হারের হ্যাটট্রিক বাংলাদেশের

28

ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচে ১৪ গোল হজম করে বাংলাদেশ। তবে জাপানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে হারলেও ব্যবধান খুব একটা বড় হয়নি স্বাগতিকদের। হেরেছে ৩-১ গোলে। ম্যাচের ৫৮ মিনিট পর্যন্ত ১-১ গোলে সমতা ধরে রাখে বাংলাদেশ। এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিলো জাপানকে রুখে দিবে স্বাগতিকরা। তবে শেষ দুই মিনিটে এক ঝড়ে বাংলাদেশের ডিফেন্স লণ্ডভণ্ড করে দুটি গোল আদায় করে নেয় জাপান। এই হারে গ্রুপে চতুর্থ হলো বাংলাদেশ। আগামী বৃহস্পতিবার টুর্নামেন্টের স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চীনের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা।
পাকিস্তানের সঙ্গে সাত গোলে হারের পর ভারতের বিপক্ষে একই ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ভারতের সঙ্গে বড় ব্যবধানে হারলেও ওই ম্যাচে শিষ্যদের পারফরম্যান্সে উন্নতি চোখে পড়েছিল মাহবুব হারুনের। তবে গ্রুপের শেষ ম্যাচে জাপানের কাছে ৩-১ গোলে হারের পর তার সেই তৃপ্তি রূপ নিয়েছে ক্ষোভে। আমরা ম্যাচটা জিততে পারতাম। এমন টার্গেট নিয়েই নেমেছিল। ১-১এ সমতার পর তৃতীয় কোয়ার্টারে আমাদের লক্ষ্য ছিলো ব্যবধান বাড়িয়ে নেয়ার। সুযোগও তৈরি করেছিলাম কয়েকটি। কিন্তু ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় সেটা সম্ভব হয়নি। উল্টো শেষ তিন মিনিটে দুই গোল হজম করে ম্যাচ হেরেছি। এটা আমাদের জন্য হতাশার’-বলেন তিনি। এবারের এশিয়া কাপে গোল নয়, একটি পেনাল্টি কর্নারই যেন সোনার হরিণ হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য। প্রথম দুই ম্যাচে পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে পেনাল্টি কর্নারের মুখ দেখেনি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। অবশেষে তৃতীয় ম্যাচে এসে পেনাল্টি কর্নার দেখলো বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে প্রথম গোলও এলো প্রথম পাওয়া পেনাল্টি কর্নার থেকে। ২৮ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে মামুনুর রহমান চয়নের গোলে জাপানের বিপক্ষে ১-১ গোলে প্রথমার্ধ শেষ করেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচে জাপান ৯টি পেনাল্টি কর্নার ও একটি পেনাল্টি স্ট্রোক পেলেও তার কোনোটি কাজে লাগাতে পারেনি। ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ গোলরক্ষক অসীম গোপ বক্সে বিপজ্জনক ফাউল করলে পেনাল্টি স্ট্রোক পায় জাপান। কিন্তু সেই গোলরক্ষক অসীম গোপই রুখে দেন ইয়ামাদা শোতার হিট।
গতকাল দুর্দান্ত ছিলেন বাংলাদেশের গোলবারের এ অতন্দ্রপ্রহরী। জাপানিদের সামনে ‘চীনের প্রাচীর’ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ফলে তৃতীয়াংশেও কোনো গোল আদায় করতে পারেনি সফরকারীরা। তবে শেষ কোয়ার্টারের শেষ বাঁশি বেজে উঠার এক মিনিট আগে বাংলাদেশকে হতাশ করে ম্যাচ নিজেদের করে নেন তানাকা কেনতা (২-১)। সার্কেলের ভেতর থেকে তার নেয়া শট রুখতে ব্যর্থ হন অসীম গোপ। এ গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। আর ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ সেকেন্ড আগে লাল-সবুজদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুঁকে দেন সেই তানাকা কেনতা (৩-১)। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই স্বস্তিতে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তানকে রুখে দেয়া জাপান।