১৭ কেজি’র টিউমার নিয়ে ভিক্ষার টাকায় দিন চালান নকলার ষাটোর্ধ মান্নান

54

শফিউল আলম লাভলু :
হাঁটুতে প্রায় ১৭ কেজি ওজনের টিউমার আকৃতির মাংসপিন্ড নিয়ে ভিক্ষার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন শেরপুরের নকলার আব্দুল মান্নান। ষাটোর্ধ এই বৃদ্ধের বাড়ী নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের বালিয়াদী গ্রামে। সেই গ্রামেরই মৃত হুরমুজ আলীর ছেলে তিনি। হাঁটুতে এতবড় মাংসপিন্ড নিয়ে কাজ করার ক্ষমতা নেই তার। ফলে দুই ছেলেসহ ৪ জনের পরিবারের ভরণপোষণ সবই চলে ভিক্ষার টাকায়।
মাত্র ১২ বছরের বয়সে আব্দুল মান্নানের হাঁটুর উপরে টিউমার আকৃতির মাংসপিন্ডটি দেখা যায়। এর চিকিৎসা করাতে গিয়ে তার ১০ শতাংশ কৃষি জমি বিক্রি করতে হয়। চিকিৎসার পর মোটামুটি সুস্থ হয়ে উঠেন তিনি। এ অবস্থায় মৌসুমী কাজকর্ম করে দিন ভালোই চলছিল তার। কিন্তু কয়েক বছর পরেই তার সারা শরীরে টিউমারের মতো অসংখ্য গুটি দেখা দেয়। সাথে বাম হাঁটুর উপর টিউমার আকৃতির মাংসপিন্ডটি বড় হতে থাকে। মাংসপিন্ডের দ্রুত বৃদ্ধির ফলে মান্নান কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। তারপর থেকে চলছে ভিক্ষাবৃত্তি। সংসারে আর কেউ উপার্জনক্ষম না থাকায় তার বাধ্য হয়েই মানুষের কাছে হাত পাততে হচ্ছে।
এই প্রতিনিধিকে আক্ষেপ করে মান্নান বলেন, ‘সমাজ সেবা থাইকা প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া আর কোন সাহায্য সহযোগিতা পাই না। আপনেরা আমারে একটা হুইল চেয়াররের ব্যবসস্থা কইরা দেন। এক জাগাত থাইকা আরেক জায়গায় ভিক্ষা করতে রিক্সা দিয়া যাওন লাগে, অতে রিক্সা ভাড়াতেই সব টেকা চইলা যায়।’
আব্দুল মান্নানের দুই ছেলে চন্দ্রকোনার কৈয়াকুড়ী উচ্চবিদ্যালয়ের নবম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। ঘরে স্ত্রীও অসুস্থ। আগে যাও স্ত্রী কিছুটা কাজকর্ম করে স্বামীকে সাহায্য করতো কিন্তু এখন অসুস্থ হওয়ায় কিছুই করা সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব কুমার সরকার জানান, জানামতে উনার সমাজসেবা দপ্তরের একটি প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড রয়েছে। তারপরেও তার ছেলেদের পড়াশোনার ব্যবস্থা এবং হুইল চেয়ার প্রদানের ব্যাপারে আমি আমার সাধ্যমত করবো।
এ ব্যাপারে কথা হলে শেরপুরের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানের জন্য হুইল চেয়ার প্রদানের আশ^াস দিয়ে তাকে আবেদন করতে বলেন।
-সম্পাদিত