন, ৮৫ হাজার যাত্রীর পাসপোর্ট এখনও হাতে পায়নি হজ অফিস। টিকিট পেয়েও ভিসা জটিলতায় সাত হাজারের বেশি যাত্রী জেদ্দা যেতে পারেনি। এখন পর্যন্ত ভিসা পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৪ জন। এদিকে হজ নিয়ে শঙ্কার বিষয়টি খোলাসা করতে আজ বেলা পৌনে ১২টায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এতে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান উপস্থিত থাকবেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা খুব সহসা না কাটলে হজ ফ্লাইট পরিচালনায় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। কারণ এভাবে ফ্লাইট বাতিল হতে থাকলে শেষ দিকে যাত্রী পরিবহনে নানা সমস্যা পোহাতে হবে। বিমান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে বাংলাদেশ বিমানের ১৭৭টি ফ্লাইটের মধ্যে ১২টি হজ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বাতিল এসব ফ্লাইটে চার হাজারের বেশি যাত্রী যেতে পারতেন। এছাড়া গতকাল পর্যন্ত ভিসা পেয়েছেন ৪১ হাজার ৭১৪ জন। এর মধ্যে রোববার পর্যন্ত ২৩ হাজার ৭৬২ হজযাত্রী সৌদি আরব গেছেন। ৮৫ হাজার যাত্রীর পাসপোর্ট এখনও হাতে পায়নি হজ অফিস। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার শাকিল মেরাজ মানবজমিনকে বলেন, ভিসা সমস্যার কারণেই হজযাত্রী সংকট তৈরি হয়েছে। এজন্য ২রা আগস্ট পর্যন্ত আমাদের ১২টি ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে হজ করেছেন- এমন যাত্রীদের জন্য হঠাৎ করেই দুই হাজার রিয়েল দাবি করেছে সৌদি আরব দূতাবাস। ভিসা আবেদনের সঙ্গে টাকা প্রদানের রসিদ না দিলে ই-ভিসার আবেদনপত্র গ্রহণ করছে না সৌদি দূতাবাস। হজযাত্রীরা নতুন ফি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। তাদের বক্তব্য, আমরা প্যাকেজ অনুযায়ী এজেন্সিগুলোকে সব টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি। এখন হজ ক্যাম্পে এসে ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছি। হঠাৎ ২০০০ রিয়েল (প্রায় ৪৪ হাজার টাকা) কোথা থেকে আমরা দেব। তারা চাইছে বিষয়টি সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করতে। এজন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে হাব। ভিসা দেরি হওয়ার কারণ সম্পর্কে হাব বলছে, এবার পাসপোর্টের সঙ্গে আলাদা কাগজে ই-ভিসা দিচ্ছে দূতাবাস। এতে সার্ভার জটিলতায় বেশি সময় লাগছে। পাশাপাশি দ্বিতীয়বার হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের বাড়তি দুই হাজার রিয়াল জমা দেয়ার নির্দেশনার কারণেও দেরি হচ্ছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (হজ) মো. হাফিজ উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে যারা হজ করে এসেছেন, তাদের এ বছর হজ ভিসার আবেদনের সঙ্গে ২০০০ রিয়াল পরিশোধ করার কথা এজেন্সিগুলোর কাছ থেকে শুনেছি। তবে সৌদি সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক হজ চুক্তির সময় এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা ছিল না। সৌদি হজ কর্তৃপক্ষ নতুন করে এ সিদ্ধান্ত নেয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সিদ্ধান্তটি তারা শুধু বাংলাদেশি হজযাত্রীদের বিষয়ে নেয়নি। পৃথিবীর সব দেশের জন্যই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর। তাই সৌদির সিদ্ধান্ত মেনেই ভিসা নিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। হজ এজেন্সিগুলো সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিমান ছাড়াও সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একাধিক ফ্লাইট যাত্রীর অভাবে বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এজেন্সি এখনও সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া করতে না পারায় ই-ভিসার আবেদন করতে বিলম্ব হচ্ছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সৌদি দূতাবাস কোন ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়াই যাত্রীপ্রতি (২০১৫ ও ২০১৬ সালে যারা হজ করেছেন) ২ হাজার রিয়েল দাবি করে। এ বছর এ ধরনের হজযাত্রীর সংখ্যা ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার। এছাড়া প্রতি বছর হজ পালন করেন এমন মোয়াল্লেম ও এজেন্সি মালিক আছেন প্রায় দুই হাজার। এর বাইরে কোনো পরিবার বা গ্রুপভিত্তিক হজযাত্রীদের একজন যদি এর আওতায় পড়েন তাহলে পুরো টিমের যাত্রা স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। এর সংখ্যাও ৫ হাজারের বেশি। এছাড়া ৯১ হজ এজেন্সির কাছে ১৮ হাজার হজযাত্রী আছেন। তাদের ভিসা পেতে আরো ১০-১২ দিন সময় লাগবে। সব মিলিয়ে ৪০ হাজার হজযাত্রী শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। এ কারণে এয়ারলাইন্সগুলো সিডিউল অনুযায়ী যাত্রী পাবে না। এতে অনেক ফ্লাইট বাতিল করতে হবে। এদিকে এ বছর বাংলাদেশ থেকে হজে যাচ্ছেন ১ লাখ ২৮ হাজার যাত্রী। ১৫ থেকে ২০ হাজার জনকে পুনরায় হজে যাওয়ার জন্য ২০০০ রিয়েল করে দিতে হবে। ভিসার জন্য বাড়তি এ অর্থ হজ এজেন্সিগুলো দিতে চাইছে না। ফলে হজযাত্রীদের সঙ্গে এজেন্সিগুলোর সমস্যা দেখা দিয়েছে। হাব বলছে, ৪০ হাজার হজযাত্রীর হজযাত্রায় শঙ্কার কথা এখনই বলা যাবে না। কারণ গত বছর বিমানের ২০টি ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। ভিসা হয়ে গেলে হজযাত্রীদের বিভিন্ন ব্যবস্থায় সৌদিতে পাঠাতে সমস্যা হবে না।