হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই

31

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট নিয়ে তেমন কোনো আশা ছিল না। তবে কিছুটা হলেও আশা ছিল ওয়ানডে ফরমেটে। ঘুড়ে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার স্বপ্ন দেখানো নেতৃত্বে। ২০১৫ থেকে তার নেতৃত্বে দেশে ও দেশের বাইরে দারুণ কিছু সফলতাই ছিল এ স্বপ্নের কারণ। দক্ষিণ আফ্রিকাকেও হারিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রোটিয়াদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ১০ উইকেট ও দ্বিতীয়টিতে ১০৪ রানে হেরে সেই স্বপ্ন ভেঙে চুড়মার।

সিরিজতো হারিয়েছে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই। এবার আরো একটি হোয়াইটওয়াশের সামনে দাঁড়িয়ে দল। আজ শেষ সুযোগ অন্তত একটি জয় নিয়ে মান বাঁচানোর। দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পার্ক স্টেডিয়ামের দিকে তাকিয়ে থাকবে এ দেশের ক্রিকেট পাগল ভক্তরা। মাশরাফি কি পারবেন তার মাইলফলকের ম্যাচে দলকে জয়ে ফেরাতে? মাইলফলকের ম্যাচে সতীর্থরা উজার করে দেয়ার চেষ্টা করবেন বলেই বিশ্বাস। দলের সভায় মাশরাফি নিশ্চয়ই সতীর্থদের বলেছেন তার ইজ্জতটা যেন অন্ততঃ থাকে।
বাংলাদেশ দল এ পর্যন্ত ৬৭ ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে। এর মধ্যে জয় ২১, হার ৪১ ও ড্র ৪টিতে। ৪১ হারের মধ্যে ২৮ সিরিজে তারা হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। এর মধ্যে দেশের বাইরে ১৫ বার। ইনজুরির কারণে সফর থেকে ছিঁটকে পড়েছেন তামিম ইকবাল। তার পরিবর্তে তাই দলের ওপেনিংয়ে এখন ভরসা ইমরুল কায়েস ও অফ ফর্মে থাকা সৌম্য সরকার। অবশ্য লিটন কুমার দাসকেও ওপেন করতে দেখা যেতে পারে। কিন্তু দুই ওয়ানডেতে যথাক্রমে ১৪ ও ২১ রানের অবদান রাখতে পেরেছেন লিটন। শেষ ওয়ানডেতে সৌম্য সরকারকে ফেরানোর বেশ কারণও আছে। কারণ টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিংয়ে তামিমের বদলে সৌম্যই হবেন বড় ভরসা। একমাত্র মুশফিক ছাড়া ওয়ানডে ফর্মেটে আর কোনো ব্যাটসম্যান নিজেকে দুই ম্যাচে মেলে ধরতে পারেননি। শুধু ওপেনিংয়ে নিয়মিত ব্যর্থতা কাটিয়ে ইমরুল কায়েস গত ম্যাচে ৬৮ রানের একটি ইনিংস খেলেছে, কিন্তু তার ধারাবাহিকতা নিয়ে আশাবাদী হওয়া কঠিন। অভিজ্ঞদের মধ্যে দলের সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের অবস্থা আরো নিষ্প্রভ। দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে ৩৪ রান ও দুই উইকেট নিতে পেরেছেন তিনি। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান ও নাসির হোসেনরাও দলের প্রত্যাশা পুরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
দলের বোলিংয়ের অবস্থাতো আরো শোচনীয়। প্রথম ওয়ানডেতে আমলা ও ডি ককের ব্যাটের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করেন তাসকিন আহমেদ, মাশরাফি ও সাইফউদ্দিনরা। দ্বিতীয়টিতে সাকিব ও রুবেল কিছুটা জ্বলে উঠতে সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। তাদের থোরাই কেয়ার করে ডি ভিলিয়ার্সের ১৭৬ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৩৫৩ রান তুলেছিল প্রোটিয়ারা। দৈন্যতার কমতি নেই মাশরাফিদের ফিল্ডিংয়েও। প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা দু’একটা ক্যাচ তুলে দিলেও সেগুলো আবার লুফে নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা। যার বড় খেসারত দিতে হয়েছে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে। সেই ম্যাচে ঝড় তোলা ভিলিয়ার্সকে দুইবার জীবন দেন টাইগার ফিল্ডাররা।
প্রথম দুই ওয়ানডের ভেন্যু কিম্বার্লি ও পার্ল দুটিতে কখনো টেস্ট খেলা হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার খুব পরিচত মাঠও ছিল না সেই দুটি। সেই তুলনাতে ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পর্কের উইকেট ও মাঠ নিয়ে কিছুটা হলেও ধারণা আছে দলের। এ মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা ২০১৫ তে শেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। উইকেট অনেকটাই স্লো। তাই আগে ব্যাট করার সুযোগ পেলে এখানে সুবিধা করতে পারবে ব্যাটসম্যানরা। অবশ্য এবার টসটা যে কে জিতবে বলা মুশফিল। এবারের সিরিজে বাংলাদেশ সব ম্যাচ হারলেও টস জিতেছে প্রতিবারই। আর টেস্ট সিরিজেতো পারফরমেন্স ছাপিয়ে আলোচনা বেশি হয়েছে টস জিতে ফিল্ডিং নেয়ায়। এ মাঠে প্রোটিয়ারা এ পর্যন্ত ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৩ ওয়ানডে খেলে জয় পেয়েছে ১৩টিতে।