হতাশা ভর করেছে গানের বাজারে

38

আশার আলো নেই গানের বাজারে। বরং, তার বদলে হতাশা ভর করেছে সংগীতসংশ্লিষ্টদের মধ্যে। কারণ গত বছর গানের জগতে যে সুবাতাস বইছিল তা এখন নেই বললেই চলে। কাজ কমেছে অর্ধেকেরও কম। গত বছর রেকর্ডসংখ্যক সিঙ্গেল, অ্যালবাম ও ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু চলতি বছর এসে গান প্রকাশের সংখ্যা একদমই কমে গেছে। অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণ অ্যালবামতো দূরের কথা তিন গান নিয়ে ইপি অ্যালবামও প্রকাশ করছে না। বাণিজ্যিক বিবেচনায় কিছু শিল্পীর সিঙ্গেল প্রকাশ করছে কেবল। পাশাপাশি এসব জনপ্রিয় শিল্পীর কিছু ভিডিও প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে অডিও ইন্ডাস্ট্রির কার্যক্রম। এ অবস্থা চলছে বছরের প্রথম থেকেই। ভালোবাসা দিবস থেকে শুরু করে পহেলা বৈশাখ কিংবা ঈদেও কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। এ অবস্থায় অনেক সিনিয়র শিল্পীর পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরাও নতুন গান প্রকাশ থেকে দূরে রয়েছেন। অন্যদিকে গেল কোরবানির ঈদের গানের বাজার ছিল আরো বেশি হতাশায় ঘেরা। কারণ, হাতে গোনা কয়েকটি মিউজিক ভিডিওর বাইরে কোনো গানই তেমন আলোচনায় আসেনি। তাহসানের একক অ্যালবাম ‘অভিমান আমার’ ছিল একমাত্র পূর্ণ অ্যালবাম। এটি জিপি মিউজিক থেকে প্রকাশ হয়। এদিকে গেল ঈদে হাতে গোনা কয়েকটি গান আলোচনায় ছিল। এর মধ্যে আসিফ আকবরের ‘সাদা আর লাল’, তাহসানের ‘বুড়ো শালিক’, ইমরানের ‘তোর এক ইশারায়’ ও ‘ঠিক বেঠিক’, আরফিন রুমি-পড়শীর ‘সত্যি করে বল’ এবং ইলিয়াস হোসেনের ‘না বলা কথা-৪’। প্রসঙ্গত গেল ঈদে সংগীতা, সাউন্ডটেক, লেজারভিশন, জি-সিরিজ, সিডি চয়েজ, ঈগল মিউজিক, সিএমভি, মাই সাউন্ড, সুরঞ্জলিসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান একেবারেই অল্পসংখ্যক গান প্রকাশ করেছে। এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর তরফ থেকে জানা গেছে, ব্যবসা নেই। ওয়েলকাম টিউনের অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৮০ ভাগ আয় কমেছে এখান থেকে। সব মিলিয়ে নতুন গানে বিনিয়োগ করতে নারাজ এ প্রতিষ্ঠানগুলো। আর করলেও হাতে গোনা কিছু জনপ্রিয় শিল্পীর সিঙ্গেল প্রকাশ করছে তারা। সব মিলিয়ে গানের বাজারের অবস্থা এই মুহূর্তে বেশ নাজুক। এ বিষয়ে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ফাহমিদা নবী বলেন, আসলে হতাশাজনক অবস্থাতো কারোই কাম্য না। আমরাতো শিল্পী। ব্যবসা কিভাবে হচ্ছে না হচ্ছে সেটা নিয়েতো আমরা ভাবি না। সেটা নিয়ে ভাবার কথাও নয় আমাদের। তারপরও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো যা বলছে তাই মানতে হচ্ছে। আর আমার কথা হলো গান যদি নাই চলে তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে আছে কি করে! পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো আবার ফিরছে কেন? আর যদি কোনো সমস্যা থেকেই থাকে কোম্পানি, শিল্পী ও সংগীতসংশ্লিষ্টরা একসঙ্গে মিলে সেটা সমাধানের পথ খোঁজা দরকার। এ বিষয়ে লেজারভিশনের চেয়ারম্যান এ কে এম আরিফুর রহমান বলেন, আসলে গত বছর অবস্থাটা ভালোই ছিল। অনেক কষ্টে আমরা গত বছর অবস্থার উন্নতি করেছিলাম। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ওয়েলকাম টিউনের নতুন নিয়মের ফলে এখান থেকে আমরা প্রচুর
গ্রাহক হারাই। যার ফলে ওয়েলকাম টিউন থেকে তেমন কোনো আয় আসছে না। এছাড়াও গত বছর শেয়ার বাজারের মতো করেই বিনিয়োগ হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিতে। এক লাফে অনেকে আকাশ ছুঁতে চেয়েছেন। শিল্পীদের পারিশ্রমিক দিয়েছেন তিন থেকে চারগুণ। আর এখন তারাই ন্যূনতম বিনিয়োগ করার সাহস পাচ্ছে না। তবে আমরা যে ধারায় গান প্রকাশ করে আসছি, সেটা বজায় রাখার চেষ্টা করছি। আমার মনে হয় সবাই মিলে বসে এর একটা সমাধান বের করা সম্ভব।